ঢাকা ০২:০৯ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২০ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ঝিনাইদহ ১১ কোটি টাকার আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধন,

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৪৮ Time View
Print

শারমিন আরা,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহ পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কসাইখানা (স্লটার হাউস)।

আজ ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধন করা হয়।

এই যুগান্তকারী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঝিনাইদহবাসী আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন মাননীয় আইনমন্ত্রী জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান-এর প্রতি। সেই সাথে বিশেষ ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে সাবেক পৌর মেয়র জনাব কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল সাহেবকে, যাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, মেধা, অর্থ ও সময়ের বিনিময়ে ঝিনাইদহবাসী আজ এই আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত কসাইখানা উপহার পেয়েছে।

তাঁর এই অবদান পৌরবাসী আজীবন স্মরণ রাখবে।

উদ্বোধন শেষে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সনাতন পদ্ধতির নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অবসান ঘটিয়ে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে এখানে পশু জবাই এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হবে।
কসাইখানায় পশু প্রবেশের পর প্রথমেই অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন দ্বারা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। কোনো অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু জবাই করতে দেওয়া হবে না।

হিউম্যান কিলিং বক্স (মানবিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণ): পশুকে কোনো রকম নিষ্ঠুরতা ছাড়াই আধুনিক ‘কিলিং বক্স’-এ নিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং ধর্মীয় বিধি মেনে (হালাল উপায়ে) জবাই করা হবে।

মেকানিক্যাল কনভেয়র বেল্ট: জবাইয়ের পর পশুকে স্বয়ংক্রিয় ক্রেন বা কনভেয়র বেল্টের সাহায্যে ওপরে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। মাটিতে ফেলে চামড়া ছড়ানো বা মাংস কাটার কোনো সুযোগ নেই, যার ফলে মাংস থাকবে সম্পূর্ণ ধুলোবালি ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত।

বর্জ্য নিষ্কাশন ও ইটিপি প্ল্যান্ট: আধুনিক এই কসাইখানায় রয়েছে নিজস্ব ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ETP)। পশু জবাইয়ের পর রক্ত ও অন্যান্য তরল বর্জ্য সরাসরি এই প্ল্যান্টে গিয়ে পরিশোধিত হবে।

ফলে চারপাশের পরিবেশ বা ড্রেনে কোনো দুর্গন্ধ ছড়াবে না।
কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা: মাংসের গুণগত মান ও সতেজতা বজায় রাখার জন্য এখানে রয়েছে আধুনিক চিলার ও কোল্ড স্টোরেজ রুম।

এটি ঝিনাইদহের জন্য একটি মাইলফলক
“এতদিন উন্মুক্ত স্থানে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাইয়ের কারণে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হতো, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ পেতো জীবাণুযুক্ত মাংস।

এই ১১ কোটি টাকার আধুনিক কসাইখানা চালুর ফলে ঝিনাইদহবাসী এখন থেকে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে স্বাস্থ্যসম্মত, পরিচ্ছন্ন ও হালাল মাংসের নিশ্চয়তা পাবেন।

পৌরবাসীর মতে, আধুনিক ও স্মার্ট ঝিনাইদহ বিনির্মাণে সাবেক মেয়র জনাব কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল সাহেবের দূরদর্শী চিন্তা এবং মাননীয় আইনমন্ত্রীর সহযোগিতা এই শহরকে দেশের অন্যান্য পৌরসভার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে নিলো।
আজ ১৭ জুন ২০২৬ তারিখটি ঝিনাইদহের উন্নয়ন ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদ প্রকাশের জেরে জাতীয় সাপ্তাহিক ‘তদন্ত রিপোর্ট’-এর ভারপ্রাপ্ত সম্পাদক ও নির্বাহী সম্পাদকসহ ৩ জনের বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা: বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাব (B.C.P.C)-এর তীব্র নিন্দা ও ক্ষোভ প্রকাশ।

ঝিনাইদহ ১১ কোটি টাকার আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধন,

Update Time : ০৯:২৪:০৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
Print

শারমিন আরা,ঝিনাইদহ জেলা প্রতিনিধি:

ঝিনাইদহ পৌরবাসীর দীর্ঘদিনের প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করলো ১১ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত সর্বাধুনিক প্রযুক্তিসম্পন্ন কসাইখানা (স্লটার হাউস)।

আজ ১৭ জুন, ২০২৬ তারিখে এক জমকালো অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আধুনিক কসাইখানার উদ্বোধন করা হয়।

এই যুগান্তকারী প্রকল্প বাস্তবায়নের জন্য ঝিনাইদহবাসী আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছেন মাননীয় আইনমন্ত্রী জনাব মোঃ আসাদুজ্জামান-এর প্রতি। সেই সাথে বিশেষ ধন্যবাদ ও গভীর কৃতজ্ঞতা জানানো হচ্ছে সাবেক পৌর মেয়র জনাব কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল সাহেবকে, যাঁর অক্লান্ত পরিশ্রম, মেধা, অর্থ ও সময়ের বিনিময়ে ঝিনাইদহবাসী আজ এই আধুনিক ও স্বাস্থ্যসম্মত কসাইখানা উপহার পেয়েছে।

তাঁর এই অবদান পৌরবাসী আজীবন স্মরণ রাখবে।

উদ্বোধন শেষে সরেজমিনে ঘুরে দেখা গেছে, সনাতন পদ্ধতির নোংরা ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের অবসান ঘটিয়ে সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় ও বৈজ্ঞানিক উপায়ে এখানে পশু জবাই এবং মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ করা হবে।
কসাইখানায় পশু প্রবেশের পর প্রথমেই অভিজ্ঞ ভেটেরিনারি সার্জন দ্বারা পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হবে। কোনো অসুস্থ বা রোগাক্রান্ত পশু জবাই করতে দেওয়া হবে না।

হিউম্যান কিলিং বক্স (মানবিক উপায়ে নিয়ন্ত্রণ): পশুকে কোনো রকম নিষ্ঠুরতা ছাড়াই আধুনিক ‘কিলিং বক্স’-এ নিয়ে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে এবং ধর্মীয় বিধি মেনে (হালাল উপায়ে) জবাই করা হবে।

মেকানিক্যাল কনভেয়র বেল্ট: জবাইয়ের পর পশুকে স্বয়ংক্রিয় ক্রেন বা কনভেয়র বেল্টের সাহায্যে ওপরে ঝুলিয়ে দেওয়া হবে। মাটিতে ফেলে চামড়া ছড়ানো বা মাংস কাটার কোনো সুযোগ নেই, যার ফলে মাংস থাকবে সম্পূর্ণ ধুলোবালি ও ব্যাকটেরিয়ামুক্ত।

বর্জ্য নিষ্কাশন ও ইটিপি প্ল্যান্ট: আধুনিক এই কসাইখানায় রয়েছে নিজস্ব ইফ্লুয়েন্ট ট্রিটমেন্ট প্ল্যান্ট (ETP)। পশু জবাইয়ের পর রক্ত ও অন্যান্য তরল বর্জ্য সরাসরি এই প্ল্যান্টে গিয়ে পরিশোধিত হবে।

ফলে চারপাশের পরিবেশ বা ড্রেনে কোনো দুর্গন্ধ ছড়াবে না।
কোল্ড স্টোরেজ সুবিধা: মাংসের গুণগত মান ও সতেজতা বজায় রাখার জন্য এখানে রয়েছে আধুনিক চিলার ও কোল্ড স্টোরেজ রুম।

এটি ঝিনাইদহের জন্য একটি মাইলফলক
“এতদিন উন্মুক্ত স্থানে বা অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে পশু জবাইয়ের কারণে একদিকে যেমন পরিবেশ দূষিত হতো, অন্যদিকে সাধারণ মানুষ পেতো জীবাণুযুক্ত মাংস।

এই ১১ কোটি টাকার আধুনিক কসাইখানা চালুর ফলে ঝিনাইদহবাসী এখন থেকে শতভাগ নিশ্চিত হয়ে স্বাস্থ্যসম্মত, পরিচ্ছন্ন ও হালাল মাংসের নিশ্চয়তা পাবেন।

পৌরবাসীর মতে, আধুনিক ও স্মার্ট ঝিনাইদহ বিনির্মাণে সাবেক মেয়র জনাব কাইয়ুম শাহরিয়ার জাহেদী হিজল সাহেবের দূরদর্শী চিন্তা এবং মাননীয় আইনমন্ত্রীর সহযোগিতা এই শহরকে দেশের অন্যান্য পৌরসভার চেয়ে এক ধাপ এগিয়ে নিলো।
আজ ১৭ জুন ২০২৬ তারিখটি ঝিনাইদহের উন্নয়ন ইতিহাসে একটি স্মরণীয় দিন হয়ে থাকবে।