ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬, ১৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কালীগঞ্জ সরকারি মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ দুদকের মামলার তথ্য গোপন করে তিন শিক্ষকের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
  • ১৪ Time View
Print

মোঃ শাকিল রেজা খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ

দুদকের চলমান ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের তিন শিক্ষকের রাজস্ব খাতে (সরকারি) অন্তর্ভুক্তি পাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও শিক্ষা অধিদপ্তরকে অন্ধকারে রেখে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষের যোগসাজশে এই জালিয়াতি করা হয়েছে মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

দাখিলকৃত ওই আবেদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিসূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত (নন-ক্যাডার) মোঃ আব্দুল মজিদ মন্ডল, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক (নন-ক্যাডার) মনোজ কান্তি বিশ্বাস এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক (নন-ক্যাডার) রকিবুল ইসলাম মিল্টন।

লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজটি সরকারিকরণ হওয়ার পর গত ১৪ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক স্মারকের আলোকে এই তিন শিক্ষককে রাজস্ব খাতে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হয়। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম জালিয়াতি ও তথ্য গোপনের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি পিটিশন মামলা [নং (ঝিনাইদহ) ১/২০২৪, ধারা: ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা] চলমান রয়েছে।

এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার খাতা চুরির গুরুতর অভিযোগে উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মজিদ মন্ডল ও প্রভাষক মোঃ রকিবুল ইসলাম মিল্টনের বিরুদ্ধে প্রথমে সিআর মামলা হয়। পরবর্তীতে সিআইডি তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর, কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলাটি দায়ের করেন। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান বিষয়টি তদন্ত করে চার্জসীট দাখিলের অনুমতির জন্য দুদকের ঢাকা অফিসে পাঠিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাটি বর্তমানে বিজ্ঞ বিশেষ দায়রা জজ আদালত, ঝিনাইদহে চলমান রয়েছে এবং গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখেও মামলার ধার্য তারিখ ছিল। এমতাবস্থায়, মামলাটি প্রত্যাহার হয়েছে মর্মে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈ অসৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষকদের সাথে যোগসাজশ করেন বলে অভিযোগ। অধ্যক্ষ দুদকের মতামত বা কোনো ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-তে তাদের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন পাঠান। মাউশি অধিদপ্তরও কোনো প্রকার ক্রস-চেক বা দুদকের মতামত না নিয়ে তড়িঘড়ি করে তাদের রাজস্ব খাতে নিয়োগ প্রদান করে।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, খাতা চুরি মামলার অন্যতম প্রধান আসামি প্রভাষক রকিবুল ইসলাম মিল্টনকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে ২০২৬ সালের অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার আহ্বায়কের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন বর্তমান অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈ।

একটি ফৌজদারি মামলার আসামিকে এমন সংবেদনশীল দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে স্থানীয় শিক্ষা মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া খাতা চুরির মতো এত বড় অপরাধের ঘটনা ঘটলেও গত সাত বছরেও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো বিভাগীয় তদন্ত কেন করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কলেজের অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈকে একাধিকবার ফোন করে না পেয়ে কলেজে গিয়ে সন্ধান করা হয়। কিন্তু কলেজ থেকে জানানো হয় তিনি রংপুর শহরে থাকেন। যোগদানের পর মাত্র দুইদিন অফিস করেছেন। শিক্ষা ক্যাডারে কালো বিড়াল হিসেবে পরিচিত অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈ যোগদানের পর কলেজ ফান্ডের প্রায় ৫৬ লাখ টাকা তছরুপ করেছে। তিনি ৫ আগষ্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে দাড়িয়ে ওএসডি হন এবং ঝিনাইদহ কেসি কলেজে বদলী হয়ে আসেন। মাউশিতে এখনো ফ্যাসিবাদী শক্তি সক্রিয় থাকায় দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈ সহজে সব কিছু হজম করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

সিআইডির তদন্তে প্রমানিত খাতা চুরি মামলার প্রধান আসামি প্রভাষক রকিবুল ইসলাম মিল্টন জানান, তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি সাবেক অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কিন্তু আদালত সুত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি মামলা দাখিল হলে তা আর প্রত্যাহার হয় না।

দুদক ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালায়ের ডিডি তরুণ কুমার ঘোষ জানান, বিষয়টি খুবই গুরুতর। মামলা চলমান বা চার্জসীট হলে তথ্য গোপনের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দুদকের সামনের মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুমতি চাওয়া হবে। প্রয়োজনে মাউশিতেও চিঠি দেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

গোমস্তাপুরে মহান সান্তাল হুল  ১৭১ তম বর্ষপূতি উদযাপন দিবসে তীর নিক্ষেপ প্রতিযোগিতা, পদযাত্রা, আলোচনা সভা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান  

কালীগঞ্জ সরকারি মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ দুদকের মামলার তথ্য গোপন করে তিন শিক্ষকের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ

Update Time : ১০:২৭:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬
Print

মোঃ শাকিল রেজা খুলনা বিভাগীয় ব্যুরো প্রধানঃ

দুদকের চলমান ফৌজদারি মামলার তথ্য গোপন করে এবং জালিয়াতির আশ্রয় নিয়ে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ সরকারি মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজের তিন শিক্ষকের রাজস্ব খাতে (সরকারি) অন্তর্ভুক্তি পাওয়ার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) ও শিক্ষা অধিদপ্তরকে অন্ধকারে রেখে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষের যোগসাজশে এই জালিয়াতি করা হয়েছে মর্মে দুর্নীতি দমন কমিশনের উপপরিচালক বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

দাখিলকৃত ওই আবেদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট নথিসূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত শিক্ষকরা হলেন কলেজের উপাধ্যক্ষ অবসরপ্রাপ্ত (নন-ক্যাডার) মোঃ আব্দুল মজিদ মন্ডল, ইংরেজি বিভাগের সহকারী অধ্যাপক (নন-ক্যাডার) মনোজ কান্তি বিশ্বাস এবং ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক (নন-ক্যাডার) রকিবুল ইসলাম মিল্টন।

লিখিত অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, কালীগঞ্জ মাহাতাব উদ্দিন ডিগ্রি কলেজটি সরকারিকরণ হওয়ার পর গত ১৪ জানুয়ারি মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা বিভাগের এক স্মারকের আলোকে এই তিন শিক্ষককে রাজস্ব খাতে অস্থায়ী ভিত্তিতে নিয়োগ প্রদান করা হয়। তবে এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় চরম জালিয়াতি ও তথ্য গোপনের আশ্রয় নেওয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ওই তিন শিক্ষকের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনে একটি পিটিশন মামলা [নং (ঝিনাইদহ) ১/২০২৪, ধারা: ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১/১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা] চলমান রয়েছে।

এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার খাতা চুরির গুরুতর অভিযোগে উপাধ্যক্ষ মোঃ আব্দুল মজিদ মন্ডল ও প্রভাষক মোঃ রকিবুল ইসলাম মিল্টনের বিরুদ্ধে প্রথমে সিআর মামলা হয়। পরবর্তীতে সিআইডি তদন্তে ঘটনার সত্যতা প্রমাণিত হওয়ার পর, কলেজের তৎকালীন অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান দুর্নীতি দমন কমিশনে মামলাটি দায়ের করেন। দুদক সমন্বিত জেলা কার্যালয় ঝিনাইদহের সহকারী পরিচালক সাইদুর রহমান বিষয়টি তদন্ত করে চার্জসীট দাখিলের অনুমতির জন্য দুদকের ঢাকা অফিসে পাঠিয়েছেন।

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে, মামলাটি বর্তমানে বিজ্ঞ বিশেষ দায়রা জজ আদালত, ঝিনাইদহে চলমান রয়েছে এবং গত ২৭ জুন ২০২৬ তারিখেও মামলার ধার্য তারিখ ছিল। এমতাবস্থায়, মামলাটি প্রত্যাহার হয়েছে মর্মে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন তথ্য ছড়িয়ে কলেজের বর্তমান অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈ অসৎ উদ্দেশ্যে শিক্ষকদের সাথে যোগসাজশ করেন বলে অভিযোগ। অধ্যক্ষ দুদকের মতামত বা কোনো ক্লিয়ারেন্স ছাড়াই মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর (মাউশি)-তে তাদের রাজস্ব খাতে অন্তর্ভুক্তির জন্য আবেদন পাঠান। মাউশি অধিদপ্তরও কোনো প্রকার ক্রস-চেক বা দুদকের মতামত না নিয়ে তড়িঘড়ি করে তাদের রাজস্ব খাতে নিয়োগ প্রদান করে।
আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য হলো, খাতা চুরি মামলার অন্যতম প্রধান আসামি প্রভাষক রকিবুল ইসলাম মিল্টনকে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের নিয়ম নীতি তোয়াক্কা না করে ২০২৬ সালের অনুষ্ঠিতব্য এইচএসসি (ভোকেশনাল) পরীক্ষার আহ্বায়কের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব দিয়েছেন বর্তমান অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈ।

একটি ফৌজদারি মামলার আসামিকে এমন সংবেদনশীল দায়িত্ব দেওয়া নিয়ে স্থানীয় শিক্ষা মহলে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া খাতা চুরির মতো এত বড় অপরাধের ঘটনা ঘটলেও গত সাত বছরেও কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের পক্ষ থেকে কোনো বিভাগীয় তদন্ত কেন করা হয়নি, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য কলেজের অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈকে একাধিকবার ফোন করে না পেয়ে কলেজে গিয়ে সন্ধান করা হয়। কিন্তু কলেজ থেকে জানানো হয় তিনি রংপুর শহরে থাকেন। যোগদানের পর মাত্র দুইদিন অফিস করেছেন। শিক্ষা ক্যাডারে কালো বিড়াল হিসেবে পরিচিত অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈ যোগদানের পর কলেজ ফান্ডের প্রায় ৫৬ লাখ টাকা তছরুপ করেছে। তিনি ৫ আগষ্টে বৈষম্য বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিপক্ষে দাড়িয়ে ওএসডি হন এবং ঝিনাইদহ কেসি কলেজে বদলী হয়ে আসেন। মাউশিতে এখনো ফ্যাসিবাদী শক্তি সক্রিয় থাকায় দুর্নীতিবাজ অধ্যক্ষ চিন্ময় বাড়ৈ সহজে সব কিছু হজম করে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ।

সিআইডির তদন্তে প্রমানিত খাতা চুরি মামলার প্রধান আসামি প্রভাষক রকিবুল ইসলাম মিল্টন জানান, তার বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলাটি সাবেক অধ্যক্ষ ড. মাহবুবুর রহমান প্রত্যাহার করে নিয়েছেন। কিন্তু আদালত সুত্রে জানা গেছে, দুর্নীতি মামলা দাখিল হলে তা আর প্রত্যাহার হয় না।

দুদক ঝিনাইদহ সমন্বিত জেলা কার্যালায়ের ডিডি তরুণ কুমার ঘোষ জানান, বিষয়টি খুবই গুরুতর। মামলা চলমান বা চার্জসীট হলে তথ্য গোপনের সুযোগ নেই। তিনি বলেন, দুদকের সামনের মিটিংয়ে বিষয়টি উত্থাপন করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য অনুমতি চাওয়া হবে। প্রয়োজনে মাউশিতেও চিঠি দেওয়া হবে।