
মো: জাকির হোসেন,খালিয়াজুরী উপজেলা প্রতিনিধি
টাকার বিনিময়ে কৃষি ভর্তুকি কার্ড বিতরণের অভিযোগ, এমপির কাছে লিখিত আবেদন
নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলার কৃষ্ণপুর ইউনিয়নের কল্যানপুর গ্রামে কৃষি ভর্তুকি কার্ড বিতরণে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ তুলে স্থানীয় এক কৃষক সংসদ সদস্যের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, কল্যানপুর গ্রামের বাসিন্দা ও কৃষক সিদ্দিক মিয়া গত ৩ জুলাই ২০২৬ তারিখে নেত্রকোণা-৪ আসনের সংসদ সদস্যের নিকট একটি লিখিত আবেদন জমা দেন। আবেদনে তিনি দাবী করেন, সরকারি কৃষি ভর্তুকি কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও আর্থিক লেনদেনের ঘটনা ঘটছে। প্রকৃত কৃষকদের বাদ দিয়ে অর্থের বিনিময়ে অযোগ্য ও বহিরাগত ব্যক্তিদের কার্ড প্রদান করা হচ্ছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে আরও বলা হয়, বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে দুই হাজার থেকে তিন হাজার টাকা পর্যন্ত গ্রহণ করে কৃষি ভর্তুকি কার্ড দেওয়া হয়েছে। এর ফলে অনেক প্রকৃত কৃষক কার্ড সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। অভিযোগকারী প্রয়োজনে অনিয়মের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি এবং সুবিধাভোগীদের তালিকা সরবরাহ করার কথাও উল্লেখ করেছেন।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত হিসেবে কল্যানপুর গ্রামের সিদ্দিক মিয়া ও নওয়াব আলী মিয়ার নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দীকে সাক্ষী হিসেবেও আবেদনে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
অভিযোগকারী সিদ্দিক মিয়া অভিযোগ দায়েরের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, কৃষি ভর্তুকি কার্ড বিতরণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতি হয়েছে। তাঁর দাবী , এলাকার অনেক প্রকৃত কৃষক ও ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। অথচ যারা কৃষিকাজের সঙ্গে জড়িত নন, জমি নেই কিংবা দীর্ঘদিন ধরে ঢাকায় বসবাস করছেন, তাদেরকেই টাকার বিনিময়ে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। অনিয়ম ও দুর্নীতির সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় সাংগঠনিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে তিনি সংসদ সদস্যের নিকট লিখিত অভিযোগ করেছেন বলে জানান। তিনি আরও দাবী করেন এলাকায় তদন্ত করলে সঠিক তথ্য বের হয়ে আসবে।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত কৃষ্ণপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল মিয়া অভিযোগটিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন বলে দাবি করেন। তিনি বলেন, কৃষকের তালিকা প্রণয়নের কাজে তিনি ব্যক্তিগতভাবে অর্থ ব্যয় করেছেন। তাঁর বিরুদ্ধে সিদ্দিক মিয়া ও নওয়াব আলী সংসদ সদস্যের কাছে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ করেছেন—এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি উল্টো নওয়াব আলীর বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলে বলেন, নওয়াব আলী নিজেই সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের সভাপতি হিসেবে বিভিন্ন অনিয়মের সঙ্গে জড়িত। বিষয়টি দলীয়ভাবে তদন্ত করে তাঁর বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও তিনি জানান।
অভিযোগের বিষয়ে খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সিনিয়র সহ-সভাপতি আবুল কালাম আজাদের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “অভিযোগের বিষয়টি আমার জানা নেই। আমি বর্তমানে নামাজে আছি। নামাজ শেষ করে বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজ নিয়ে পরে জানাব।”
লিখিত আবেদনে অভিযোগকারী বিষয়টি তদন্ত করে কৃষি ভর্তুকি কার্ড বিতরণে সংঘটিত অনিয়ম ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং প্রকৃত কৃষকদের অধিকার নিশ্চিত করার দাবী জানান।
Reporter Name 


















