ঢাকা ০৯:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ৬ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কিশোর অপরাধ রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকার আহ্বান মেয়রের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:২১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬
  • ২০ Time View

এস এম জসিম বিশেষ প্রতিনিধি
হাতেখড়ি সিটি কর্পোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি ১৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার সকাল ১০টায় কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপসচিব ও প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক সদস্য জনাব মোহাম্মদ সেকান্দর, জনাব মো. হাসান রুবেল, মহিলা অভিভাবক সদস্য রোকসানা বেগম এবং শিক্ষানুরাগী সদস্য জনাব মো. মহিউদ্দীন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন হাতেখড়ি সিটি কর্পোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের সফল ভবিষ্যৎ গঠনে শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “বইয়ের শিক্ষা জীবনের একটি অংশ, কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা হলো যা মানুষের মন ও বিবেককে আলোকিত করে এবং সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভালো ফলাফলের মাধ্যমে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নগরীর সুনাম বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সফলতার পেছনে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মচারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

মেয়র বলেন, বর্তমান সময়ে কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধ প্রবণতা একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও আচরণের প্রতি আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নৈতিক শিক্ষা জোরদার করার পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকতে হবে এবং খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হতে হবে। সুস্থ দেহে সুস্থ মন—এই নীতিকে অনুসরণ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মেয়র আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করবে—কেউ হবে ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ শিক্ষক, কেউ প্রশাসক। তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরায় ইয়াবাসহ মাদক ব্যবসায়ী গ্রেপ্তার

কিশোর অপরাধ রোধে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সমন্বিত ভূমিকার আহ্বান মেয়রের

Update Time : ০১:২১:৪২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

এস এম জসিম বিশেষ প্রতিনিধি
হাতেখড়ি সিটি কর্পোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২০২৬ সালের এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় সংবর্ধনা ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে। অনুষ্ঠানটি ১৮ এপ্রিল ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, শনিবার সকাল ১০টায় কলেজ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন উপসচিব ও প্রধান শিক্ষা কর্মকর্তা ড. কিসিঞ্জার চাকমা।

বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অভিভাবক সদস্য জনাব মোহাম্মদ সেকান্দর, জনাব মো. হাসান রুবেল, মহিলা অভিভাবক সদস্য রোকসানা বেগম এবং শিক্ষানুরাগী সদস্য জনাব মো. মহিউদ্দীন।

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য প্রদান করেন হাতেখড়ি সিটি কর্পোরেশন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ জনাব মোহাম্মদ ফয়জুল্লাহ।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, শিক্ষার্থীদের সফল ভবিষ্যৎ গঠনে শুধু একাডেমিক শিক্ষা নয়, নৈতিক শিক্ষা ও মানবিক মূল্যবোধ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, “বইয়ের শিক্ষা জীবনের একটি অংশ, কিন্তু প্রকৃত শিক্ষা হলো যা মানুষের মন ও বিবেককে আলোকিত করে এবং সমাজ গঠনে ভূমিকা রাখে।”

তিনি শিক্ষার্থীদের আসন্ন এসএসসি পরীক্ষায় ভালো ফলাফল অর্জনের আহ্বান জানিয়ে বলেন, ভালো ফলাফলের মাধ্যমে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও নগরীর সুনাম বৃদ্ধি করতে হবে। তিনি আরও বলেন, শিক্ষার্থীদের সফলতার পেছনে শিক্ষক, অভিভাবক ও প্রতিষ্ঠানের সকল কর্মচারীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।

মেয়র বলেন, বর্তমান সময়ে কিশোর গ্যাং ও কিশোর অপরাধ প্রবণতা একটি বড় সামাজিক চ্যালেঞ্জ। এ সমস্যা মোকাবিলায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও অভিভাবকদের সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে। তিনি অভিভাবকদের সন্তানদের চলাফেরা, বন্ধুবান্ধব ও আচরণের প্রতি আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোকে নৈতিক শিক্ষা জোরদার করার পরামর্শ দেন।

তিনি আরও বলেন, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অপব্যবহার থেকে শিক্ষার্থীদের দূরে থাকতে হবে এবং খেলাধুলা, শরীরচর্চা ও সৃজনশীল কর্মকাণ্ডে মনোযোগী হতে হবে। সুস্থ দেহে সুস্থ মন—এই নীতিকে অনুসরণ করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

মেয়র আশা প্রকাশ করেন, এই প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরাই ভবিষ্যতে দেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালন করবে—কেউ হবে ডাক্তার, কেউ ইঞ্জিনিয়ার, কেউ শিক্ষক, কেউ প্রশাসক। তিনি শিক্ষার্থীদের স্বপ্ন দেখতে এবং সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে কঠোর পরিশ্রম করার আহ্বান জানান।

অনুষ্ঠানে শিক্ষক-শিক্ষিকা, অভিভাবক ও বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী উপস্থিত ছিলেন।