ঢাকা ০৩:৫২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পটুয়াখালীতে টানা ভারী বর্ষণে স্থবির জনজীবন:

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৩৮ Time View
Print

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:

পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে চলা টানা ভারী বর্ষণে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অবিরাম বৃষ্টির ফলে জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ও শহরাঞ্চলে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বর্ষণের কারণে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদের কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট এখন পানির নিচে। অনেক এলাকার বাসা-বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় রান্নাবান্নাসহ নিত্যদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উপচে নোংরা ও দূষিত পানি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় চলে আসায় একদিকে যেমন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, অন্যদিকে মশা, মাছি ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এলাকায় পানিবাহিত রোগ ও ডেঙ্গুর মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

​টানা বৃষ্টিতে শুধু শহরই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। শত শত একর কৃষকের ফসলি জমি এখন পানির নিচে নিমজ্জিত, যা কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। এছাড়া চারণভূমি ও ঘাসের জমি তলিয়ে যাওয়ায় গৃহপালিত গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন খামারি ও সাধারণ কৃষকেরা। পশুর খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
​সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও কুলি-মজুরসহ নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না। ফলে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল এই মানুষগুলো পরিবার-পরিজন নিয়ে কার্যত কর্মহীন ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

অন্য দিকে, দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। সড়কগুলো জলমগ্ন এবং পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় ধীরগতিতে চলছে গাড়ি, যা যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ ও সামনের রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে ক্লাসে যাতায়াত করছে।

​স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের সঠিক পদ্ধতি না থাকায় এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। দ্রুত এই পানি নিষ্কাশনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিপন্ন সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের সহায়তায় এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে মাদ্রাসা সুপারের এিশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে গায়েবী নিয়োগ।

পটুয়াখালীতে টানা ভারী বর্ষণে স্থবির জনজীবন:

Update Time : ১১:৫৬:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
Print

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:

পটুয়াখালীসহ উপকূলীয় জেলাগুলোতে গত কয়েকদিন ধরে চলা টানা ভারী বর্ষণে স্থবির হয়ে পড়েছে সাধারণ মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। অবিরাম বৃষ্টির ফলে জেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা ও শহরাঞ্চলে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে তলিয়ে গেছে রাস্তাঘাট, ফসলি জমি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ। ফলে চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন সর্বস্তরের মানুষ।

​সরেজমিনে দেখা গেছে, টানা বর্ষণের কারণে শহরের প্রধান প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে গ্রামীণ জনপদের কাঁচা-পাকা রাস্তাঘাট এখন পানির নিচে। অনেক এলাকার বাসা-বাড়িতে পানি প্রবেশ করায় রান্নাবান্নাসহ নিত্যদিনের স্বাভাবিক কাজকর্ম ব্যাহত হচ্ছে। শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা উপচে নোংরা ও দূষিত পানি লোকালয়ে ছড়িয়ে পড়েছে। ড্রেনের ময়লা-আবর্জনা রাস্তায় চলে আসায় একদিকে যেমন দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে, অন্যদিকে মশা, মাছি ও ক্ষতিকর পোকামাকড়ের উপদ্রব আশঙ্কাজনকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এলাকায় পানিবাহিত রোগ ও ডেঙ্গুর মতো স্বাস্থ্যঝুঁকি তীব্র হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

​টানা বৃষ্টিতে শুধু শহরই নয়, গ্রামীণ অর্থনীতিতেও এর মারাত্মক প্রভাব পড়েছে। শত শত একর কৃষকের ফসলি জমি এখন পানির নিচে নিমজ্জিত, যা কৃষকদের বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে দাঁড় করিয়েছে। এছাড়া চারণভূমি ও ঘাসের জমি তলিয়ে যাওয়ায় গৃহপালিত গবাদি পশু নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন খামারি ও সাধারণ কৃষকেরা। পশুর খাদ্যের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে।
​সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন দিনমজুর, রিকশাচালক ও কুলি-মজুরসহ নিম্ন আয়ের শ্রমজীবী মানুষ। অতি প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘরের বাইরে বের হতে পারছেন না। ফলে দৈনিক আয়ের ওপর নির্ভরশীল এই মানুষগুলো পরিবার-পরিজন নিয়ে কার্যত কর্মহীন ও দিশেহারা হয়ে পড়েছেন।

অন্য দিকে, দূরপাল্লার যানবাহন চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে। সড়কগুলো জলমগ্ন এবং পিচ্ছিল হয়ে পড়ায় ধীরগতিতে চলছে গাড়ি, যা যাত্রী সাধারণের ভোগান্তি বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বিশেষ করে স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ এখন চরম আকার ধারণ করেছে। অনেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের খেলার মাঠ ও সামনের রাস্তা তলিয়ে যাওয়ায় শিক্ষার্থীরা চরম ঝুঁকি নিয়ে ক্লাসে যাতায়াত করছে।

​স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং পানি নিষ্কাশনের সঠিক পদ্ধতি না থাকায় এই দীর্ঘস্থায়ী জলাবদ্ধতার অন্যতম প্রধান কারণ। দ্রুত এই পানি নিষ্কাশনে কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। বিপন্ন সাধারণ মানুষ ও কৃষকদের সহায়তায় এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী।