ঢাকা ১২:৩৭ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১২ মে ২০২৬, ২৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ ও গণমিছিল

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:২০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ১০১ Time View
Print

আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরা। গণভোটের গণরায় কার্যকর করা, জনদুর্ভোগ লাঘব, জ্বালানি সংকট নিরসন ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে সাতক্ষীরায় বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (২ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই বিশাল সমাবেশ শুরু হয়,পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাও রুস্তম আলী তাওহিদ । সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউ মার্কেট হয়ে তুফান কোম্পানির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে ছিল— ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা!’ ও ‘জুলাই শহীদের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’-এর মতো জ্বালাময়ী স্লোগান। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান এ দেশের মানুষের জন্য এক মহানিয়ামত। এই বিপ্লব না হলে জুলাইয়ের দামাল ছেলেরা বুকের রক্ত না দিলে ১৭ বছরের স্বৈরশাসন শেষ হতো না। এমনকি তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পরিবেশ পেতেন না। এই আন্দোলনে হাজারো মানুষ জীবন দিয়েছে শুধু একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের জন্য। আজ যদি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা করে, তবে এ দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুল ইসলাম বলেন, “জাতি সাড়ে ১৬ বছর গুম, খুন আর আয়নাঘরের বিভীষিকা সয়েছে। ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়েছে। অথচ ৫৪ বছর ধরে ব্যর্থ শাসকেরা যে বৈষম্য তৈরি করেছে,তার জন্য ছাত্র জনতা বুকে তাদের রক্ত দিয়ে নতুন জুলাই অভ্যুত্থান সৃষ্টি করেছে । তা দূর করতে বর্তমান সরকার গড়িমসি করছে। ১৮ কোটি জনগণ আর কোনো নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম হতে দেবে না। প্রয়োজনে আরেকটি জুলাই অভ্যুত্থান হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটকে অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। জেলা সহকারী সেক্রেটারি ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন: জেলা নায়েবে আমির শেখ নুরুল হুদা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ওসমান গনি জেলা অফিস সম্পাদক আবু তালেব সাতক্ষীরা শহর আমির মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি খোরশেদ আলম শহর নায়েবে আমির ফখরুল হাসান লাভলু সদর উপজেলা আমির মাওলানা মোশারফ হোসেন ও সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান দেবহাটা উপজেলা আমির মাওলানা ওলিউল্লাহ সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান প্রমুখ। স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত রাজপথ সমাবেশ শেষে বিশাল গণমিছিল থেকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের দাম কমানোর জোরালো দাবি তোলা হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘তেল নিয়ে অনিয়ম বন্ধ করো’, ‘গ্যাসের দাম বৃদ্ধি চলবে না’ এবং ‘সংবিধান সংস্কার চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে সিন্ডিকেট লালন করা বন্ধ না করলে রাজপথ ছাড়বে না জনতা।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সাতক্ষীরা-নাভারণ সড়কে ট্রাক-মোটরসাইকেল মুখোমুখি সংঘর্ষ নিহত-২

জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে সাতক্ষীরায় ১১ দলীয় ঐক্যের বিক্ষোভ ও গণমিছিল

Update Time : ১০:২০:১৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
Print

আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নের দাবিতে উত্তাল হয়ে উঠেছে সাতক্ষীরা। গণভোটের গণরায় কার্যকর করা, জনদুর্ভোগ লাঘব, জ্বালানি সংকট নিরসন ও লাগামহীন দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণের দাবিতে সাতক্ষীরায় বিশাল বিক্ষোভ সমাবেশ ও গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় ঐক্য। শনিবার (২ মে) বিকেল সাড়ে ৪টায় সাতক্ষীরা শহীদ আব্দুর রাজ্জাক পার্কে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে এই বিশাল সমাবেশ শুরু হয়,পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত করেন মাও রুস্তম আলী তাওহিদ । সমাবেশ শেষে একটি বিক্ষোভ মিছিল শহরের প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে নিউ মার্কেট হয়ে তুফান কোম্পানির মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের কণ্ঠে ছিল— ‘আবু সাঈদ মুগ্ধ, শেষ হয়নি যুদ্ধ’, ‘দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা ঢাকা!’ ও ‘জুলাই শহীদের রক্ত, বৃথা যেতে দেবো না’-এর মতো জ্বালাময়ী স্লোগান। সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সাতক্ষীরা জেলা আমির উপাধ্যক্ষ শহিদুল ইসলাম মুকুল বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থান এ দেশের মানুষের জন্য এক মহানিয়ামত। এই বিপ্লব না হলে জুলাইয়ের দামাল ছেলেরা বুকের রক্ত না দিলে ১৭ বছরের স্বৈরশাসন শেষ হতো না। এমনকি তারেক রহমান লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পরিবেশ পেতেন না। এই আন্দোলনে হাজারো মানুষ জীবন দিয়েছে শুধু একটি বৈষম্যহীন নতুন বাংলাদেশের জন্য। আজ যদি সরকার জুলাই সনদ বাস্তবায়নে টালবাহানা করে, তবে এ দেশের মানুষ তা মেনে নেবে না। বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা আজিজুল ইসলাম বলেন, “জাতি সাড়ে ১৬ বছর গুম, খুন আর আয়নাঘরের বিভীষিকা সয়েছে। ছাত্র-জনতা রক্ত দিয়ে নতুন বাংলাদেশ গড়েছে। অথচ ৫৪ বছর ধরে ব্যর্থ শাসকেরা যে বৈষম্য তৈরি করেছে,তার জন্য ছাত্র জনতা বুকে তাদের রক্ত দিয়ে নতুন জুলাই অভ্যুত্থান সৃষ্টি করেছে । তা দূর করতে বর্তমান সরকার গড়িমসি করছে। ১৮ কোটি জনগণ আর কোনো নতুন ফ্যাসিবাদের জন্ম হতে দেবে না। প্রয়োজনে আরেকটি জুলাই অভ্যুত্থান হবে।” তিনি আরও উল্লেখ করেন, ৭০ শতাংশ মানুষের ‘হ্যাঁ’ ভোটকে অবজ্ঞা করার সুযোগ নেই। জেলা সহকারী সেক্রেটারি ওমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন: জেলা নায়েবে আমির শেখ নুরুল হুদা সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা ওসমান গনি জেলা অফিস সম্পাদক আবু তালেব সাতক্ষীরা শহর আমির মোঃ জাহিদুল ইসলাম ও সেক্রেটারি খোরশেদ আলম শহর নায়েবে আমির ফখরুল হাসান লাভলু সদর উপজেলা আমির মাওলানা মোশারফ হোসেন ও সেক্রেটারি মাওলানা হাবিবুর রহমান দেবহাটা উপজেলা আমির মাওলানা ওলিউল্লাহ সাতক্ষীরা শহর শিবিরের সভাপতি মেহেদী হাসান প্রমুখ। স্লোগানে স্লোগানে প্রকম্পিত রাজপথ সমাবেশ শেষে বিশাল গণমিছিল থেকে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি এবং জ্বালানি তেলের দাম কমানোর জোরালো দাবি তোলা হয়। মিছিলে অংশগ্রহণকারীরা ‘তেল নিয়ে অনিয়ম বন্ধ করো’, ‘গ্যাসের দাম বৃদ্ধি চলবে না’ এবং ‘সংবিধান সংস্কার চাই’ বলে স্লোগান দিতে থাকেন। নেতৃবৃন্দ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, সাধারণ মানুষের পকেট কেটে সিন্ডিকেট লালন করা বন্ধ না করলে রাজপথ ছাড়বে না জনতা।