ঢাকা ০৬:২২ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩০ মে ২০২৬, ১৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরায় মাটিবাহী ট্রলির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৬৬ Time View
Print

আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর সানা পাড়া গ্রামে মাটিবাহী ট্রলির ধাক্কায় ওমর ফারুক নামের তিন বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওমর ফারুক ওই গ্রামের আরাফাতের ছেলে। শিশু মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাটি বহনকারী
ট্রলি ও ‘হল্লাগাড়ি’র বেপরোয়া চলাচল নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছিল। আজ সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিল।
জানা গেছে, ধুলিহর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা দিয়ে প্রবাহিত বেতনা নদী সম্প্রতি সরকারিভাবে খনন করা হয়েছে। নদী খননের ফলে উত্তোলিত বিশাল মাটির স্তূপ এখন স্থানীয় প্রভাবশালী ও দুষ্কৃতিকারীদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতের আঁধারে এবং দিনের আলোতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই সরকারি মাটি মোটা অঙ্কের টাকায় ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি সিন্ডিকেট করে সরকারি এই সম্পদ লুটপাটে মেতেছেন। এতে নদী পুনরায় ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

এলাকার আব্দুল হাই নামের একজন অভিভাবক বলেন, মাটি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টর ও অবৈধ ট্রলিগুলো গ্রামের সরু রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এর ফলে ধুলোবালিতে জনস্বাস্থ্য যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি কোমলমতি শিশু ও বৃদ্ধদের চলাফেরা হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক। আজ শিশু ওমরের প্রাণহানি সেই অনিয়ন্ত্রিত চলাচলেরই করুণ পরিণতি। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

৮ নম্বর ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান চৌধুরীর মাধ্যমে দেওয়া ওই আবেদনে বলা হয়েছে, বারবার মৌখিকভাবে আপত্তি জানানো সত্ত্বেও ট্রলি চলাচল বা মাটি চুরি বন্ধ হয়নি। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই মাটি অবৈধভাবে বিক্রি না করে স্থানীয় মসজিদ, মন্দির, বাজার কিংবা রাস্তা সংস্কারের কাজে ব্যবহার করা হলে জনস্বার্থ রক্ষিত হতো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অবৈধভাবে নদী খননের মাটি বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে।

নিহত শিশুর পরিবারের কান্না আর এলাকাবাসীর ক্ষোভ-সব মিলিয়ে ধুলিহর এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের একটাই দাবি, “আর কোনো ওমরের যেন এভাবে ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ না যায়।”

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুরের তারাগঞ্জে গোসল করতে নেমে ঢাকা থেকে আসা দুই বন্ধুর মর্মান্তিক মৃত্য

সাতক্ষীরায় মাটিবাহী ট্রলির ধাক্কায় শিশুর মৃত্যু

Update Time : ১১:৫৪:৩৫ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬
Print

আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার ধুলিহর সানা পাড়া গ্রামে মাটিবাহী ট্রলির ধাক্কায় ওমর ফারুক নামের তিন বছরের এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।

সোমবার (১৩ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে এই দুর্ঘটনা ঘটে। নিহত ওমর ফারুক ওই গ্রামের আরাফাতের ছেলে। শিশু মৃত্যুর ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাটি বহনকারী
ট্রলি ও ‘হল্লাগাড়ি’র বেপরোয়া চলাচল নিয়ে এলাকায় আতঙ্ক ছিল। আজ সেই আশঙ্কাই বাস্তবে রূপ নিল।
জানা গেছে, ধুলিহর ইউনিয়নের ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ড এলাকা দিয়ে প্রবাহিত বেতনা নদী সম্প্রতি সরকারিভাবে খনন করা হয়েছে। নদী খননের ফলে উত্তোলিত বিশাল মাটির স্তূপ এখন স্থানীয় প্রভাবশালী ও দুষ্কৃতিকারীদের লক্ষ্যবস্তু হয়ে দাঁড়িয়েছে। রাতের আঁধারে এবং দিনের আলোতে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে এই সরকারি মাটি মোটা অঙ্কের টাকায় ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে দেওয়া হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি, স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি সিন্ডিকেট করে সরকারি এই সম্পদ লুটপাটে মেতেছেন। এতে নদী পুনরায় ভাঙনের ঝুঁকিতে পড়ার পাশাপাশি পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হচ্ছে।

এলাকার আব্দুল হাই নামের একজন অভিভাবক বলেন, মাটি পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত ট্রাক্টর ও অবৈধ ট্রলিগুলো গ্রামের সরু রাস্তায় বেপরোয়া গতিতে চলাচল করে। এর ফলে ধুলোবালিতে জনস্বাস্থ্য যেমন বিঘ্নিত হচ্ছে, তেমনি কোমলমতি শিশু ও বৃদ্ধদের চলাফেরা হয়ে উঠেছে বিপজ্জনক। আজ শিশু ওমরের প্রাণহানি সেই অনিয়ন্ত্রিত চলাচলেরই করুণ পরিণতি। ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী জেলা প্রশাসক, পানি উন্নয়ন বোর্ড এবং পুলিশ প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে লিখিত আবেদন জানিয়েছেন।

৮ নম্বর ধুলিহর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মিজানুর রহমান চৌধুরীর মাধ্যমে দেওয়া ওই আবেদনে বলা হয়েছে, বারবার মৌখিকভাবে আপত্তি জানানো সত্ত্বেও ট্রলি চলাচল বা মাটি চুরি বন্ধ হয়নি। আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, এই মাটি অবৈধভাবে বিক্রি না করে স্থানীয় মসজিদ, মন্দির, বাজার কিংবা রাস্তা সংস্কারের কাজে ব্যবহার করা হলে জনস্বার্থ রক্ষিত হতো।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানান, শিশু মৃত্যুর ঘটনাটি অত্যন্ত দুঃখজনক। অবৈধভাবে নদী খননের মাটি বিক্রির বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং অবৈধ যানবাহনের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদার করা হবে।

নিহত শিশুর পরিবারের কান্না আর এলাকাবাসীর ক্ষোভ-সব মিলিয়ে ধুলিহর এলাকায় এখন থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। স্থানীয়দের একটাই দাবি, “আর কোনো ওমরের যেন এভাবে ট্রলির চাকায় পিষ্ট হয়ে প্রাণ না যায়।”