ঢাকা ১২:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ৬

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ২৯ Time View
Print

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:

পটুয়াখালীর দক্ষিন-পূর্ব  বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়ে ১১ জন জেলেসহ একটি মাছ ধরার ফিশিং ট্রলার ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত রোববার দিবাগত রাতে গভীর সমুদ্রে এই আকস্মিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর পাঁচজন জেলে কোনোমতে জীবিত ফিরে আসতে পারলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অপর ৬ জন জেলে। নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড, মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে সাগরে জোরদার উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় ও মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. এমদাদুল সিকদারের মালিকানাধীন একটি ট্রলার গত রোববার রাতে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সাগরের অভিমুখে রওনা হয়। কিন্তু সাগরে পৌঁছানোর পর হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে এবং প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি সাগরে তলিয়ে যায়। ট্রলারে থাকা মোট ১১ জন জেলের মধ্যে ৫ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ছয়জন সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে যান।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন—পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের মো. হারুন হাওলাদার, পশ্চিম তুলারাম গ্রামের মো. এমদাদুল খাঁন, গজালিয়ার ইছাদী গ্রামের মো. সায়েম, মো. ফোরকান সিকদার ও মো. আল-আমিন এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মো. আকাশ। জানা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার হওয়া এবং জীবিত ফিরে আসা সব জেলের বাড়িই গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূলত সাগরের প্রতিকূল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে গলাচিপা, কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড এবং স্থানীয় জেলেদের একাধিক ট্রলার সাগরে সমন্বিতভাবে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে এই দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার খবর পেয়ে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুরের পক্ষ থেকে তাঁর স্থানীয় প্রতিনিধি আবু নাইম ক্ষতিগ্রস্ত ও নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় তাঁর সাথে গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী, পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি দল নিখোঁজদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর নিজে ঢাকা থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে বেঁচে যাওয়া ট্রলারের মালিক এমদাদুল সিকদারের সাথে কথা বলেন এবং দুর্ঘটনার সার্বিক খোঁজখবর নেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে প্রশাসন ও কোস্ট গার্ডকে প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার কাজ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেই সাথে এই অঞ্চলে ঘন ঘন ট্রলারডুবির ঘটনার কথা উল্লেখ করে, দুর্যোগপূর্ণ ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ছোট আকারের ট্রলার নিয়ে জেলেদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

চরফ্যাশনে মাদ্রাসা সুপারের এিশ লক্ষ টাকার বিনিময়ে গায়েবী নিয়োগ।

উত্তাল বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবি, নিখোঁজ ৬

Update Time : ১২:৪২:০০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
Print

খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:

পটুয়াখালীর দক্ষিন-পূর্ব  বঙ্গোপসাগরে বৈরী আবহাওয়ার মুখে পড়ে ১১ জন জেলেসহ একটি মাছ ধরার ফিশিং ট্রলার ডুবে যাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। গত রোববার দিবাগত রাতে গভীর সমুদ্রে এই আকস্মিক দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনার পর পাঁচজন জেলে কোনোমতে জীবিত ফিরে আসতে পারলেও এখনো নিখোঁজ রয়েছেন অপর ৬ জন জেলে। নিখোঁজদের উদ্ধারে কোস্ট গার্ড, মৎস্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বয়ে সাগরে জোরদার উদ্ধার অভিযান চালানো হচ্ছে।

স্থানীয় ও মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, গলাচিপা উপজেলার পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকার বাসিন্দা মো. এমদাদুল সিকদারের মালিকানাধীন একটি ট্রলার গত রোববার রাতে মাছ ধরার উদ্দেশ্যে গভীর সাগরের অভিমুখে রওনা হয়। কিন্তু সাগরে পৌঁছানোর পর হঠাৎ আবহাওয়া খারাপ হতে শুরু করে এবং প্রচণ্ড ঝড়ো হাওয়ার কবলে পড়ে ট্রলারটি সাগরে তলিয়ে যায়। ট্রলারে থাকা মোট ১১ জন জেলের মধ্যে ৫ জনকে তাৎক্ষণিকভাবে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও বাকি ছয়জন সাগরের উত্তাল ঢেউয়ে ভেসে যান।

নিখোঁজ জেলেরা হলেন—পানপট্টি ইউনিয়নের খরিদা গ্রামের মো. হারুন হাওলাদার, পশ্চিম তুলারাম গ্রামের মো. এমদাদুল খাঁন, গজালিয়ার ইছাদী গ্রামের মো. সায়েম, মো. ফোরকান সিকদার ও মো. আল-আমিন এবং গলাচিপা সদর ইউনিয়নের পক্ষিয়া গ্রামের মো. আকাশ। জানা গেছে, দুর্ঘটনার শিকার হওয়া এবং জীবিত ফিরে আসা সব জেলের বাড়িই গলাচিপা উপজেলার বিভিন্ন গ্রামে।

গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মূলত সাগরের প্রতিকূল ও বৈরী আবহাওয়ার কারণেই এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে। নিখোঁজ জেলেদের সন্ধানে গলাচিপা, কলাপাড়া ও রাঙ্গাবালী উপজেলা প্রশাসন, মৎস্য বিভাগ, কোস্ট গার্ড এবং স্থানীয় জেলেদের একাধিক ট্রলার সাগরে সমন্বিতভাবে তল্লাশি অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। নিখোঁজদের দ্রুত উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা অব্যাহত রয়েছে বলে তিনি জানান।

এদিকে এই দুর্ঘটনার পর নিখোঁজ জেলেদের পরিবারে চরম উদ্বেগ ও শোকের ছায়া নেমে এসেছে। ঘটনার খবর পেয়ে পটুয়াখালী-৩ (গলাচিপা-দশমিনা) আসনের সংসদ সদস্য ও প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুরের পক্ষ থেকে তাঁর স্থানীয় প্রতিনিধি আবু নাইম ক্ষতিগ্রস্ত ও নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে যান। এ সময় তাঁর সাথে গলাচিপা উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মো. জহিরুন্নবী, পানপট্টি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মাসুদ রানা, সাবেক চেয়ারম্যান আবুল কালামসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।

প্রতিনিধি দল নিখোঁজদের স্বজনদের সান্ত্বনা দেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস প্রদান করেন। এছাড়া প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক নুর নিজে ঢাকা থেকে ভিডিও কলের মাধ্যমে বেঁচে যাওয়া ট্রলারের মালিক এমদাদুল সিকদারের সাথে কথা বলেন এবং দুর্ঘটনার সার্বিক খোঁজখবর নেন। প্রতিমন্ত্রী জানান, নিখোঁজদের উদ্ধারে প্রশাসন ও কোস্ট গার্ডকে প্রয়োজনীয় সব নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার কাজ সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। সেই সাথে এই অঞ্চলে ঘন ঘন ট্রলারডুবির ঘটনার কথা উল্লেখ করে, দুর্যোগপূর্ণ ও বৈরী আবহাওয়ার মধ্যে ছোট আকারের ট্রলার নিয়ে জেলেদের গভীর সমুদ্রে না যাওয়ার জন্য তিনি বিশেষভাবে অনুরোধ জানান।