
ফয়ছল কাদির, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো চীফ :
সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট বিক্রি কার্যক্রমে অনিয়ম, দালাল চক্রের দৌরাত্ম্য এবং যাত্রী হয়রানির অভিযোগ নতুন করে আলোচনায় এসেছে। ভুক্তভোগী যাত্রীদের অভিযোগ, সিলেট স্টেশন থেকে কাউন্টারের মাধ্যমে বৈধভাবে টিকিট কেনার পরও ঢাকা রেলওয়ে স্টেশনে গিয়ে সেই টিকিটকে অবৈধ বলে দাবি করে পুনরায় ভাড়া আদায় করা হচ্ছে। এমন অভিযোগে যাত্রীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, কাউন্টার থেকে নির্ধারিত মূল্যে টিকিট কেনার পর ট্রেনে ভ্রমণ শেষে ঢাকা স্টেশনে টিকিট যাচাইয়ের সময় কিছু যাত্রীকে জানানো হয়, তাদের টিকিট সিস্টেমে বৈধ নয়। এরপর নতুন করে ভাড়া পরিশোধ করতে বলা হয়। এতে একদিকে আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন যাত্রীরা, অন্যদিকে বৈধ টিকিট থাকা সত্ত্বেও হয়রানির শিকার হচ্ছেন বলে অভিযোগ তাদের।
এদিকে দীর্ঘদিন ধরেই সিলেট রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারকে ঘিরে নানা অনিয়মের অভিযোগ রয়েছে। যাত্রীদের ভাষ্য, বিশেষ করে ঈদ, ছুটি কিংবা অন্যান্য উৎসবের সময় কাউন্টারে টিকিট সংকট দেখানো হলেও কিছুক্ষণ পর অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে একই গন্তব্যের টিকিট পাওয়া যায়। এ ঘটনায় সংঘবদ্ধ দালাল চক্রের সম্পৃক্ততার অভিযোগও তুলেছেন অনেক যাত্রী।
স্টেশনে নিয়মিত যাতায়াতকারী কয়েকজন যাত্রীর অভিযোগ, ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়েও টিকিট না পেয়ে ফিরে যেতে হয়। অথচ স্টেশনের আশপাশে অবস্থানকারী কিছু ব্যক্তি অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে সহজেই টিকিটের ব্যবস্থা করে দেওয়ার প্রস্তাব দেন। এতে সাধারণ যাত্রীরা প্রশ্ন তুলছেন—যদি কাউন্টারে টিকিট না থাকে, তাহলে দালালদের কাছে টিকিট আসে কীভাবে?
সচেতন নাগরিকদের মতে, বিষয়টি শুধু টিকিট সংকটের নয়; বরং টিকিট বিক্রির পুরো ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহির প্রশ্নও সামনে এসেছে। তারা মনে করেন, কাউন্টারের প্রতিটি টিকিট বিক্রি ডিজিটালভাবে পর্যবেক্ষণ, সিসিটিভি নজরদারি জোরদার, দালাল চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত অভিযান এবং অভিযোগ নিষ্পত্তির কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা জরুরি।
এদিকে সিলেট থেকে ইস্যু করা টিকিট নিয়ে ঢাকায় যাত্রীদের হয়রানির অভিযোগ সত্য হলে এর পেছনে কারিগরি ত্রুটি, জাল টিকিট চক্র নাকি অন্য কোনো অনিয়ম রয়েছে—তা খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। রেলওয়ের সংশ্লিষ্ট বিভাগকে এ বিষয়ে দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটনের আহ্বান জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা।
এই সকল অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের বক্তব্য জানার চেষ্টা করা হলেও প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত স্টেশন ম্যানেজারের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলে কল রিসিভ হয়নি,
এতে তাদের আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের চিহ্নিত করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ভবিষ্যতে যাত্রী হয়রানি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন যাত্রী ও সচেতন মহল।
Reporter Name 
















