
অতুল সরকারঃ রাজবাড়ী প্রতিনিধি:
পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে ইরাকের পথে যাত্রা শুরু করেছিলেন, রাজবাড়ীর কালুখালী উপজেলার ছিরু মন্ডলের একমাত্র পুত্র শান্ত মণ্ডল। দালাল চক্রের প্রতারণার শিকার হয়ে ইরান হয়ে ইরাকে নেওয়ার পথে ইরানী সেনাবাহিনীর গুলিতে গুরুতর আহত হন তিনি। মৃত্যুর মুখ থেকে অসুস্থ অবস্থায় দেশে ফিরে এলেও এখন ব্যয়বহুল চিকিৎসা, ঋণের বোঝা ও অনিশ্চিত ভবিষ্যতের চিন্তায় দিশেহারা তার পরিবার।
শান্ত মণ্ডল কালুখালী উপজেলার সাওরাইল ইউনিয়নের কুমরীরানী গ্রামের ভ্যান চালক ছিরু মণ্ডলের একমাত্র পুত্র। এস এস সি পাস করে ভ্যান চালক অসুস্থ বাবার চিকিৎসা ও সংসারের হাল ধরতে বিদেশ যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন শান্ত। দালালদের সঙ্গে সাড়ে সাত লাখ টাকার চুক্তিতে গত ২০ এপ্রিল ইরাকের উদ্দেশে দেশ ছাড়েন তিনি।
কিন্তু দুবাই পৌঁছানোর পর তাকে পাকিস্তানের করাচিতে নিয়ে একটি কক্ষে জিম্মি করে পরিবারের কাছ থেকে আরও প্রায় আড়াই লাখ টাকা আদায় করা হয়। পরে নদী, সমুদ্র, পাহাড় ও সড়কপথ পেরিয়ে সাত দিন ধরে অবৈধভাবে ইরানে নেওয়া হয় শান্তসহ পাঁচজন’কে।
ইরানের স্পান শহর পেরিয়ে তেহরানের পথে যেতে তাদের বহনকারী একটি মাইক্রোবাসকে সেনাবাহিনী থামার সংকেত দেয়। চালক পালানোর চেষ্টা করলে গুলি চালানো হয় ঐ গাড়িটি লক্ষ করে। এতে শান্তর বাম বুকের পাঁজর ও বাম হাতে গুলি লাগে। পরে বাংলাদেশ দূতাবাস ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (IOM)-এর সহযোগিতায় গত ৩০ জুন দেশে ফেরেন তিনি।
চিকিৎসকদের মতে, গুলির আঘাতে শান্তর প্লীহা অপসারণ করতে হয়েছে। পুরোপুরি সুস্থ হতে আরও তিন থেকে চার লাখ টাকা প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন ডাক্তার।
শান্তর বাবা ছিরু মণ্ডল জানান, ধারদেনা করে ছেলেকে বিদেশ পাঠিয়েছিলাম। ভেবেছিলাম সে আয় করে সংসার চালাবে, আমার চিকিৎসা করাবে। এখন আমাকেই অসুস্থ শরীর নিয়ে ভ্যান চালিয়ে ছেলের চিকিৎসার খরচই বহন করতে হচ্ছে । দালালদের বিচার ও আমাদের টাকা ফেরত চাই বলে অশ্রু সিক্ত কন্ঠে জানান তিনি।
আমার এতো পরিচিত সুজানগর গ্রামের রবিউলের মাধ্যমে টাকা দিয়ে আজ আমার এই অবস্থা।
মা সাবিনা বেগম কান্নাজড়িত কন্ঠে বলেন, সুখের আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়ে এখন আমার সোনার টুকরো সন্তান গুলিবিদ্ধ হয়ে আমার বুকে ফিরে এসেছে। আল্লাহর কাছে শুকরিয়া, ছেলে বেঁচে ফিরেছে। এখন তার চিকিৎসার জন্য সবার সহযোগিতা চাই।
শান্তর বড় বোন লাবনী বলেন, পাকিস্তানে আটকে রাখার সময় তারা বারবার দালালদের কাছে ভাইকে দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ করেছিলেন। কিন্তু তাদের কোনো আবেদনই শোনেনি তারা। গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শান্তর প্লীহা অপসারণ করতে হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, উন্নত চিকিৎসা ছাড়া তার পুরোপুরি সুস্থ হয়ে ওঠা কঠিন।
স্থানীয়দের দাবি, মানব পাচারের সঙ্গে জড়িত দালালদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্ত মূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি বিদেশ পাঠানোর নামে নেওয়া অর্থ উদ্ধার করে শান্তর পরিবারের হাতে ফিরিয়ে দেওয়া এবং তার চিকিৎসার জন্য সরকারি সহায়তার ব্যবস্থা করতে হবে।
প্রাণে বেঁচে ছেলেকে ফিরে পাওয়ায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করছে পরিবার। তবে বিদেশে যেতে নেওয়া ঋণ, বাবার চিকিৎসা এবং শান্তর ব্যয়বহুল চিকিৎসার খরচ মিলিয়ে তারা এখন দিশেহারা। পরিবারের আশা, সরকারের সহযোগিতা ও সমাজের বৃত্তবান মানুষের সহায়তায় শান্ত আবার স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন।
অভিযুক্ত রবিউল ইসলামের মা বলেন, আমার ছেলে কোন দালাল নয় সে তোফানের মাধ্যমে বিদেশ নিয়েছে। শান্ত ও আমার ছেলের ভায়রার ছেলে সহ তারা এক সাথেই ছিল, আমার বাড়ি থেকে তুফানের ভাই হৃদয় এসে টাকা নিয়েছে, তার ভিডিও প্রমান রয়েছে, পাকিস্তানে জিম্মি করে যে টাকা নিয়েছে সে ছিল তুফান যা পাংশা ইসলামি ব্যাংকের মাধ্যমে তুফানের মা মাজেদা বেগমের একাউন্টে পাঠানো হয়।
স্থানীয়রাও বলেন আসলে মুল দালাল হলো তুফান রবিউল মিডিয়া ছিল, সে অসুস্থ হয়ে দির্ঘদিন ধরে ভারতের ভেলুরে চিকিৎসা নিচ্ছে।
শান্তর পরিবার ও স্থানীয়দের দাবী দ্রুত সময়ের মধ্যে এ ঘটনার সঠিক বিচার সহ ক্ষতিগ্রস্ত শান্তর পরিবার তাদের কষ্টার্জিত অর্থ, ফিরে পাওয়া সহ সু চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক শান্তর।
Reporter Name 
















