
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান পটুয়াখালী:
দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী কর্মকাণ্ড এবং অনৈতিক কার্যকলাপে জড়িত থাকার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলার রতনদী তালতলী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হায়দার শরীফকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। তাকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।
সোমবার (১ জুন) গলাচিপা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আলহাজ্ব গোলাম মোস্তফা এবং সদস্য সচিব আলতাফ খান এর যৌথ সিদ্ধান্তে এই শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।সদস্য সচিব আলতাফ খান স্বাক্ষরিত এক প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়েছে।
স্থানীয় ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, রতনদী তালতলী ইউনিয়ন পরিষদ থেকে সরকারি বরাদ্দের ১০ বস্তা চাল অবৈধভাবে বিক্রি করে বিকাশে টাকা চাওয়ার অভিযোগ ওঠে হায়দার শরীফের বিরুদ্ধে। চাল বিক্রি করে টাকা তার নিজের ব্যক্তিগত বিকাশ অ্যাকাউন্টে পাঠানোর জন্য তিনি ইউনিয়ন পরিষদের সচিব গোলাম মাওলা শুভকে ফোনে নির্দেশ দেন।
পরবর্তীতে এই ফোনালাপের বিষয়টি ফাঁস হয়ে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। সরকারি চাল আত্মসাৎ ও অনৈতিক লেনদেনের এই ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে স্থানীয় প্রশাসন ও রাজনৈতিক মহলে তীব্র চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। এতে দলের ভাবমূর্তি চরমভাবে ক্ষুণ্ণ হয় বলে মনে করছেন স্থানীয় নেতাকর্মীরা।
বিষয়টি উপজেলা বিএনপির নজরে আসলে উদ্ভূত পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে তাৎক্ষণিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। দলীয় শৃঙ্খলা ও আদর্শের ব্যাপারে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি বজায় রেখে উপজেলা বিএনপির শীর্ষ দুই নেতা যৌথ বৈঠকের মাধ্যমে হায়দার শরীফকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত নেন।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়: “দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ, দলের নীতি ও আদর্শ পরিপন্থী এবং অনৈতিক কার্যকলাপে সুস্পষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় রতনদী তালতলী ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক হায়দার শরীফকে দলের প্রাথমিক সদস্য পদসহ সকল পর্যায়ের দলীয় পদ হইতে অব্যাহতি প্রদান করা হলো।”
স্থানীয় ও রাজনৈতিক প্রতিক্রিয়া: এই বহিষ্কারের পর গলাচিপা উপজেলা ও ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ নেতা-কর্মীদের মাঝে স্বস্তি ফিরে এসেছে। স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অপরাধ ও অনৈতিক কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে রাজনৈতিক দলগুলোর এমন তাৎক্ষণিক ও কঠোর সাংগঠনিক পদক্ষেপ সমাজ ও রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দেয়। সরকারি সম্পদ রক্ষায় এবং দলের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে এই সিদ্ধান্ত একটি দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে।
Reporter Name 









