
মোঃ জাহাঙ্গীর আলম রাজু, সিনিয়র রিপোর্টার:
গাজীপুরের কালিয়াকৈর উপজেলার মৌচাক ইউনিয়নের অন্যতম ব্যস্ত বাণিজ্যিক কেন্দ্র হাজী মার্কেট ও আশপাশের এলাকা সামান্য কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই হাঁটু থেকে কোমর সমান পানিতে তলিয়ে গেছে। ভোররাত থেকে শুরু হওয়া প্রবল বর্ষণের পর সৃষ্ট জলাবদ্ধতায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও ব্যবসায়ীরা।
এলাকাজুড়ে নোংরা ও দূষিত পানি জমে থাকায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়েছে। অধিকাংশ দোকানপাট ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। অনেক ব্যবসায়ীর দোকানে পানি ঢুকে মূল্যবান মালামাল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয় প্রবীণ বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীদের দাবি, গত ১৮ থেকে ২০ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ জলাবদ্ধতা তারা দেখেননি। তাদের মতে, অপরিকল্পিত নগরায়ণ, অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং দীর্ঘদিন ড্রেন পরিষ্কার না করাই এই পরিস্থিতির মূল কারণ।
একজন ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসায়ী বলেন,
“গত ২০ বছরেও আমরা এখানে এমন পানি জমতে দেখিনি। ড্রেন করা হয়েছে, কিন্তু পরিষ্কার করার কেউ নেই। খোলা ড্রেন এখন ময়লার ভাগাড়ে পরিণত হয়েছে। দোকান খুলতে পারছি না, ভেতরে পানি ঢুকে লাখ লাখ টাকার মালামাল নষ্ট হচ্ছে।”
স্থানীয় বাসিন্দা মোঃ আব্দুল কাদের বলেন,
“একটু বৃষ্টি হলেই এখন পানি জমে যায়। আগে এমন ছিল না। ড্রেনগুলো নিয়মিত পরিষ্কার করা হলে আজ আমাদের এই ভোগান্তি পোহাতে হতো না।”
গৃহিণী রোকসানা বেগম বলেন,
“বাড়ি থেকে বের হওয়াই কষ্টকর হয়ে পড়েছে। শিশু ও বৃদ্ধদের নিয়ে সবচেয়ে বেশি সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। দ্রুত স্থায়ী সমাধান প্রয়োজন।”
অনুসন্ধানে জানা যায়, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মৌচাক এলাকায় দ্রুত শিল্পায়ন ও আবাসন সম্প্রসারণ ঘটলেও পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি। খোলা ড্রেনে পলিথিন, প্লাস্টিক ও বিভিন্ন বর্জ্য জমে অধিকাংশ ড্রেন কার্যকারিতা হারিয়েছে। ফলে বৃষ্টির পানি দ্রুত নিষ্কাশিত হতে না পেরে পুরো এলাকা জলমগ্ন হয়ে পড়ছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর উদাসীনতার কারণে দীর্ঘদিন ধরেই ড্রেনগুলো পরিষ্কার বা সংস্কার করা হচ্ছে না। ফলে প্রতি বর্ষা মৌসুমেই জলাবদ্ধতা প্রকট আকার ধারণ করছে।
মৌচাক হাজী মার্কেট এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা দ্রুত ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, নিয়মিত ড্রেন পরিষ্কার এবং জলাবদ্ধতা নিরসনে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সরকারের উচ্চ পর্যায় ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
তাদের মতে, একটি পরিকল্পিত ও টেকসই ড্রেনেজ ব্যবস্থা বাস্তবায়ন করা না হলে ভবিষ্যতে এই এলাকার জনদুর্ভোগ আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করবে।
Reporter Name 



















