
ইব্রাহিম খলিল, পাবনা জেলা প্রতিনিধি:
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার শ্রীকান্তপুর গ্রামে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অটোরিকশা রাস্তার পাশের গাছে ধাক্কা লেগে দুই শিশুসহ ৬ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাদের পাবনা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে উপজেলার শ্রীকান্তপুর গ্রামের আব্দুল হামিদের বাড়ি সংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গরুবাসী গ্রামের বাসিন্দা অটোরিকশাচালক হেলাল তার বোন ও ভাগিনাদের নিয়ে লক্ষ্মীপুর নিজ বাড়ির উদ্দেশ্যে ফিরছিলেন। পথে শ্রীকান্তপুর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ অটোরিকশাটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে রাস্তার পাশের একটি বড় গাছের সঙ্গে সজোরে ধাক্কা খায়। সংঘর্ষের তীব্রতায় গাড়িতে থাকা যাত্রীরা ছিটকে পড়ে গুরুতর আহত হন। তবে অটোরিকশাটির বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
দুর্ঘটনায় চালক হেলালের কপাল ফেটে যায় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হয়। আহতদের মধ্যে এক শিশুর বাম পায়ের হাড় ভেঙে যায়। একই সঙ্গে পায়ে লোহার রড ঢুকে গভীর ক্ষতের সৃষ্টি হলে ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হয়। অপর এক কন্যাশিশুর মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে। এছাড়া শিশুদের মা ও আরও এক নারী যাত্রীসহ মোট ৬ জন আহত হন।
আহত চালক হেলাল জানান, “গাড়িতে আমার বোন ও ভাগিনারা ছিলেন। তারা সবাই লক্ষ্মীপুর থেকে বাড়ি ফিরছিলেন। হঠাৎ গাড়ির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলি। কিছু বুঝে ওঠার আগেই রাস্তার পাশের গাছের সঙ্গে ধাক্কা লাগে। মুহূর্তের মধ্যেই সবাই আহত হয়ে পড়ে।”
দুর্ঘটনার পর স্থানীয় লোকজন দ্রুত ঘটনাস্থলে ছুটে এসে আহতদের উদ্ধার করেন। পরে তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য পাবনা সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, বিকট শব্দ শুনে আশপাশের মানুষ ঘটনাস্থলে ছুটে যান এবং উদ্ধারকাজে অংশ নেন। আহত শিশুদের অবস্থা দেখে উপস্থিত অনেকেই আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। দুর্ঘটনার পর এলাকায় কিছু সময়ের জন্য আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠার সৃষ্টি হয়।
এদিকে দুর্ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে আহতদের স্বজনরা হাসপাতালে ভিড় করেন। চিকিৎসকরা আহতদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রেখে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা প্রদান করছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয়দের দাবি, সড়কটিতে যানবাহন চলাচলের সময় আরও সতর্কতা অবলম্বন এবং ঝুঁকিপূর্ণ স্থানগুলোতে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হলে এ ধরনের দুর্ঘটনা অনেকাংশে কমে আসবে। বিশেষ করে চালকদের গতি নিয়ন্ত্রণ ও সতর্কতার বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন তারা।
Reporter Name 









