
আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার
সাতক্ষীরার কলারোয়ায় প্রবাসীর বিনিয়োগ করা ৫০ শতাংশ শেয়ারের একটি ইটভাটা জোরপূর্বক দখল এবং আদালতের আদেশ অমান্য করার অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞাও মানছেন বলে অভিযোগ ভুক্তভোগী প্রবাসী রাজু আহমেদ খানের।
ভুক্তভোগী রাজু আহমেদ খান বলেন, কলারোয়ার কাজীরহাট চিতলা এলাকার ‘পারুল ব্রিকস’ নামক ইটভাটাটি পরিচালনা করতেন পুটুনি গ্রামের আলমগীর হোসেন। ব্যবসায়িকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে তিনি ভাটার ৫০ শতাংশ শেয়ার বিক্রির প্রস্তাব দিলে, ২০২২ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি ১ কোটি ৬৫ লাখ টাকা মূল্যে তার অর্ধেক শেয়ার কিনে নেন রাজু আহমেদ। ওই সময় নগদ ৮২ লাখ ৫০ হাজার টাকা পরিশোধ করে সাতক্ষীরা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে এফিডেভিটের মাধ্যমে তা সম্পন্ন করা হয়।
তিনি আরও জানান, ভাটার অপর অংশীদার আলমগীর ব্যক্তিগত ঋণের দায়ে পরবর্তীতে পালিয়ে যান। এরপর জমির মালিকেরা পূর্বের ঋণের টাকা রাজুর কাছে দাবি করলে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং রাজু প্রবাসে চলে যান। এই সুযোগে কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র ও বিএনপি নেতা আক্তারুল ইসলাম দলীয় প্রভাব খাটিয়ে জমির মালিকদের কাছ থেকে ৫ বছরের জন্য ইটভাটাটি লিজ নেন।
তিনি আরো বলেন, আদালতের ১৪৫ ও ৮৮ ধারার নিষেধাজ্ঞা এবং পুলিশি নোটিশ অমান্য করে বিএনপি নেতা আক্তারুল ইসলাম গায়ের জোরে ভাটা পরিচালনা করছেন। শুধু তাই নয়, জমির মালিক আব্দুল হামিদ, আতিয়ার রহমান ও জনাব আলীর সাথে যোগসাজস করে ভাটায় রেখে যাওয়া প্রবাসীর প্রায় ৭ লাখ ইট বিক্রি করে আত্মসাৎ করা হয়েছে।
আলমগীর দীর্ঘদিন ধরে পলাতক এবং রাজু আহমেদের কাছ থেকেও কোনো অনুমতি বা লিজ নেওয়া হয়নি—তাহলে কীভাবে তিনি ভাটাটি দখল করলেন, সেই প্রশ্ন তোলেন ভুক্তভোগী প্রবাসী।
তিনি অবিলম্বে কষ্টার্জিত অর্থে কেনা ভাটার ৫০ শতাংশ মালিকানা ফেরত পাওয়া এবং এ বিষয়ে আইনগত প্রতিকার পেতে প্রধানমন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
এবিষয়ে জেলা বিএনপি নেতা ও কলারোয়া পৌরসভার সাবেক মেয়র গাজী আক্তারুলের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি দখলের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, আমি ভাটার মালিক আলমগীরের স্ত্রী পারুল এবং জমির মালিকদের কাছ থেকে ক্রয় করেছি। রাজু আহমেদের সাথে আলমগীরের লেনদেনের বিষয়ে আমার কিছু জানানেই। আমার প্রতিপক্ষরা তুচ্ছ বিষয়ে আমার বিরুদ্ধে মিথ্যাচার করে যাচ্ছে।
Reporter Name 








