মহিপুর থানার আলীপুর মৎস বন্দরে দুটি মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে ভিড়ানোকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এই সংঘর্ষে উভয় পক্ষের মোট ৭ জন জেলে আহত হয়।
২২ শে সেপ্টেম্বর (বুধবার) আনুমানিক বিকাল ৪ টা ৩০ মিনিটের দিকে আলীপুর মৎস বন্দরের পূর্ব পাশে দুইটি মাছ ধরার ট্রলার ঘাটে ভেড়ানোর সময় একে অপরের সাথে ধাক্কা লাগাকে কেন্দ্র করে উভয় ট্রলারের জেলেদের মাঝে বাকবিতন্ডা হয়। সামান্য কথা কাটাকাটি থেকে পরবর্তিতে বড় সংঘর্ষের রুপ নেয়। আর এই ছোট খাটো কথা কাটাকাটি থেকে সংঘর্ষের রুপ দেয়ার নেপথ্যে ছিলেন, আলীপুর মনি ফিস নামের আড়ৎ’র মালিক মোঃ জলিল হোসেন।উল্রেখ্য, মনিফিস আড়ৎ’র মালিকের ইন্দনেই এই বাকবিতন্ডতা এক পর্যায় বড়ো সংঘর্ষের রুপ নেয়। এই সহিংসতায় উভয় পক্ষোর মোট ৭ জন জেলে আহত হয়। আহতরা সকলেই কলাপাড়া স্বাস্থ্য ক্লিনিকে বর্তমানে চিকিৎসাধীন আছে। জানাযায় সংঘর্ষে জড়ানো মাছ ধরার ট্রলার দুটি মালিক হলেন মোঃ দেলোয়ার মুসুল্লি ও মোঃ রাকিব হাওলাদার। অন্যদিকে, মোঃ রাকিব হাওলাদারের ট্রলারের মাছ জলিলের মালিকানাধীন ‘মনি ফিস‘ আড়ৎ এ বিক্রি করেন বলেই তাই তিনি ও তার লেবার এই সংঘর্ষে জড়িত হয়।
স্থানীয়দের সূত্রমতে, দুটি ট্রলার ঘাটে ভিড়ানোর সময় একে অপরের সাথে ধাক্কা লাগে, তারপর সামান্য কথা কাটাকাটি বাকবিতন্ড হয়। বাকবিতন্ডার চলাকালীন এক পর্যায় আলীপুর মৎস ব্যবসায়ী ‘মনিফিস ‘আড়ৎ এর মালিক মোঃ জলিলের নেতৃত্বে প্রায় অর্ধশতাধিক লেবার এসে মোঃ দেলোয়ার মুসুল্লির ট্রলারের জেলেদের উপর অতর্কিত হামলা চালায়, এমনকি এই হামলায় তিনি নিজেও অংশ নেয় বলে প্রত্যাক্ষদর্শীরা জানায়। উক্ত হামলায় মোঃ হাসান (২৩) সহ মোট ৪ জন জেলে গুরুত্বর আহত হন। একজন প্রতক্ষদর্শীর মোবাইল ফোনে ধারন কারা ভিডিওতে উক্ত সংঘর্ষের তথ্যের সত্যতা পাওয়া যায়। এতে স্পষ্ট দেখা যায় যে, মনি ফিস আড়ৎ’র কর্মরত লেবাররা সরাসরি এই সংঘর্ষে অংশ গ্রহন করে। পরবর্তিতে মহিপুর থানা পুলিশের হস্তক্ষেপর পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। সরেজমিনে দৃশ্যমান, এই মনিফিস শিরোনামের প্রতিষ্ঠানটি মালিক মোঃ জলিল। তিনি তার প্রভাব বিস্তার ও বেআইনি মৎস ব্যবসা চলমান রাখতে, কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় তিনি ও তার বাহিনীর ইতিপূর্বে একাধিক সহিংসতায় লিপ্ত থাকার প্রমান পাওয়া গেছে। মোঃ জলিল (মনি ফিস) তার নিজের আধিপত্য বিস্তার করার জন্য একাধিক উপকূলীয় অঞ্চলে গড়ে তুলেছেন বিভিন্ন নামে মৎস আড়ৎ। জানা যায়, এই জলিল (মনি ফিস) আলীপুর ও পার্শ্ববর্তী উপকূলীয় অঞ্চলের জাটকা সেন্টিগ্রেডের প্রধান হোতা। যার নেতৃত্বে সরকারের জাটকা নিধন আইকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দিখেয়ে, প্রতি বছর হাজার হাজর মন জাটকা ইলিশ নিধন করে গড়ে তুলেছেন বিশাল অর্থভন্ডার। কিছু অসাধু কর্মকর্তাকে অর্থের বিনিময়ে চুক্তি করে বছরের পর বছর বেআইনি ভাবে জাটকা নিধন করে নিজে হয়ছেন বৃত্তশীল। এখন কিছু প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়ায় থেকে তিনি যেনো এখন সোনায়-সোহাগা। তাই দিনদিন হয়ে যাচ্ছেন আরো বেপারোয়া। ক্ষমতার প্রভাব দোখিয়ে সাধারন মানুষসহ গনমাধ্যম কর্মীদেরকেও তিনি হুমকি দিতে ছাড়েননি। প্রতি বছর তার নিয়ন্ত্রণে জাটকা নিধন, সমূদ্রে অবরোধ চলাকলিন বেআইনি মৎস শিকার সহ বিভিন্ন বেআইনি কর্মাকন্ডের প্রধান হোতা হিসেবে আলীপুর মৎস বন্দরে তার প্রভাব বিস্তার প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে একাধিক প্রমান রয়েছে।
মহিপুর থানার কর্তব্যরত এস,আই মোঃ রাসেল জানান, উভায় পক্ষের জেলে আহত হয়েছে। আহতদের কলাপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ক্লিনিকে চিকিৎসা সেবা দেয়া হচ্ছে । তিনি আরো বলেন উভয় পক্ষই আইনি সেবার অর্ন্তভূক্ত।
Leave a Reply