দ্বিতীয় হিজরির ১৭ রমজান (১৭-ই মার্চ ৬২৪ খ্রিস্টাব্দে) মদিনা থেকে দক্ষিন-পশ্চিমে ৮০ মাইল দূরে অবস্থিত বদর উপত্যকায় মক্কার মুশরিক এবং মুসলমানদের মাঝে সত্য মিথ্যার পার্থক্যকারী এক ঐতিহাসিক যুদ্ধ সংঘটিত হয় যাকে বদর যুদ্ধ নামে অভিহিত করা হয়। বদর যুদ্ধে স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা তাহার ফেরেশতাগণের দ্বারা মুসলিম বাহিনী কে সাহায্য করেছেন যেমন আল্লাহ তা’আলা পবিত্র কোরআনুল কারিমে বলেনঃ وَمَا جَعَلَهُ اللَّهُ إِلَّا بُشْرَىٰ وَلِتَطْمَئِنَّ بِهِ قُلُوبُكُمْ ۚ وَمَا النَّصْرُ إِلَّا مِنْ عِندِ اللَّهِ ۚ إِنَّ اللَّهَ عَزِيزٌ حَكِيمٌ- আর আল্লাহ তো শুধু সুসংবাদ দান করলেন যাতে তোমাদের মন আশ্বস্ত হতে পারে। আর সাহায্য আল্লাহর পক্ষ থেকে ছাড়া অন্য কারো পক্ষ থেকে হতে পারে না। নিঃসন্দেহে আল্লাহ মহাশক্তির অধিকারী হেকমত ওয়ালা।(সুরা আনফাল, আয়াত নং ১০) বদর প্রান্তরে রাসুলুল্লাহ ﷺ এর দোয়াঃ রাসুলুল্লাহ ﷺ আল্লাহ তা’আলার কাছে কাতর কন্ঠে আবেদন জানাচ্ছিলেন। তিনি বলছিলেন, হে আল্লাহ তা’আলা তুমি আমার সাথে যে ওয়াদা করছিলে সে ওয়াদা পূরণ করো, হে আল্লাহ তা’আলা আমি তোমার কাছে তোমার প্রতিশ্রুত সাহায্যের আবেদন জানাচ্ছি। উভয় বাহিনীর মধ্যে তুমুল যুদ্ধ শুরু হওয়ার পরে রাসুলুল্লাহ ﷺ এই বলে দোয়া করেছিলেন যে, হে আল্লাহ আজ যদি এই বাহিনী নিশ্চিহ্ন হয়ে যায়, তবে দুনিয়ায় ইবাদত করার মতো কেউ থাকবে না, হে আল্লাহ তা’আলা তুমি কি এটা চাও যে আজকের পর থেকে আর কখনোই তোমার ইবাদত না করা হোক? এরপর আল্লাহ তা’আলা মুসলিম বাহিনীর সাহায্যার্থে পর্যায়ক্রমে হাজার ফেরেশতা অবতরন করেন এবং ওহী প্রেরণ করে বলেন, إِذْ تَسْتَغِيثُونَ رَبَّكُمْ فَاسْتَجَابَ لَكُمْ أَنِّي مُمِدُّكُم بِأَلْفٍ مِّنَ الْمَلَائِكَةِ مُرْدِفِينَ – তোমরা যখন ফরিয়াদ করতে আরম্ভ করেছিলে স্বীয় পরওয়ারদেগারের নিকট, তখন তিনি তোমাদের ফরিয়াদের মঞ্জুরী দান করলেন যে, আমি তোমাদিগকে সাহায্য করব ধারাবাহিকভাবে আগত হাজার ফেরেশতার মাধ্যমে। (সুরা আনফা্ল, আয়াত নং ৯) বদরের প্রান্তরে ইবলিশের অবস্থানঃ বদরের প্রান্তরে ইবলিশ অবস্থান করছিল ছোরাকা ইবনে মালিকের বেশ ধরে, সে যখন ফেরেশতাগণের উপস্থিতি দেখতে পেল সে বদরের ময়দান ফেলে পালিয়ে যেতে লাগলো, ইবলিশ মুশরেকদেরকে ওয়াদা করেছিলো যে, সে বদরের প্রান্তরে তাদেরকে সাহায্য করবে এবং তাদেরকে ছেড়ে যাবে না, কিন্তু ফেরেশতাগণের উপস্থিতি দেখে ইবলিশ বদরের প্রান্তর থেকে পালিয়ে গেল, সে পলায়নের সময় মক্কার মুশরিকরা বলতে লাগলো ছোরাকা ইবনে মালিক তুমি কোথায় যাচ্ছ? ছোরাকা বলল আমি এমন কিছু দেখতে পাচ্ছি যা তোমরা দেখতে পাও না আমি অবশ্যই আল্লাহ তা’আলাকে ভয় করি, তিনি কঠোর শাস্তিদাতা, অতঃপর ইবলিশ সমুদ্রের মধ্যে আত্মগোপন করল। বদর যুদ্ধের ফলাফলঃ বদর যুদ্ধে মুসলিম সৈন্য সংখ্যা কম থাকার পরেও আল্লাহ তা’আলার সাহায্য নিয়ে মুসলিমগণ জয়লাভ করেছেন , এ যুদ্ধে মুসলমান সৈন্য সংখ্যা ছিল মাত্র ৩১৩ জন, তাদের থেকে ১৪ জন সাহাবী শহীদ হয়েছেন এবং কাফেরদের সৈন্য সংখ্যা ১০০০ জন, তাদের থেকে ৭০ জন কাফের নিহত এবং ৭০ জন বন্দী হয়েছে । মক্কার বড় বড় লিডারদের মধ্য থেকে আবু জাহেল, উতবা, শায়বা এবং ওয়ালিদ সহ আরও অনেক বড় বড় লিডার বদরের যুদ্ধে নিহত হয়েছে। বদর যুদ্ধের শিক্ষাঃ বদর যুদ্ধে সমস্ত সাহাবাগণ আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল ﷺ এর পরিপূর্ণ আনুগত্য মেনে নিয়েছিল। আল্লাহ তা’আলার উপর পরিপূর্ণ ভাবে বিশ্বাস স্থাপন করলে এবং তাওয়াক্কুল করলে আল্লাহ তা’আলাই তাদের জন্য সাহায্যকারী হিসেবে যথেষ্ট হয়ে যান। কাফের এবং মুশরিকরা তাদের অহংকার এর কারণে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম এর উপর ঈমান গ্রহন করেন নি, পরবর্তীতে তারা বদরের যুদ্ধে পরাজয় বরণ করেছে এবং জাহান্নামে নিমজ্জিত হয়েছে, যেমন আল্লাহ তায়ালার বাণীঃ ذَٰلِكَ بِأَنَّهُمْ شَاقُّوا اللَّهَ وَرَسُولَهُ ۚ وَمَن يُشَاقِقِ اللَّهَ وَرَسُولَهُ فَإِنَّ اللَّهَ شَدِيدُ الْعِقَابِ- যেহেতু তারা অবাধ্য হয়েছে আল্লাহ এবং তাঁর রসূলের, সেজন্য এই নির্দেশ। বস্তুতঃ যে লোক আল্লাহ ও রসূলের অবাধ্য হয়, নিঃসন্দেহে আল্লাহর শাস্তি অত্যন্ত কঠোর।(সুরা আনফাল, আয়াত নং ৯) জাতীয় দৈনিক মাতৃজগত
Leave a Reply