
মোঃ সুজন আহাম্মেদ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ
রাজশাহীর গোদাগাড়ী উপজেলার দেওপাড়া ইউনিয়নের শাহানাপাড়া গ্রামে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) একটি পরিত্যক্ত বোরহোলে পড়ে একটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। শনিবার (২৭ জুন) বিকেলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়রা দায়িত্বে অবহেলাকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিপূরণের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহানাপাড়া গ্রামের একটি খোলা ও পরিত্যক্ত বোরহোলের কাছে মহিষটি ঘাস খাওয়ার সময় হঠাৎ পড়ে যায়। খবর পেয়ে গোদাগাড়ী ফায়ার সার্ভিসের একটি উদ্ধারকারী দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। তবে প্রায় ৮০ ফুট গভীর ও চার ফুট ব্যাসের সংকীর্ণ বোরহোল হওয়ায় দীর্ঘ চেষ্টা করেও মহিষটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। টর্চলাইটের মাধ্যমে নিচে মহিষটিকে দেখা গেলেও কোনো নড়াচড়া না থাকায় সেটি মারা গেছে বলে ধারণা করা হয়।
মহিষটির মালিক বিকাশ খা একজন ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর ওঁরাও সম্প্রদায়ের কৃষক। তিনি জানান, দেড় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে দুটি মহিষ কিনেছিলেন। প্রতি মাসে ১৫ হাজার টাকা কিস্তি পরিশোধ করতে হয়। মহিষ দিয়ে হালচাষ করেই তাঁর পরিবারের জীবিকা চলত। একটি মহিষ হারিয়ে তিনি এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন।
বিকাশের মেয়ে মন্দিরা খা বলেন, বিকেলে মহিষটি দৌড়ে গিয়ে হঠাৎ বোরহোলে পড়ে যায়। খবর পেয়ে বাবা ঘটনাস্থলে এসে মহিষের অবস্থা দেখে অসুস্থ হয়ে পড়েন। আমাদের বড় সংসার, বাবার আয়ের প্রধান উৎস ছিল এই মহিষ। এখন কীভাবে সংসার চলবে, সেটাই চিন্তার বিষয়।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, গত বছরের নভেম্বর-ডিসেম্বর মাসে কয়েকজন ব্যক্তি ওই স্থানে গভীর নলকূপ স্থাপনের জন্য বোরহোল খনন করেন। পরে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন না হলেও ঝুঁকিপূর্ণ গর্তটি খোলা অবস্থায় রেখে দেওয়া হয়। তাদের দাবি, যথাসময়ে বোরহোলটি বন্ধ করা হলে এ দুর্ঘটনা ঘটত না।
এলাকাবাসী আরও জানান, এর আগে তানোর উপজেলার কোয়েলহাট পূর্বপাড়া গ্রামে একই ধরনের একটি পরিত্যক্ত বিএমডিএ বোরহোলে পড়ে দুই বছরের শিশু সাজিদের মৃত্যু হয়। ওই ঘটনার পর রাজশাহী বিভাগের সব পরিত্যক্ত বোরহোল দ্রুত বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হলেও শাহানাপাড়ার বোরহোলটি এখনো খোলা রয়েছে।
এ বিষয়ে বিএনপি নেতা নাসির উদ্দিন বাবু বলেন, কয়েকজন ব্যক্তি ওই স্থানে গভীর নলকূপ স্থাপনের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। খননের পর পানির স্তর পাওয়া গেলেও প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের জটিলতায় প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। ভবিষ্যতে নলকূপ স্থাপনের সম্ভাবনা থাকায় বোরহোলটি বন্ধ করা হয়নি।
মহিষের মৃত্যুর ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে তিনি বলেন, সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা করা হবে।
এদিকে স্থানীয়দের দাবি, শুধু দুঃখ প্রকাশ নয়, দুর্ঘটনার জন্য দায়ীদের চিহ্নিত করে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষককে দ্রুত ক্ষতিপূরণ দিতে হবে এবং এলাকার সব ঝুঁকিপূর্ণ পরিত্যক্ত বোরহোল বন্ধ করতে হবে।
Reporter Name 


















