
এম.এ আরিফ চৌধুরী, স্টাফ রিপোর্টার:
ভালোবাসার টানে পরিবারের অমতে ঢাকা থেকে অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে রাজবাড়ীর পাংশায় চলে আসে পঞ্চম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে পড়ুয়া দুই শিশু। তাদের সঙ্গে ছিল প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া আরেক বন্ধু। গভীর রাতে অ্যাম্বুলেন্সে এত অল্পবয়সী শিশুদের দেখে পুলিশের সন্দেহ হলে তাদের উদ্ধার করে থানায় নেওয়া হয়। পরে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে শিশুদের নিরাপদে ফিরিয়ে দেওয়ার উদ্যোগ নেয় পুলিশ।
পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ঢাকার মিরপুর এলাকার একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাহুল স্থানীয় একটি হোটেলে খণ্ডকালীন কাজ করত। সেখানে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী মাহির সঙ্গে তার পরিচয় হয়। পরিচয়ের একপর্যায়ে তাদের মধ্যে সখ্য গড়ে ওঠে, যা পরে শিশুতোষ প্রেমের সম্পর্কে রূপ নেয়। পরিবারের আপত্তির কারণে তারা বাড়ি থেকে পালিয়ে বিয়ের উদ্দেশ্যে রাজবাড়ীর পাংশায় যাওয়ার পরিকল্পনা করে।
গত সোমবার দিবাগত রাতে তারা প্রথম শ্রেণিতে পড়ুয়া তাদের বন্ধু রোজানকে সঙ্গে নিয়ে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে ঢাকা থেকে রওনা দেয়।
মঙ্গলবার ভোরে পাংশা সরদার বাসস্ট্যান্ড এলাকায় পৌঁছালে টহলরত পুলিশের নজরে আসে বিষয়টি। সন্দেহ হলে পুলিশ তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করে এবং পরে থানায় নিয়ে যায়।
জিজ্ঞাসাবাদে দুই শিশু জানায়, তারা একে অপরকে ভালোবাসে এবং বিয়ে করতে চায়। পরিবারের সম্মতি না পাওয়ায় তারা বাড়ি ছেড়ে চলে এসেছে। অন্যদিকে তাদের সঙ্গে থাকা বন্ধু রোজান জানায়, সে শুরুতে পুরো বিষয়টি জানত না; পথিমধ্যে এসে বিষয়টি বুঝতে পারে।
পরে শিশুদের কাছে থাকা মোবাইল ফোনের সূত্র ধরে পুলিশ তাদের পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে। পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে সন্তানদের শনাক্ত করেন।
পাংশা মডেল থানা পুলিশের দায়িত্বশীল কর্মকর্তারা জানান, শিশুদের নিরাপত্তার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হয়েছে। তাদের কোনো ধরনের শারীরিক ক্ষতি হয়নি। আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অভিভাবকদের জিম্মায় শিশুদের হস্তান্তরের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে অভিভাবকদের সন্তানদের প্রতি আরও যত্নশীল হওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, এত অল্প বয়সে শিশুদের এমন সিদ্ধান্ত উদ্বেগজনক। পরিবার, বিদ্যালয় ও সমাজকে শিশুদের মানসিক বিকাশ, নিরাপদ ব্যবহার এবং প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহারের বিষয়ে আরও সচেতন হতে হবে। তারা মনে করেন, শিশুদের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ, পারিবারিক বন্ধন এবং নৈতিক শিক্ষা জোরদার করা হলে এ ধরনের ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শিশুদের আবেগকে গুরুত্ব দিয়ে তাদের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা এবং প্রয়োজনীয় মানসিক সহায়তা প্রদান করা বর্তমান সময়ে অত্যন্ত জরুরি।
Reporter Name 



















