
তার মৃত্যুতে শোকের ছায়া নেমে আসে পরিবার, রাজনৈতিক অঙ্গন ও ক্রীড়াঙ্গনে। ২৭ জানুয়ারি ঢাকার বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে তার নামাজে জানাজায় বিপুলসংখ্যক মানুষের উপস্থিতি তাকে শেষ বিদায় জানায়। ১৯৬৯ সালের ১২ আগস্ট জন্ম নেওয়া কোকোর শৈশব কেটেছে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের নানা ঘটনাপ্রবাহের মধ্য দিয়ে। মুক্তিযুদ্ধের সময় মা খালেদা জিয়া ও বড় ভাই তারেক রহমানের সঙ্গে তিনি ঢাকা ক্যান্টনমেন্টে বন্দি ছিলেন। ১৯৮১ সালে বাবা রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান নিহত হলে মাত্র ১১ বছর বয়সে পিতৃহারা হন তিনি। রাজনীতির প্রভাবশালী পরিবারের সন্তান হলেও কোকো সরাসরি রাজনীতির মঞ্চে সক্রিয় হওয়ার পরিবর্তে ক্রীড়াঙ্গনের সঙ্গে যুক্ত হন। ২০০২ থেকে ২০০৫ সাল পর্যন্ত বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সঙ্গে কাজ করার সময় বয়সভিত্তিক ক্রিকেট, খেলোয়াড় উন্নয়ন ও ক্রিকেট অবকাঠামো আধুনিকায়নে তিনি ভূমিকা রাখেন। ক্রিকেটকে আরও পেশাদার ও আধুনিক কাঠামোয় নেওয়ার উদ্যোগের পাশাপাশি মাঠের উন্নত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, আঞ্চলিক পর্যায়ে ক্রিকেট অবকাঠামো গড়ে তোলা এবং আন্তর্জাতিক মানের প্রশিক্ষণ ব্যবস্থার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয় তার সময়কালে। ২০০৪ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ আয়োজনেও তিনি ক্রিকেট প্রশাসনের গুরুত্বপূর্ণ সংগঠকদের একজন ছিলেন। কোকোর ব্যক্তিত্বের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল প্রচারবিমুখতা। রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী পরিবারের সদস্য হয়েও তিনি ক্ষমতার প্রদর্শন থেকে দূরে ছিলেন এবং ক্রীড়াঙ্গনে সংগঠক হিসেবে কাজ করতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করতেন। ২০০৭ সালে তিনি গ্রেপ্তার হন এবং ২০০৮ সালে মুক্তির পর চিকিৎসার জন্য বিদেশে যান। পরবর্তীতে মালয়েশিয়ায় বসবাস শুরু করেন। সেখানেই ২০১৫ সালের ২৪ জানুয়ারি তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর পর বায়তুল মোকাররমে জানাজায় মানুষের ঢল প্রমাণ করে, প্রচারের আড়ালে থাকা এই মানুষটির প্রতিও সাধারণ মানুষের ভালোবাসা ছিল গভীর। রাজনৈতিক বিতর্ক ও নানা মতভেদ থাকলেও আরাফাত রহমান কোকোর জীবন বাংলাদেশের ক্রীড়া ইতিহাসের একটি আলোচিত অধ্যায়। মাত্র ৪৫ বছরের জীবনে নানা প্রতিকূলতা পেরিয়ে তিনি ক্রীড়াঙ্গনে যে ভূমিকা রেখে গেছেন, তা স্মরণীয় হয়ে থাকবে। ড. এ জেড এম মাইনুল ইসলাম পলাশ লেখক | সাংবাদিক | কলামিস্ট | বিশ্লেষক
Reporter Name 



















