ঢাকা ০২:০২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বামনজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে অপপ্রচার চলছে, সব নিয়ম মেনেই কমিটি গঠন করা হয়েছে—সংশ্লিষ্টদের প্রতিবাদ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ১৭ Time View
Print

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার,গাইবান্ধা :

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের বামনজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের দাবি, সরকারি প্রজ্ঞাপন, বিধিমালা ও শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগে যে অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
প্রতিবাদে বলা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়, প্রধান শিক্ষক এবং নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে। এতে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগকারী মো. মাইদুল মিয়া নিজেই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য এবং তার বাবা মো. রমজান আলী জমিদাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন, যা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।
প্রতিবাদে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ ছিল না। তাই উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. দিনারা বেগম বলেন, “সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সব ধরনের নিয়ম-কানুন মেনেই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেউ যদি কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক—এ বিষয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। একটি কুচক্রী মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এদিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগ যাই আসুক না কেন, প্রয়োজনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা হবে। তদন্তে যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে সে বিষয়েও যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা সকলকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে বিরত থেকে প্রকৃত তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও সুনাম রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও অনুরোধ জানিয়েছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বামনজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে অপপ্রচার চলছে, সব নিয়ম মেনেই কমিটি গঠন করা হয়েছে—সংশ্লিষ্টদের প্রতিবাদ

বামনজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কমিটি নিয়ে অপপ্রচার চলছে, সব নিয়ম মেনেই কমিটি গঠন করা হয়েছে—সংশ্লিষ্টদের প্রতিবাদ

Update Time : ১২:২৯:৪৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
Print

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার,গাইবান্ধা :

গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জ উপজেলার দহবন্দ ইউনিয়নের বামনজল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত অভিযোগের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। তাদের দাবি, সরকারি প্রজ্ঞাপন, বিধিমালা ও শিক্ষা বিভাগের নির্দেশনা যথাযথভাবে অনুসরণ করেই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। অভিযোগে যে অনিয়মের কথা বলা হয়েছে, তার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই।
প্রতিবাদে বলা হয়, একটি স্বার্থান্বেষী মহল নিজেদের ব্যক্তিগত স্বার্থ ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে ব্যর্থ হয়ে পরিকল্পিতভাবে বিদ্যালয়, প্রধান শিক্ষক এবং নবগঠিত ম্যানেজিং কমিটির বিরুদ্ধে বিভ্রান্তিকর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছে। এতে বিদ্যালয়ের সুনাম ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার স্বাভাবিক পরিবেশ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, অভিযোগকারী মো. মাইদুল মিয়া নিজেই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির অভিভাবক সদস্য এবং তার বাবা মো. রমজান আলী জমিদাতা সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত রয়েছেন। কিন্তু ব্যক্তিগত প্রত্যাশা পূরণ না হওয়ায় তারা উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর তথ্য প্রচার করছেন, যা সম্পূর্ণ অনাকাঙ্ক্ষিত ও দুঃখজনক।
প্রতিবাদে আরও উল্লেখ করা হয়, বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠনের প্রতিটি ধাপে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা ও সরকারি বিধিমালা অনুসরণ করা হয়েছে। কোনো ধরনের স্বেচ্ছাচারিতা, অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি বা ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ ছিল না। তাই উত্থাপিত অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, বানোয়াট এবং উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেন সংশ্লিষ্টরা।
এ বিষয়ে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোছা. দিনারা বেগম বলেন, “সরকারি প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী সব ধরনের নিয়ম-কানুন মেনেই বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটি গঠন করা হয়েছে। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। কেউ যদি কোনো অনিয়মের সুনির্দিষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেন, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিক—এ বিষয়ে আমার কোনো আপত্তি নেই।”
তিনি আরও বলেন, “বিদ্যালয়ের শিক্ষার মানোন্নয়ন ও শিক্ষার্থীদের কল্যাণে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছি। একটি কুচক্রী মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে বিদ্যালয়ের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে, যা অত্যন্ত দুঃখজনক।”
এদিকে সংশ্লিষ্ট শিক্ষা বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ বা পাল্টা অভিযোগ যাই আসুক না কেন, প্রয়োজনে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা যাচাই করা হবে। তদন্তে যদি কোনো অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া যায়, তবে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর অভিযোগ ভিত্তিহীন প্রমাণিত হলে সে বিষয়েও যথাযথ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টরা সকলকে গুজব ও বিভ্রান্তিকর তথ্য থেকে বিরত থেকে প্রকৃত তথ্য যাচাই করার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষা কার্যক্রম ও সুনাম রক্ষায় সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনেরও অনুরোধ জানিয়েছেন।