
মোঃ ইদু খান, স্টাফ রিপোর্টার:
হাওড়ের জাল চুরির অভিযোগ এনে খালিয়াজুরীর বিএনপির এক নেতাকে অভিযোগকারীদের বাড়ীতে নিয়ে দুই নারিকেল গাছের মাঝখানে রশি দিয়ে টানা কোমরে বাঁধার এক ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ২৭ মে সকালে ভাইরাল হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়া নেটিজেনদের বিভিন্ন ধরণের মন্তব্য দেখা যাচ্ছে। অনেক বলছে,এটা খুবই দুঃখজনক। কেহ বলছে উচিত শিক্ষা হয়েছে আবার ইয়ারাবাদ গ্রামের বশির আহম্মদ মেম্বার নামের এক আইডি থেকে মন্তব্য উপজেলা বিএনপির নেতা বলে কথা।
রশি বাঁধা লোকটি হল খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির ৯৭ নম্বর সম্মনিত সদস্য মোঃ আব্দুল নুর আল্লাদ। তিনি খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের গছিখাই গ্রামের মৃত লাল মিয়ার ছেলে। ঘটনা সূত্রে জানা যায়,২৫ মে সকাল বেলা সুনামগঞ্জের শাল্লা উপজেলার ইয়ারাবাদ( ইয়ারাবাজ) গ্রামের
হাওড়ের মাছ ধরার জন্য জাল ধরে রেখে দূরে অবস্থান নেয়। কিছুক্ষণ পর তারা লক্ষ্য করে দেখে ইয়ারাবাজ গ্রামের জেলেদের জাল পানি থেকে তুলে নিয়ে যাচ্ছে ঐ বিএনপি নেতা আল্লাদ মিয়া। তারপর ঐ জেলেরা দৌঁড়ে এসে তাকে( আল্লাদ) ধরে আটক করে। আটক করার পর জেলেদের উল্টো মারধরের হুমকি দেয় আল্লাদ মিয়া। তারপর তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আল্লাদ মিয়াকে নিয়ে ইয়ারাবাদ গ্রামে সেনু মিয়া বাড়ীতে নিয়ে বাড়ীর উঠানে দুই নারিকেল গাছের সাথে রশি টানা দিয়ে কোমরে বেঁধে রাখে । পরে গছিখাই গ্রামের কয়েকজন বিষয়টা ঈদের পরে মীমাংসা করে দিবে বলে আশ্বস্ত করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।
এ বিষয়ে ইয়ারাবাদ গ্রামের আবুল বাশার জানান, আমি যতটুকু জানি আমাদের গ্রামের কয়েকজনের জেলে গছিখাইয়ের কাছে ছোট বিল নামক হাওড়ের জাল ধরে। সেখান থেকে আল্লাদ মিয়া জোড় পুর্ব্বক জাল ও মাছ ধরার ফাঁদ নিয়ে যায়। পরের দিন আবার সেখানে আল্লাদ মিয়া আমাদের গ্রামের জেলেদের জোড় পুর্ব্বক মাছ নিয়ে যেতে চাইলে তারা বাঁধা দেয়। তখন এক পর্যায়ে আল্লাদ মিয়া গালাগালি করলে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতির এক পর্যায়ে আল্লাদকে ধরে নিয়ে সেনুয়ালের বাড়ীতে গাছের সাথে রশি দিয়ে বেঁধে রাখে। তাছাড়া বাশার মিয়া আরও জানান, সে একটা সন্ত্রাসী এবং তার অত্যাচারে আমরা অতিষ্ঠ। আল্লাদের বাড়ীর কাছ দিয়ে অপরিচিত মোটরসাইকেল গেলে তাকে ৪০০ থেক ৫০০ টাকা দিয়ে আসতে হয় এমনকি চৈত্র মাসে আমরা যখন পিআইসির কাজ করি তখন বাড়ীর সামনে দিয়ে ভেকু নিয়ে আসলে তাকে ৪ হাজার থেকে ৫ হাজার টাকা দিতে হয়।
ভূক্তভোগী ইয়ারাবাদ গ্রামের জাহেদ মিয়া বলেন, আমরা গরীর মানুষ জাল হুতা বাইয়া জীবন ধারণ করি। তাছাড়া শাল্লার সীমান্তে ছোট নদীতে জাল ও চাই দিয়ে মাছ ধরার সময় গায়ের জোরে আমাদের জাল,চাই ও মাছ নিয়ে যায় এবং সে ( আল্লাদ) মাছের বিক্রির অর্ধেক দিতে হবে বলে দাবী করে। এ নিয়ে এক পর্যায়ে হাতাহাতি হয় তারপর আমরা তাকে ধরে নিয়ে গ্রামে সেনামুলের বাড়ীতে রাখি। পরে গছিখাই গ্রামের কয়েকজন এসে নিয়ে যায় এবং আমাদের তিন ক্যারেট মাছের দাম ত্রিশ হাজার হবে সেই টাকা দিয়ে বলে আশ্বস্ত করে।
অভিযুক্ত আব্দুল নুর আল্লাদ বলেন, সকালে গরু নিলে গেলে দেখা যায় আমাদের কান্দায় ইয়ারাবাজের লোকজন চাই ও জাল দিয়ে মাছ ধরছে আমি বাঁধা দেওয়ায় চৈত্র মাসের একটা ঝামেলার জের ধরে আমাকে এলোপাতারি মারধর করে এমনকি আমাকে তাদের বাড়ীতে নিয়ে বেঁধে রাখে। আমি এ বিষয়টি কেষ্টু ভাই, স্বাধীন ভাই, তরু ভাইকে জানাইছি। ইয়রাবাজের জেলেরা বলেছে, মাছ ধরার অর্ধেক দিলে নাকি মাছ ধরায় কোন সমস্যা নাই এ বিষয়ে সে বলে এগুলো মিথ্যা। এখনতো তারা কতকিছুই বলবে।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মাসুদ রানা বলেন, তার বিষয়ে কত অভিযোগ তার কোন ইয়ত্তা নাই। তার বিচার কত শেষ করমু এর আগেই কয়েকটা বিচার করেছি তাছাড়া ইয়ারাবাজের আগের বিচারও ঠিকমত শেষ করত না করতেই নতুন করে ঝামেলা সৃষ্টি করে। আল্লাদ মিয়া উপজেলা বিএনপির সদস্য এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কেউ অপকর্ম বা খারাপ কোন কাজ করলে এর দায় দল নিবে না।
Reporter Name 


















