
নিজস্ব প্রতিবেদক, ভোলা:
ভোলা জেলার ধলীগৌরনগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত ধলীগৌরনগর দাখিল মাদ্রাসাকে ঘিরে সরকারি পাঠ্যবই সরিয়ে বিক্রির অভিযোগে এলাকাজুড়ে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি বই গোপনে সরিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মাদ্রাসার কয়েকজন কর্মচারীর বিরুদ্ধে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত ১৪ জুন ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৭টার দিকে ২০২৫-২০২৬ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থীদের জন্য বরাদ্দকৃত প্রায় ১৮ মণ সরকারি পাঠ্যবই মাদ্রাসা প্রাঙ্গণ থেকে সরিয়ে নেওয়ার সময় দপ্তরি আঃ অহিত ও পিয়ন সুমন হাংকে স্থানীয় জনতা বইসহ আটক করে বলে অভিযোগ রয়েছে।
এলাকাবাসীর দাবি, বই বহনের সময়কার একাধিক ভিডিও ফুটেজ তাদের কাছে সংরক্ষিত রয়েছে। ভিডিওগুলোতে সরকারি বই স্থানান্তরের দৃশ্য স্পষ্টভাবে দেখা যায় বলে তারা জানান। প্রয়োজনে এসব ভিডিও তদন্তকারী সংস্থার কাছে হস্তান্তর করা হবে বলেও জানান তারা।
স্থানীয় অভিভাবক মো. আব্দুল করিম বলেন,
“অনেক শিক্ষার্থী এখনও সব বই হাতে পায়নি। অথচ শিক্ষার্থীদের বই বাইরে নেওয়ার ঘটনা অত্যন্ত দুঃখজনক। বিষয়টির নিরপেক্ষ তদন্ত হওয়া দরকার।”
আরেক অভিভাবক বলেন,
“সরকার শিক্ষার্থীদের বিনামূল্যে বই দিচ্ছে, সেখানে যদি বই বিক্রির চেষ্টা হয়ে থাকে, তাহলে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
স্থানীয় বাসিন্দা মো. রফিকুল ইসলাম জানান,
“ঘটনার সময় কয়েকজন মিলে বই বহনের বিষয়টি দেখতে পাই। পরে এলাকাবাসী এগিয়ে এসে বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন তোলে। প্রশাসন তদন্ত করলে প্রকৃত সত্য বেরিয়ে আসবে।”
এদিকে অভিযোগের খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তারা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
তবে এ বিষয়ে অভিযুক্ত দপ্তরি আঃ অহিত ও পিয়ন সুমন হাংকের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্যও এখনও জানা যায়নি।
ঘটনার সত্যতা যাচাই এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।
Reporter Name 


















