ঢাকা ০৫:০২ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১৩ জুন ২০২৬, ২৯ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সিলেটের জৈন্তাপুরে যুবদল নেতা পরিচয়ে ‘ব্রয়লার সেলিম’ সিন্ডিকেটের দাপটের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১১:১৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
  • ৩৬ Time View
Print

ঐতিহাসিক রাজবাড়ী ও মিনি স্টেডিয়াম ঘিরেও নানা অনিয়মের অভিযোগ
ফয়ছল কাদির, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান:
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জৈন্তাপুরে মাদক ব্যবসা, চোরাচালান এবং সরকারি স্থাপনা দখলের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, যুবদল নেতা পরিচয়ে পরিচিত ‘ব্রয়লার সেলিম’ নামে এক ব্যক্তি এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রয়লার সেলিম দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, সংশ্লিষ্টদের কল রেকর্ড ও যোগাযোগের তথ্য তদন্ত করলে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, সেলিমের প্রভাববলয়ে জৈন্তাপুরের জালাল বস্তি এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রায়ই ওই এলাকায় অবস্থান করেন এবং কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করেন। সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এসব কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে জৈন্তাপুর মিনি স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমির নামে এক ব্যক্তি স্টেডিয়ামের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে স্টেডিয়ামের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করছেন এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেডিয়াম এলাকায় অবৈধভাবে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট বিক্রির সঙ্গে আমির জড়িত এবং তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এ বিষয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব ছাড়াই একজন ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘদিন সরকারি স্থাপনায় অবস্থান করছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের তীর উঠেছে জৈন্তাপুরের ঐতিহাসিক জৈন্তা রাজবাড়ীকেও ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, রাজবাড়ীর বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে ব্যবহার এবং এর আশপাশের পরিবেশ বিনষ্টের পেছনেও একটি প্রভাবশালী চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে এলাকার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, জৈন্তাপুরে মাদক, চোরাচালান ও সরকারি স্থাপনা দখলের অভিযোগগুলো তদন্তে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি মিনি স্টেডিয়ামে আমিরের অবস্থান এবং কথিত মাদক নেটওয়ার্কের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ব্রয়লার সেলিম ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চুয়াডাঙ্গায় “৫ বছরে ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ” কর্মসূচি বাস্তবায়নে জেলা প্রশাসনের প্রস্তুতি সভা অনুষ্ঠিত

সিলেটের জৈন্তাপুরে যুবদল নেতা পরিচয়ে ‘ব্রয়লার সেলিম’ সিন্ডিকেটের দাপটের অভিযোগ

Update Time : ১১:১৯:১৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১২ জুন ২০২৬
Print

ঐতিহাসিক রাজবাড়ী ও মিনি স্টেডিয়াম ঘিরেও নানা অনিয়মের অভিযোগ
ফয়ছল কাদির, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো প্রধান:
সিলেটের সীমান্তবর্তী উপজেলা জৈন্তাপুরে মাদক ব্যবসা, চোরাচালান এবং সরকারি স্থাপনা দখলের মাধ্যমে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ উঠেছে একটি প্রভাবশালী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, যুবদল নেতা পরিচয়ে পরিচিত ‘ব্রয়লার সেলিম’ নামে এক ব্যক্তি এই সিন্ডিকেটের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ব্রয়লার সেলিম দীর্ঘদিন ধরে মাদকসেবনের সঙ্গে জড়িত। একই সঙ্গে চিহ্নিত মাদক কারবারিদের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রয়েছে বলেও দাবি করা হচ্ছে। স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার ভাষ্য, সংশ্লিষ্টদের কল রেকর্ড ও যোগাযোগের তথ্য তদন্ত করলে এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসতে পারে।
অভিযোগ রয়েছে, সেলিমের প্রভাববলয়ে জৈন্তাপুরের জালাল বস্তি এলাকায় প্রকাশ্যে মাদক ব্যবসা পরিচালিত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, তিনি প্রায়ই ওই এলাকায় অবস্থান করেন এবং কয়েকজন চিহ্নিত মাদক কারবারির সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে চলাফেরা করেন। সচেতন নাগরিকদের অভিযোগ, বিভিন্ন প্রভাবশালী মহলের সহযোগিতায় এসব কর্মকাণ্ড দীর্ঘদিন ধরে চললেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
এদিকে জৈন্তাপুর মিনি স্টেডিয়ামকে কেন্দ্র করেও নানা প্রশ্ন উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, আমির নামে এক ব্যক্তি স্টেডিয়ামের কোনো কর্মকর্তা বা কর্মচারী না হয়েও দীর্ঘদিন ধরে স্টেডিয়ামের দ্বিতীয় তলায় অবস্থান করছেন এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, স্টেডিয়াম এলাকায় অবৈধভাবে নেশাজাতীয় ট্যাবলেট বিক্রির সঙ্গে আমির জড়িত এবং তিনি একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রছায়ায় এসব কার্যক্রম পরিচালনা করছেন। রাজনৈতিক প্রভাবের কারণে এ বিষয়ে অনেকে প্রকাশ্যে কথা বলতে সাহস পান না বলেও অভিযোগ রয়েছে। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক দায়িত্ব ছাড়াই একজন ব্যক্তি কীভাবে দীর্ঘদিন সরকারি স্থাপনায় অবস্থান করছেন, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগের তীর উঠেছে জৈন্তাপুরের ঐতিহাসিক জৈন্তা রাজবাড়ীকেও ঘিরে। স্থানীয়দের দাবি, রাজবাড়ীর বিভিন্ন অংশ অবৈধভাবে ব্যবহার এবং এর আশপাশের পরিবেশ বিনষ্টের পেছনেও একটি প্রভাবশালী চক্রের সম্পৃক্ততা রয়েছে। ফলে এলাকার ঐতিহাসিক ঐতিহ্য ও প্রত্নসম্পদ হুমকির মুখে পড়েছে বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
দীর্ঘদিন ধরে এসব অভিযোগের বিষয়ে দৃশ্যমান কোনো প্রতিকার না পাওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, জৈন্তাপুরে মাদক, চোরাচালান ও সরকারি স্থাপনা দখলের অভিযোগগুলো তদন্তে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হোক। পাশাপাশি মিনি স্টেডিয়ামে আমিরের অবস্থান এবং কথিত মাদক নেটওয়ার্কের বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সত্য উদ্ঘাটন ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে বক্তব্য নেওয়ার জন্য অভিযুক্ত ব্রয়লার সেলিম ও সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।