ঢাকা ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গলাচিপা পৌরসভায় এক রাতে একাধিক দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি, ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • ৫৫ Time View
Print

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:

​পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভায় এক রাতে একাধিক দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও বিদ্যুৎহীনতার সুযোগ নিয়ে চোর চক্র এই ঘটনা ঘটায়। পৌর শহরের সদর রোডের কাপড় পট্টির ‘প্রিয়াংকা বস্ত্রালয়’ এবং কালিবাড়ী রোডের ‘জয় কসমেটিকস স্টোর’ সহ কয়েকটি দোকানে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

​ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত দশটার দিকে এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে পুরো পৌরসভা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে, যা রাত তিনটার দিকে স্বাভাবিক হয়। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে চোরেরা প্রিয়াংকা বস্ত্রালয়ের শাটার শাবল দিয়ে বাঁকা করে ভেতরে প্রবেশ করে। দোকানের মালিক ববিতা দেবনাথ জানান, প্রতিদিনের মতো রাত দশটায় দোকান বন্ধ করে যাওয়ার পর সকাল নয়টার দিকে এসে তিনি চুরির বিষয়টি টের পান। চোরেরা ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং প্রায় পাঁচ লাখ টাকার শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিস নিয়ে গেছে। দোকানে সিসি ক্যামেরা থাকলেও রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখায় কোনো ফুটেজ রেকর্ড হয়নি। এই ঘটনায় তিনি গলাচিপা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​এদিকে, কালিবাড়ী রোডের জয় কসমেটিকস স্টোরের মালিক সুবাস বিশ্বাস জানান, তাদের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী ভোর সোয়া ছয়টার দিকে চোরেরা শাটারের হুক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ক্যাশ থেকে নগদ প্রায় ১ লক্ষ টাকা এবং আরও প্রায় ২০-২২ হাজার টাকার সিগারেট ও পারফিউম নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার দোকানে সিসি টিভি থাকলেও চোরের মুখে জ্বালানো টর্চ লাইট কামরানো অবস্থায় থাকার কারনে টর্চের আলোতে চেহারা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া পৌর এলাকার আরও কয়েকটি ছোটখাটো দোকানে চুরির খবর পাওয়া গেছে।

​পৌরসভার মতো একটি সুরক্ষিত এলাকার ভেতরে এমন দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জনমনে এখন নানা প্রশ্ন—পৌরসভার নিজস্ব সিকিউরিটি পাহারাদার থাকা সত্ত্বেও কীভাবে চোরেরা এত বড় দুঃসাহস দেখাল? ঝড়-বৃষ্টির অজুহাতে পাহারাদারের দায়িত্বহীনতা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে জনমনে কানাঘুষা চলছে। ব্যবসায়ীরা এখন নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

​এ বিষয়ে পৌরসভার সিকিউরিটি পাহারাদার মতলেব মিয়া এবং বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাপস দত্ত জানান, ঝড়-বৃষ্টির কারণে রাতে নিয়মিত টহল দিতে কিছুটা ব্যঘাত ঘটেছিল এবং বিদ্যুৎ না থাকার সুবাদে চোর চক্র কৌশলে এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে।

​গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, থানার আওতাধীন এরিয়া অনেক বড় হওয়ায় পৌরসভার বাইরেও পুলিশকে টহল দিতে হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগেই চোর চক্র এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি দোকানের চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থল তদন্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চোর সনাক্ত ও তাদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া জোরালোভাবে চলমান রয়েছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

গলাচিপা পৌরসভায় এক রাতে একাধিক দোকানে দুর্ধর্ষ চুরি, ব্যবসায়ীদের মাঝে আতঙ্ক

Update Time : ০২:৪৬:৪২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
Print

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:

​পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভায় এক রাতে একাধিক দোকানে দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনা ঘটেছে।

মঙ্গলবার (৯ জুন) রাতে প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি ও বিদ্যুৎহীনতার সুযোগ নিয়ে চোর চক্র এই ঘটনা ঘটায়। পৌর শহরের সদর রোডের কাপড় পট্টির ‘প্রিয়াংকা বস্ত্রালয়’ এবং কালিবাড়ী রোডের ‘জয় কসমেটিকস স্টোর’ সহ কয়েকটি দোকানে এই চুরির ঘটনা ঘটে।

​ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মঙ্গলবার রাত দশটার দিকে এলাকায় প্রচণ্ড ঝড়-বৃষ্টি শুরু হলে পুরো পৌরসভা বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে, যা রাত তিনটার দিকে স্বাভাবিক হয়। এই দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার সুযোগ নিয়ে চোরেরা প্রিয়াংকা বস্ত্রালয়ের শাটার শাবল দিয়ে বাঁকা করে ভেতরে প্রবেশ করে। দোকানের মালিক ববিতা দেবনাথ জানান, প্রতিদিনের মতো রাত দশটায় দোকান বন্ধ করে যাওয়ার পর সকাল নয়টার দিকে এসে তিনি চুরির বিষয়টি টের পান। চোরেরা ক্যাশ বাক্স থেকে নগদ ১০ হাজার টাকা এবং প্রায় পাঁচ লাখ টাকার শাড়ি, লুঙ্গি ও থ্রি-পিস নিয়ে গেছে। দোকানে সিসি ক্যামেরা থাকলেও রাতে বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ রাখায় কোনো ফুটেজ রেকর্ড হয়নি। এই ঘটনায় তিনি গলাচিপা থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

​এদিকে, কালিবাড়ী রোডের জয় কসমেটিকস স্টোরের মালিক সুবাস বিশ্বাস জানান, তাদের দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ অনুযায়ী ভোর সোয়া ছয়টার দিকে চোরেরা শাটারের হুক ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে। তারা ক্যাশ থেকে নগদ প্রায় ১ লক্ষ টাকা এবং আরও প্রায় ২০-২২ হাজার টাকার সিগারেট ও পারফিউম নিয়ে যায়। এ ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। তার দোকানে সিসি টিভি থাকলেও চোরের মুখে জ্বালানো টর্চ লাইট কামরানো অবস্থায় থাকার কারনে টর্চের আলোতে চেহারা স্পষ্ট দেখা যাচ্ছে না। এছাড়া পৌর এলাকার আরও কয়েকটি ছোটখাটো দোকানে চুরির খবর পাওয়া গেছে।

​পৌরসভার মতো একটি সুরক্ষিত এলাকার ভেতরে এমন দুর্ধর্ষ চুরির ঘটনায় স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের মনে তীব্র আতঙ্ক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। জনমনে এখন নানা প্রশ্ন—পৌরসভার নিজস্ব সিকিউরিটি পাহারাদার থাকা সত্ত্বেও কীভাবে চোরেরা এত বড় দুঃসাহস দেখাল? ঝড়-বৃষ্টির অজুহাতে পাহারাদারের দায়িত্বহীনতা নাকি এর পেছনে অন্য কোনো রহস্য রয়েছে, তা নিয়ে জনমনে কানাঘুষা চলছে। ব্যবসায়ীরা এখন নিজেদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করছেন।

​এ বিষয়ে পৌরসভার সিকিউরিটি পাহারাদার মতলেব মিয়া এবং বণিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক তাপস দত্ত জানান, ঝড়-বৃষ্টির কারণে রাতে নিয়মিত টহল দিতে কিছুটা ব্যঘাত ঘটেছিল এবং বিদ্যুৎ না থাকার সুবাদে চোর চক্র কৌশলে এই সুযোগটি কাজে লাগিয়েছে।

​গলাচিপা থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইমতিয়াজ আহমেদ জানান, থানার আওতাধীন এরিয়া অনেক বড় হওয়ায় পৌরসভার বাইরেও পুলিশকে টহল দিতে হয়। দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া ও বিদ্যুৎ না থাকার সুযোগেই চোর চক্র এই ঘটনাটি ঘটিয়েছে। ইতিমধ্যে দুটি দোকানের চুরির অভিযোগ পাওয়া গেছে এবং ঘটনাস্থল তদন্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে চোর সনাক্ত ও তাদের গ্রেপ্তারের প্রক্রিয়া জোরালোভাবে চলমান রয়েছে।