ঢাকা ১২:৩৩ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মাওলানা আব্দুস সবুর (বিদেশী হুজুর)’র জানাজায় মানুষের ঢল

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
  • ৩৮ Time View
Print

জকিগঞ্জ উপজেলার প্রতিনিধি:

জকিগঞ্জের খ্যাতনামা আলেমেদ্বীন, প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস ও হাজারো আলেমের প্রিয় উস্তাদ মাওলানা আব্দুস সবুর (বিদেশী হুজুর)’র জানাজা মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকাল সাড়ে ৫টায় তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল জকিগঞ্জের মুনশীবাজার মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর বড় জামাতা মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব। জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসেন তাঁর হাজারো ছাত্র, ভক্ত, মুরিদ, সহকর্মী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ। প্রিয় উস্তাদকে শেষবারের মতো এক নজর দেখার আশায় জোহরের পর থেকেই মাদরাসা প্রাঙ্গণে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন ছাত্র, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসী। মরহুম মাওলানা আব্দুস সবুর সাহেব ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, খলিফায়ে মাদানী আল্লামা মামরখানী রহ. এর ভাগিনা ও ভাতিজি জামাই। তিনি দীর্ঘ কয়েক দশক যাবৎ মুনশীবাজার মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। ইলমি জগতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা, বিনয়ী চরিত্র ও ছাত্রগঠনে অসামান্য অবদান তাঁকে সর্বমহলে সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। গতকাল বিকেলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর ইন্তেকালে ইলমি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর ইলমি খেদমত, আদর্শিক জীবনধারা ও মেধাবী ছাত্রগঠন আজও বহু প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর নিজ মহল্লার মসজিদের মুতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও মুনশীবাজার মাদরাসার ছাত্র সংসদের দীর্ঘদিনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। জানাজা পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুনশীবাজার মাদরাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা মুফতি মাহমুদ হুসাইন বলেন, “আজ আমরা এক অমূল্য সম্পদকে হারালাম। আমার দেখা মতে তিনি ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান মুহাদ্দিস। প্রবাস থেকে ছুটিতে দেশে আসার পর পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও শায়খে মামরখানী রহ. এর অনুরোধে তিনি প্রবাসে না গিয়ে দ্বীনি খেদমতে আত্মনিয়োগ করেন।” বক্তারা বলেন, মরহুম মাওলানা আব্দুস সবুর (বিদেশী হুজুর) ছিলেন ইলম, আমল, তাকওয়া ও বিনয়ের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তিনি সারাজীবন দ্বীনের খেদমত, ছাত্রগঠন ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর দরস ছিল অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী, যার মাধ্যমে অসংখ্য আলেম দ্বীনের সঠিক দিকনির্দেশনা লাভ করেছেন। বক্তারা আরও বলেন, তিনি কখনো পদ-পদবী কিংবা দুনিয়াবি মোহের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন না। অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করলেও ইলমি মর্যাদা ও আধ্যাত্মিক প্রভাবের দিক থেকে ছিলেন অনন্য উচ্চতায় আসীন। তাঁর ইন্তেকালে শুধু জকিগঞ্জ নয়, সমগ্র দেশের ইলমি অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, ছাত্র ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর ইন্তেকালে সর্বস্তরের আলেম-উলামা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

অপরাধের বিরুদ্ধে আপসহীন খাঁটি নায়ক: নওগাঁ জেলার ‘সেরা ওসি’ ধামইরহাটের মিন্টু রহমান

মাওলানা আব্দুস সবুর (বিদেশী হুজুর)’র জানাজায় মানুষের ঢল

Update Time : ০৭:৫৫:৫৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৯ মে ২০২৬
Print

জকিগঞ্জ উপজেলার প্রতিনিধি:

জকিগঞ্জের খ্যাতনামা আলেমেদ্বীন, প্রাজ্ঞ মুহাদ্দিস ও হাজারো আলেমের প্রিয় উস্তাদ মাওলানা আব্দুস সবুর (বিদেশী হুজুর)’র জানাজা মঙ্গলবার (১৯ মে) বিকাল সাড়ে ৫টায় তাঁর দীর্ঘদিনের কর্মস্থল জকিগঞ্জের মুনশীবাজার মাদরাসা প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়েছে। জানাজায় ইমামতি করেন তাঁর বড় জামাতা মাওলানা হাবিব আহমদ শিহাব। জানাজায় অংশ নিতে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে ছুটে আসেন তাঁর হাজারো ছাত্র, ভক্ত, মুরিদ, সহকর্মী ও ধর্মপ্রাণ মুসল্লিগণ। প্রিয় উস্তাদকে শেষবারের মতো এক নজর দেখার আশায় জোহরের পর থেকেই মাদরাসা প্রাঙ্গণে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। কান্নায় ভেঙে পড়েন ছাত্র, শুভানুধ্যায়ী ও এলাকাবাসী। মরহুম মাওলানা আব্দুস সবুর সাহেব ছিলেন উপমহাদেশের প্রখ্যাত আলেমেদ্বীন, খলিফায়ে মাদানী আল্লামা মামরখানী রহ. এর ভাগিনা ও ভাতিজি জামাই। তিনি দীর্ঘ কয়েক দশক যাবৎ মুনশীবাজার মাদরাসার সিনিয়র মুহাদ্দিস হিসেবে দ্বীনি খেদমতে নিয়োজিত ছিলেন। ইলমি জগতে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা, বিনয়ী চরিত্র ও ছাত্রগঠনে অসামান্য অবদান তাঁকে সর্বমহলে সম্মানিত ব্যক্তিত্বে পরিণত করেছিল। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, তিনি দীর্ঘদিন ধরে বার্ধক্যজনিত বিভিন্ন রোগে ভুগছিলেন। গতকাল বিকেলে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে রিলিজ নিয়ে বাড়িতে ফেরার পর মঙ্গলবার (১৯ মে) সকাল ৮টা ৩০ মিনিটে নিজ বাড়িতে ইন্তেকাল করেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। তাঁর ইন্তেকালে ইলমি অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর ইলমি খেদমত, আদর্শিক জীবনধারা ও মেধাবী ছাত্রগঠন আজও বহু প্রতিষ্ঠানের মূল ভিত্তি হিসেবে কাজ করছে। তিনি দীর্ঘ ২৮ বছর নিজ মহল্লার মসজিদের মুতাওয়াল্লী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়াও মুনশীবাজার মাদরাসার ছাত্র সংসদের দীর্ঘদিনের সভাপতির দায়িত্বও পালন করেন। জানাজা পূর্ববর্তী সংক্ষিপ্ত বক্তব্যে মুনশীবাজার মাদরাসার শায়খুল হাদীস মাওলানা মুফতি মাহমুদ হুসাইন বলেন, “আজ আমরা এক অমূল্য সম্পদকে হারালাম। আমার দেখা মতে তিনি ছিলেন একজন নিষ্ঠাবান মুহাদ্দিস। প্রবাস থেকে ছুটিতে দেশে আসার পর পুনরায় কর্মস্থলে ফিরে যাওয়ার কথা থাকলেও শায়খে মামরখানী রহ. এর অনুরোধে তিনি প্রবাসে না গিয়ে দ্বীনি খেদমতে আত্মনিয়োগ করেন।” বক্তারা বলেন, মরহুম মাওলানা আব্দুস সবুর (বিদেশী হুজুর) ছিলেন ইলম, আমল, তাকওয়া ও বিনয়ের এক উজ্জ্বল প্রতীক। তিনি সারাজীবন দ্বীনের খেদমত, ছাত্রগঠন ও মানুষের কল্যাণে নিজেকে উৎসর্গ করেছিলেন। তাঁর দরস ছিল অত্যন্ত হৃদয়স্পর্শী, যার মাধ্যমে অসংখ্য আলেম দ্বীনের সঠিক দিকনির্দেশনা লাভ করেছেন। বক্তারা আরও বলেন, তিনি কখনো পদ-পদবী কিংবা দুনিয়াবি মোহের প্রতি আকৃষ্ট ছিলেন না। অত্যন্ত সাদাসিধে জীবনযাপন করলেও ইলমি মর্যাদা ও আধ্যাত্মিক প্রভাবের দিক থেকে ছিলেন অনন্য উচ্চতায় আসীন। তাঁর ইন্তেকালে শুধু জকিগঞ্জ নয়, সমগ্র দেশের ইলমি অঙ্গনে এক অপূরণীয় শূন্যতার সৃষ্টি হয়েছে। তাঁরা মরহুমের রূহের মাগফিরাত কামনা করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবার, ছাত্র ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানান। জানাজা শেষে পারিবারিক কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হয়। তাঁর ইন্তেকালে সর্বস্তরের আলেম-উলামা, সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।