ঢাকা ১২:০৭ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬, ১১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

হরিরামপুরে জাল সনদে জমি বিক্রির অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
  • ১৯১ Time View
Print

মোঃ নুরুল আমিন জেলা ব্যুরো মানিকগঞ্জ মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় তথ্য গোপন করে এক ভারতীয় নাগরিকের পৈত্রিক জমি বিক্রির অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বলড়া ইউনিয়নে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উঠেছে নানা প্রশ্ন—কীভাবে একজন ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারিশান সনদ সংগ্রহ করলেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বলড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র সরকার প্রায় ৩৫ বছর আগে স্ত্রী ও দুই পুত্র—কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার ও বলরাম চন্দ্র সরকারকে নিয়ে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে স্থানীয় আত্মীয়স্বজনের কোনো যোগাযোগ ছিল না। স্থানীয়দের দাবি, তারা আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে আসেননি। তবে বিস্ময়করভাবে, গত ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জন্ম সনদ ও ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে বলড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি ওয়ারিশান সনদ ইস্যু করা হয়, যেখানে গোপাল চন্দ্র সরকারের একমাত্র পুত্র হিসেবে বলরাম চন্দ্র সরকার কে উল্লেখ করা হয়। পরে ওই সনদের ভিত্তিতে ২০২৬ ইং সালের ৭ জানুয়ারি ১৪নং দলিল মূলে কোকরহাটি গ্রামের গয়জদ্দিন এর পুত্র মোঃ ইউসুফ আলীও বলড়া গ্রামের মোঃ হায়দার আলীর পুত্র মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও মোঃ করম আলীর পুত্র মোঃ চাঁন মিয়ার কাছে ১৩.৫০ শতাংশ, ১৫ নং দলিল মূলে বলড়া গ্রামের মোঃ বিল্লাল বেপারীর পুত্র মোঃ মেশারফ হোসেন এর কাছে ৮ শতাংশ, ১৬ নং দলিল মূলে বলড়া গ্রামের মোঃ কুতুব উদ্দিন এর পুত্র মোঃ মোস্তফার কাছে ৮ শতাংশ, ২০ নং দলিল মূলে কোকরহাটি গ্রামের মনিন্দ্র সরকার এর পুত্র ভেলানাথ সরকার এর কাছে ৫.৫০ শতাংশ, ২১ নং দলিল মূলে কোকরহাটি গ্রামের গয়জদ্দিন এর পুত্র মোঃ ইউসুফ আলী ও আহম্মদ আলীর পুত্র রেজাউল করিম এর নিকট ৪ শতাংশ মোট ৫টি দলিলের মাধ্যমে ৩৯ শতাংশ জমি বিক্রি করা হয়। কোকরহাটি গ্রামের বাসিন্দা শায়েস্তা খাঁ বলেন, আমরা জানতাম গোপাল চন্দ্র সরকারের দুই ছেলে রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ শুনছি একজনকে একমাত্র উত্তরাধিকারী দেখিয়ে জমি বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক, সঠিক তদন্ত প্রয়োজন। এদিকে, গোপাল চন্দ্র সরকারের আপন ভাইয়ের স্ত্রী রাণী সরকার জানান আমার ভাসুর গোপাল চন্দ্র সরকার আনুমানিক ৩৫ বছর আগে ভারতে গিয়ে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তার দুই ছেলে থাকলেও কীভাবে একজনকে একমাত্র উত্তরাধিকারী দেখিয়ে ওয়ারিশ সনদ ও জন্ম নিবন্ধন বানিয়েছি বলে জানতে পরেছি কিন্তু কিভাবে এই কাগজ পত্র তৈরি করলেন তা সন্দেহ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাানের জোড়ালো তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দ্বাবী জানান। এ বিষয়ে বলড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হোসনেআরা বলেন, ওয়ারিশান সনদে আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর ছাড়া আমি কখনো কোনো সনদে স্বাক্ষর করি না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত। একই কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম। তিনি বলেন, বলরাম চন্দ্র সরকার নামে কেউ আমার কাছে ওয়ারিশান সনদের জন্য আসেনি, আমি কোনো সনদে স্বাক্ষরও করিনি। এদিকে ওয়ারিশান সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ওয়ারিশ ফরম, ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, মোবাইল নম্বর এবং চৌকিদারি ট্যাক্সের তথ্য—সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট স্মারকের কোনো তথ্য ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একজন ভারতীয় নাগরিক কীভাবে স্থানীয় প্রশাসনের নথিপত্র সংগ্রহ করে জমি বিক্রি করলেন, তা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা সময়ের দ্বাবী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের সভাপতি খান সেলিম গুরুতর অসুস্থ: দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা

হরিরামপুরে জাল সনদে জমি বিক্রির অভিযোগ

Update Time : ০৯:৫০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬
Print

মোঃ নুরুল আমিন জেলা ব্যুরো মানিকগঞ্জ মানিকগঞ্জের হরিরামপুর উপজেলায় তথ্য গোপন করে এক ভারতীয় নাগরিকের পৈত্রিক জমি বিক্রির অভিযোগে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলার বলড়া ইউনিয়নে এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে উঠেছে নানা প্রশ্ন—কীভাবে একজন ভারতীয় নাগরিক বাংলাদেশে স্থানীয়ভাবে জন্মনিবন্ধন ও ওয়ারিশান সনদ সংগ্রহ করলেন। অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বলড়া ইউনিয়নের বাসিন্দা গোপাল চন্দ্র সরকার প্রায় ৩৫ বছর আগে স্ত্রী ও দুই পুত্র—কৃষ্ণ চন্দ্র সরকার ও বলরাম চন্দ্র সরকারকে নিয়ে ভারতে চলে যান। এরপর থেকে তাদের সঙ্গে স্থানীয় আত্মীয়স্বজনের কোনো যোগাযোগ ছিল না। স্থানীয়দের দাবি, তারা আর কখনো বাংলাদেশে ফিরে আসেননি। তবে বিস্ময়করভাবে, গত ২৬ অক্টোবর ২০২৫ তারিখে জন্ম সনদ ও ২৭ অক্টোবর ২০২৫ ইং তারিখে বলড়া ইউনিয়ন পরিষদ থেকে একটি ওয়ারিশান সনদ ইস্যু করা হয়, যেখানে গোপাল চন্দ্র সরকারের একমাত্র পুত্র হিসেবে বলরাম চন্দ্র সরকার কে উল্লেখ করা হয়। পরে ওই সনদের ভিত্তিতে ২০২৬ ইং সালের ৭ জানুয়ারি ১৪নং দলিল মূলে কোকরহাটি গ্রামের গয়জদ্দিন এর পুত্র মোঃ ইউসুফ আলীও বলড়া গ্রামের মোঃ হায়দার আলীর পুত্র মোঃ গিয়াস উদ্দিন ও মোঃ করম আলীর পুত্র মোঃ চাঁন মিয়ার কাছে ১৩.৫০ শতাংশ, ১৫ নং দলিল মূলে বলড়া গ্রামের মোঃ বিল্লাল বেপারীর পুত্র মোঃ মেশারফ হোসেন এর কাছে ৮ শতাংশ, ১৬ নং দলিল মূলে বলড়া গ্রামের মোঃ কুতুব উদ্দিন এর পুত্র মোঃ মোস্তফার কাছে ৮ শতাংশ, ২০ নং দলিল মূলে কোকরহাটি গ্রামের মনিন্দ্র সরকার এর পুত্র ভেলানাথ সরকার এর কাছে ৫.৫০ শতাংশ, ২১ নং দলিল মূলে কোকরহাটি গ্রামের গয়জদ্দিন এর পুত্র মোঃ ইউসুফ আলী ও আহম্মদ আলীর পুত্র রেজাউল করিম এর নিকট ৪ শতাংশ মোট ৫টি দলিলের মাধ্যমে ৩৯ শতাংশ জমি বিক্রি করা হয়। কোকরহাটি গ্রামের বাসিন্দা শায়েস্তা খাঁ বলেন, আমরা জানতাম গোপাল চন্দ্র সরকারের দুই ছেলে রয়েছে। কিন্তু হঠাৎ শুনছি একজনকে একমাত্র উত্তরাধিকারী দেখিয়ে জমি বিক্রি করা হয়েছে। বিষয়টি সন্দেহজনক, সঠিক তদন্ত প্রয়োজন। এদিকে, গোপাল চন্দ্র সরকারের আপন ভাইয়ের স্ত্রী রাণী সরকার জানান আমার ভাসুর গোপাল চন্দ্র সরকার আনুমানিক ৩৫ বছর আগে ভারতে গিয়ে নাগরিকত্ব গ্রহণ করেন। তার দুই ছেলে থাকলেও কীভাবে একজনকে একমাত্র উত্তরাধিকারী দেখিয়ে ওয়ারিশ সনদ ও জন্ম নিবন্ধন বানিয়েছি বলে জানতে পরেছি কিন্তু কিভাবে এই কাগজ পত্র তৈরি করলেন তা সন্দেহ রয়েছে। এ বিষয়ে প্রশাানের জোড়ালো তদন্ত ও দোষীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দ্বাবী জানান। এ বিষয়ে বলড়া ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান হোসনেআরা বলেন, ওয়ারিশান সনদে আমার স্বাক্ষর জাল করা হয়েছে। ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর ছাড়া আমি কখনো কোনো সনদে স্বাক্ষর করি না। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা উচিত। একই কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আবদুস সালাম। তিনি বলেন, বলরাম চন্দ্র সরকার নামে কেউ আমার কাছে ওয়ারিশান সনদের জন্য আসেনি, আমি কোনো সনদে স্বাক্ষরও করিনি। এদিকে ওয়ারিশান সনদ প্রদানের ক্ষেত্রে নির্ধারিত নিয়ম অনুযায়ী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ওয়ারিশ ফরম, ইউপি সদস্যের স্বাক্ষর, জাতীয় পরিচয়পত্র বা জন্মনিবন্ধন, মোবাইল নম্বর এবং চৌকিদারি ট্যাক্সের তথ্য—সংরক্ষণের বাধ্যবাধকতা থাকলেও সংশ্লিষ্ট স্মারকের কোনো তথ্য ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসনিক কর্মকর্তার কাছ থেকে পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর এলাকায় তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, একজন ভারতীয় নাগরিক কীভাবে স্থানীয় প্রশাসনের নথিপত্র সংগ্রহ করে জমি বিক্রি করলেন, তা দ্রুত তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহন করা সময়ের দ্বাবী। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন এলাকাবাসী।