
পাবনা জেলা প্রতিনিধি :
পাবনার আটঘরিয়া উপজেলার রত্নাই নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে আঁখি খাতুন (১০) নামে এক শিশুর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
নিহত আঁখি খাতুন উপজেলার কয়ড়াবাড়ি গ্রামের আলহাজ্বের মেয়ে এবং কয়ড়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির ছাত্রী।
শুক্রবার (২৬ জুন) দুপুরের দিকে বাড়ির পাশের রত্নাই নদীতে গোসল করতে নামে আঁখি। একপর্যায়ে সে পানিতে তলিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় তাকে খুঁজে না পেয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয়রা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে অনেক খোঁজাখুঁজির পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় রত্নাই নদী থেকে তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
কয়ড়াবাড়ি ৬ নং ওয়ার্ডের মেম্বার আকরাম হোসেন বলেন, “খবর পেয়ে আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। স্থানীয়দের সহযোগিতায় দীর্ঘক্ষণ খোঁজাখুঁজির পর রত্নাই নদী থেকে আঁখি খাতুনকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে শিশুদের নদী ও খোলা জলাশয়ে গোসলের সময় অভিভাবকদের আরও সতর্ক থাকতে হবে।”
কয়ড়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ইয়াসমিন পারভিন বলেন, “আঁখি খাতুন আমাদের বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির একজন মেধাবী, শান্ত ও ভদ্র ছাত্রী ছিল। তার অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই তার পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি। মহান আল্লাহ যেন তাকে জান্নাতুল ফেরদৌস দান করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারকে এই শোক সহ্য করার শক্তি দান করেন।”
শিশুটির আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। স্বজনদের আহাজারিতে পুরো এলাকায় শোকের আবহ বিরাজ করছে।
আঁখির অকাল মৃত্যুতে কয়ড়াবাড়ি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের মাঝেও গভীর শোকের সৃষ্টি হয়েছে।
ঐ দিন বাদ আসর নামাজের পর জানাজা শেষে আঁখি খাতুনের মরদেহ কয়ড়াবাড়ি ও পাইকেল কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হয়। এ সময় পরিবারের সদস্য, স্বজন, প্রতিবেশী ও এলাকার গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে নদী ও অন্যান্য খোলা জলাশয়ে শিশুদের গোসল বা খেলাধুলার সময় অভিভাবকদের আরও সচেতন ও সতর্ক থাকা জরুরি। সচেতনতা বৃদ্ধি এবং নিবিড় তদারকির মাধ্যমে এ ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা অনেকাংশে প্রতিরোধ করা সম্ভব।
Reporter Name 

















