
কে এম হাবিবুল্লাহ
স্টাফ রিপোর্টার
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পৌরসভার পূর্ব মেড্ডা এলাকার কবরস্থান সড়কের উত্তর পাশে অবস্থিত একটি গুরুত্বপূর্ণ ড্রেন দীর্ঘদিন ধরে অবহেলা ও অযত্নে পড়ে থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। বছরের পর বছর ধরে ড্রেনটির কোনো সংস্কার বা নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার উদ্যোগ না নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে ক্ষোভ, হতাশা ও উদ্বেগ বাড়ছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মেড্ডা রায় সাহেবের বাড়ির পশ্চিম পাশ থেকে তিতাস নদী পাড় পর্যন্ত বিস্তৃত ড্রেনটি আবর্জনায় ভরাট হয়ে রয়েছে। ময়লা-আবর্জনা, পলিথিন ও নালা-নর্দমার বর্জ্য জমে পানির স্বাভাবিক প্রবাহ মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই পানি উপচে পড়ে আশপাশের সড়ক ও বসতবাড়িতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, ড্রেনটির বেহাল অবস্থার কারণে আশপাশে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে, যা পরিবেশ দূষণের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে। ডেঙ্গুসহ মশাবাহিত বিভিন্ন রোগের আশঙ্কা বেড়ে যাওয়ায় শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন।
এছাড়া খোলা ড্রেনটি পথচারীদের জন্য বড় ধরনের ঝুঁকির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রতিদিন স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, কর্মজীবী মানুষ ও সাধারণ পথচারীরা এই সড়ক ব্যবহার করলেও ড্রেনের ওপর কোনো স্ল্যাব বা ঢাকনা না থাকায় দুর্ঘটনার আশঙ্কা বাড়ছে। ইতোমধ্যে কয়েকটি দুর্ঘটনার ঘটনাও ঘটেছে বলে জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এলাকাবাসীর দাবি, ড্রেনটির ওপর দ্রুত স্ল্যাব স্থাপন, নিয়মিত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সম্প্রসারণ করা হলে জনদুর্ভোগ অনেকাংশে কমে আসবে। একই সঙ্গে পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের ঝুঁকিও হ্রাস পাবে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার পৌরসভার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে জানানো হলেও এখনো কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে জনমনে চরম অসন্তোষ বিরাজ করছে। পূর্ব মেড্ডা ২ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মাহফুজুর রহমানসহ সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনের প্রতি দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন এলাকাবাসী। পাশাপাশি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা প্রশাসকের হস্তক্ষেপ কামনা করে তারা জরুরি ভিত্তিতে ড্রেনটির সংস্কার, মেরামত, সম্প্রসারণ ও নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের দাবি জানিয়েছেন।
এলাকাবাসীর ভাষ্য, এটি কেবল একটি অবকাঠামোগত সমস্যা নয়; বরং জনস্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও নাগরিক অধিকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। তাই দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ এখন সময়ের দাবি।
Reporter Name 


















