ঢাকা ০৩:০০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬, ৩০ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির স্বার্থে রাম মূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা হরিদাস বাবুর

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
  • ২৮ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:

“অভিযোগ মানেই অপরাধী নয়, উস্কানিমূলক কোনো ফাঁদে পা দেবেন না”

রাম মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্টি হওয়া আলোচনা, সমালোচনা, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং নানা বিতর্কের প্রেক্ষাপটে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির স্বার্থে মূর্তি নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন হরিদাস বাবু। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসী, বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শান্ত থাকার এবং কোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

হরিদাস বাবু বলেন, “ধর্ম কখনো সংঘাত, বিদ্বেষ বা বিশৃঙ্খলার শিক্ষা দেয় না। ধর্ম মানুষকে মানবতা, সহনশীলতা ও শান্তির পথ দেখায়। তাই আমি চাই না আমার কোনো উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সমাজে বিভেদ বা অস্থিরতা সৃষ্টি হোক। সকলের মতামত ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি রাম মূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিত ঘোষণা করেছি।”

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি হয়েছে। মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে একটি ধর্মীয় উদ্যোগকে রাজনৈতিক ও বিতর্কিত রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের শান্তি ও সম্প্রীতির স্বার্থে তিনি সংযম ও দায়িত্বশীলতার পথ বেছে নিয়েছেন।

মন্দির নির্মাণে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ নাকচ করে হরিদাস বাবু বলেন, “এটি ভারতের কোনো অনুদানে নির্মিত প্রকল্প নয়, কোনো বিদেশি স্বার্থ বাস্তবায়নের উদ্যোগও নয়। এটি দেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা একটি ধর্মীয় উদ্যোগ। আমি মাত্র ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম, পরে সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় কাজ এগিয়েছে।”

নিজের বিরুদ্ধে অতীতে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০২২ সালে বনানী থানায় যে প্রতারণা মামলার কথা বলা হয়, সেটি ছিল একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তিনি অপরাধী হয়ে যান না। আমার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনোটিতেই আদালত আমাকে দোষী সাব্যস্ত করেনি। আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, একটি মহল তাকে নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। “আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে। অতীতের মতো আবারও কোনো অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হতে পারে। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং কোনো গুজব বা একপাক্ষিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না,” বলেন তিনি।

হরিদাস বাবু আরও বলেন, “আমি কখনোই সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমার লক্ষ্য সমাজে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সকল ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের মাধ্যমেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠতে পারে।”

বিদেশে অবস্থান করে কেউ যেন দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে উসকে না দেন, সে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দুদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন এ দেশের মানুষই। বাইরে বসে উত্তেজনা সৃষ্টি করলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।”

তিনি বলেন, “আমরা কারও ফাঁদে পা দেব না। কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডে জড়াব না। সনাতনী সমাজের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হবে।”

পরিশেষে হরিদাস বাবু বলেন, “বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। সেই ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বিভেদ নয়, সংলাপ; সংঘাত নয়, সম্প্রীতি; উস্কানি নয়, মানবতাই হোক আমাদের পথচলার মূলনীতি। দেশের শান্তি, মানুষের নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাই সর্বাগ্রে বিবেচ্য হওয়া উচিত।”

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির স্বার্থে রাম মূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা হরিদাস বাবুর

সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির স্বার্থে রাম মূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিতের ঘোষণা হরিদাস বাবুর

Update Time : ১২:১৬:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৪ জুন ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক:

“অভিযোগ মানেই অপরাধী নয়, উস্কানিমূলক কোনো ফাঁদে পা দেবেন না”

রাম মূর্তি নির্মাণকে কেন্দ্র করে সাম্প্রতিক সময়ে সৃষ্টি হওয়া আলোচনা, সমালোচনা, মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং নানা বিতর্কের প্রেক্ষাপটে সামাজিক ও ধর্মীয় সম্প্রীতির স্বার্থে মূর্তি নির্মাণকাজ সাময়িকভাবে স্থগিত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন হরিদাস বাবু। একই সঙ্গে তিনি দেশবাসী, বিশেষ করে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রতি শান্ত থাকার এবং কোনো উস্কানিমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত না হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।

হরিদাস বাবু বলেন, “ধর্ম কখনো সংঘাত, বিদ্বেষ বা বিশৃঙ্খলার শিক্ষা দেয় না। ধর্ম মানুষকে মানবতা, সহনশীলতা ও শান্তির পথ দেখায়। তাই আমি চাই না আমার কোনো উদ্যোগকে কেন্দ্র করে সমাজে বিভেদ বা অস্থিরতা সৃষ্টি হোক। সকলের মতামত ও অনুভূতির প্রতি শ্রদ্ধা রেখেই আমি রাম মূর্তি নির্মাণকাজ স্থগিত ঘোষণা করেছি।”

তিনি বলেন, বিষয়টি নিয়ে অতিরিক্ত বাড়াবাড়ি হয়েছে। মানববন্ধন, প্রতিবাদ সমাবেশ এবং বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচির মাধ্যমে একটি ধর্মীয় উদ্যোগকে রাজনৈতিক ও বিতর্কিত রূপ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে দেশের শান্তি ও সম্প্রীতির স্বার্থে তিনি সংযম ও দায়িত্বশীলতার পথ বেছে নিয়েছেন।

মন্দির নির্মাণে বিদেশি অর্থায়নের অভিযোগ নাকচ করে হরিদাস বাবু বলেন, “এটি ভারতের কোনো অনুদানে নির্মিত প্রকল্প নয়, কোনো বিদেশি স্বার্থ বাস্তবায়নের উদ্যোগও নয়। এটি দেশের সনাতনী সম্প্রদায়ের মানুষের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা একটি ধর্মীয় উদ্যোগ। আমি মাত্র ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে কাজ শুরু করেছিলাম, পরে সাধারণ মানুষের সহযোগিতায় কাজ এগিয়েছে।”

নিজের বিরুদ্ধে অতীতে উত্থাপিত অভিযোগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, “২০২২ সালে বনানী থানায় যে প্রতারণা মামলার কথা বলা হয়, সেটি ছিল একটি মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মামলা। কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তিনি অপরাধী হয়ে যান না। আমার বিরুদ্ধে যত অভিযোগ আনা হয়েছে, তার কোনোটিতেই আদালত আমাকে দোষী সাব্যস্ত করেনি। আইন ও বিচার ব্যবস্থার প্রতি আমার পূর্ণ আস্থা রয়েছে।”

তিনি দাবি করেন, একটি মহল তাকে নিয়ে নতুন করে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। “আমাকে সামাজিকভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার চেষ্টা চলছে। অতীতের মতো আবারও কোনো অপপ্রচার বা ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে আমাকে বিতর্কিত করার চেষ্টা হতে পারে। তাই সবাইকে সজাগ থাকতে হবে এবং কোনো গুজব বা একপাক্ষিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না,” বলেন তিনি।

হরিদাস বাবু আরও বলেন, “আমি কখনোই সংঘাতের রাজনীতিতে বিশ্বাস করি না। আমার লক্ষ্য সমাজে সম্প্রীতি প্রতিষ্ঠা করা। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান—সকল ধর্মের মানুষের পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও সহাবস্থানের মাধ্যমেই একটি সুন্দর বাংলাদেশ গড়ে উঠতে পারে।”

বিদেশে অবস্থান করে কেউ যেন দেশের হিন্দু সম্প্রদায়কে উসকে না দেন, সে আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের হিন্দুদের ভবিষ্যৎ ও নিরাপত্তা নিয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন এ দেশের মানুষই। বাইরে বসে উত্তেজনা সৃষ্টি করলে তার নেতিবাচক প্রভাব পড়ে সাধারণ মানুষের ওপর।”

তিনি বলেন, “আমরা কারও ফাঁদে পা দেব না। কোনো উস্কানিমূলক বক্তব্য বা কর্মকাণ্ডে জড়াব না। সনাতনী সমাজের নেতৃবৃন্দ, স্থানীয় মানুষ এবং সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সুন্দর, গ্রহণযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের পথ খুঁজে বের করা হবে।”

পরিশেষে হরিদাস বাবু বলেন, “বাংলাদেশ সম্প্রীতির দেশ। এখানে সব ধর্মের মানুষ যুগ যুগ ধরে একসঙ্গে বসবাস করে আসছে। সেই ঐতিহ্য রক্ষা করা আমাদের সবার দায়িত্ব। বিভেদ নয়, সংলাপ; সংঘাত নয়, সম্প্রীতি; উস্কানি নয়, মানবতাই হোক আমাদের পথচলার মূলনীতি। দেশের শান্তি, মানুষের নিরাপত্তা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাই সর্বাগ্রে বিবেচ্য হওয়া উচিত।”