ফরহাদ রহমান
স্টাফ রিপোর্টার কক্সবাজার
কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলায় প্রান্তিক কৃষকদের মাঝে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রমের উদ্বোধন করেছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ। বাংলা নববর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত এ কর্মসূচি ঘিরে পুরো এলাকায় উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল ২০২৬) দিনের শুরুতেই স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টেকনাফ স্থলবন্দর পরিদর্শন করেন। এসময় তিনি বন্দরের সার্বিক কার্যক্রম, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, অবকাঠামো এবং আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম ঘুরে দেখেন। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে মতবিনিময় করে তিনি বন্দরের কার্যক্রম আরও গতিশীল, স্বচ্ছ ও নিরাপদ করতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
তিনি বলেন, “দেশের অর্থনীতিতে স্থলবন্দরগুলোর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। এগুলোর সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে হবে।”
পরিদর্শনকালে সিআইপি উমর ফারুকসহ বন্দর সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
পরবর্তীতে টেকনাফের এজাহার সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে আয়োজিত কৃষক সমাবেশে যোগ দেন তিনি। সেখানে আনুষ্ঠানিকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচির উদ্বোধন করে কৃষকদের হাতে প্রতীকীভাবে কার্ড তুলে দেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক আব্দুল মান্নান। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উখিয়া-টেকনাফ (কক্সবাজার-৪) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী। এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজার-৩ (সদর-রামু-ঈদগাঁও) আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল এবং কক্সবাজার-২ (মহেশখালী-কুতুবদিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আলমগীর ফরিদ মাহফুজুল্লাহ।
আরও উপস্থিত ছিলেন কক্সবাজারের পুলিশ সুপার এ.এন.এম সাজেদুর রহমান, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর চট্টগ্রামের অতিরিক্ত পরিচালক মোহাম্মদ আলী জিন্নাহসহ প্রশাসনের বিভিন্ন দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
এছাড়াও টেকনাফ উপজেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট হাসান সিদ্দিকী, সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন, উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক মোহাম্মদ কাইয়ুম এবং পৌর বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি এনামুল হক এনামসহ স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা অংশ নেন। এসময় ডিজিএফআই, এনএসআইসহ বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া টেকনাফ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম, ওসি (অপারেশন) মোহাম্মদ কামাল চৌধুরী এবং ওসি (তদন্ত) সুকান্ত চৌধুরী উপস্থিত ছিলেন। পাশাপাশি র্যাবের কোম্পানি কমান্ডার (সিও), কোস্টগার্ড স্টেশন কমান্ডার, নৌবাহিনীর কর্মকর্তা এবং বিজিবির সিও উপস্থিত ছিলেন।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইমামুল হাফিজ নাদিমসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন:
“টেকনাফ শুধু একটি সীমান্ত এলাকা নয়, এটি দেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই অঞ্চলে মাদক, মানবপাচার, অপহরণ ও সন্ত্রাসের যে চক্র গড়ে উঠেছে—তা কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না।
আমি স্পষ্টভাবে বলতে চাই—আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নয়। মাদক ব্যবসায়ী, মানবপাচারকারী, সন্ত্রাসী ও অপহরণকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে। তাদের শিকড় উপড়ে ফেলা হবে।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে কঠোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে—টেকনাফের প্রতিটি এলাকা নজরদারির আওতায় আনতে হবে। সীমান্তপথে অপরাধ বন্ধে বিজিবি, কোস্টগার্ড, র্যাব, পুলিশ ও নৌবাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ করবে।
একই সঙ্গে আমরা উন্নয়ন ও নিরাপত্তা—এই দুই বিষয়কে সমান গুরুত্ব দিচ্ছি। কৃষক কার্ডের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়ন হবে, আর কঠোর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে অপরাধ দমন করা হবে।
টেকনাফকে আমরা একটি নিরাপদ, সমৃদ্ধ ও সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত করতে চাই। এখানে আর কোনো অপরাধী গোষ্ঠীর স্থান থাকবে না।”
জানা গেছে, প্রথম ধাপে টেকনাফ উপজেলার বাহারছড়া ইউনিয়নের ১ হাজার ৬৯৮ জন কৃষক-কৃষাণীর মধ্যে কৃষক কার্ড বিতরণ করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে উপজেলার অন্যান্য ইউনিয়নেও এই কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা হবে।
অনুষ্ঠানটি ছিল সুশৃঙ্খল, উৎসবমুখর ও ব্যাপক জনসমাগমপূর্ণ। কৃষকদের অংশগ্রহণে পুরো মাঠ প্রাঙ্গণ প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
Reporter Name 

















