
নিজস্ব প্রতিবেদক:
রাজধানীর ইকুরিয়া বিআরটিএ (ঢাকা মেট্রো-২) কার্যালয়ের মালিকানা বদলি ও ফিটনেস শাখায় অনিয়ম, দুর্নীতি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় এবং সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির একাধিক অভিযোগ উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন কার্যালয়ের মোটরযান পরিদর্শক (ইন্সপেক্টর) সবুজ আহমেদ। তাঁর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো ঘিরে সংশ্লিষ্ট মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা জরুরি।
সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ
ভুক্তভোগী কয়েকজন সেবাগ্রহীতার অভিযোগ, ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে বিভিন্ন সেবা নিতে গিয়ে তাঁদের নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরেও অতিরিক্ত অর্থ দেওয়ার চাপের মুখে পড়তে হয়। কাগজপত্র সঠিক থাকার পরও নানা অজুহাতে ফাইল আটকে রাখা এবং প্রক্রিয়ায় অযথা বিলম্ব করার অভিযোগ রয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, দালাল বা মধ্যস্থতাকারীর মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ দিলে অনেক ক্ষেত্রে দ্রুত কাজ সম্পন্ন হয়। এতে সাধারণ সেবাগ্রহীতারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন।
মালিকানা বদলিতে দীর্ঘসূত্রতা ও অনিয়মের অভিযোগ
যানবাহনের মালিকানা বদলি একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক প্রক্রিয়া। কিন্তু ইকুরিয়া বিআরটিএ কার্যালয়ে এ সেবা নিতে গিয়ে দীর্ঘসূত্রতা ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করছেন একাধিক সেবাগ্রহীতা।
তাঁদের অভিযোগ, নিয়ম অনুযায়ী আবেদন ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেওয়ার পরও অনেক ফাইল দীর্ঘদিন আটকে থাকে। অন্যদিকে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার সুযোগ দেওয়া হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এসব ঘটনার সঙ্গে কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারী বা মধ্যস্থতাকারী জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
ফিটনেস শাখায় ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহন নিয়ে উদ্বেগ
সড়ক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যানবাহনের ফিটনেস পরীক্ষা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু ইকুরিয়া বিআরটিএর ফিটনেস শাখায় যানবাহন পরীক্ষা ও ফিটনেস সনদ প্রদান প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন কয়েকজন সেবাগ্রহীতা।
অভিযোগ রয়েছে, কিছু ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন যথাযথভাবে পরীক্ষা না করেই ফিটনেস সনদ দেওয়া হচ্ছে। আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এমন অনিয়ম হচ্ছে কি না, তা তদন্তের দাবি উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে তা শুধু প্রশাসনিক অনিয়ম নয়, জননিরাপত্তার জন্যও মারাত্মক হুমকি হয়ে দাঁড়াতে পারে।
দালাল সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ
কার্যালয়কে ঘিরে একটি দালালচক্র সক্রিয় থাকার অভিযোগও করেছেন সেবাগ্রহীতাদের কেউ কেউ। তাঁদের দাবি, দালালের মাধ্যমে কাজ করালে দ্রুত সেবা পাওয়া গেলেও সরাসরি সেবা নিতে গেলে নানা জটিলতা ও দীর্ঘসূত্রতার মুখে পড়তে হয়।
এই অভিযোগের সঙ্গে কার্যালয়ের কোনো কর্মকর্তা-কর্মচারীর যোগসাজশ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সচেতন নাগরিকরা।
উচ্চপর্যায়ের তদন্ত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি
বিআরটিএ একটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি সেবামূলক প্রতিষ্ঠান। এখানে সাধারণ মানুষের হয়রানি, অতিরিক্ত অর্থ আদায় কিংবা দালালচক্রের প্রভাব কোনোভাবেই কাম্য নয়।
সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা ইকুরিয়া বিআরটিএ (ঢাকা মেট্রো-২) কার্যালয়ের মালিকানা বদলি ও ফিটনেস শাখার কার্যক্রম নিয়ে উচ্চপর্যায়ের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, সেবার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং দালালচক্রের দৌরাত্ম্য বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত মোটরযান পরিদর্শক সবুজ আহমেদের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট বিআরটিএ কর্তৃপক্ষের ব্যাখ্যা পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
Reporter Name 








