
সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার, মোঃ শাকিল খান রাজু:
আন্দোলনের হুমকি দেড় লাখ উপকূলেবাসীর,
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে আবেদন এমপি নয়নের.।
ভোলার দ্বীপ উপজেলা মনপুরায় নির্মাণাধীন টেকসই উপকূলীয় বেড়িবাঁধ প্রকল্পের ওপর পাকা রাস্তা এবং সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপনের দাবি উপকূলের দেড় লাখ বাসিন্দাদের।
তাদের এ দাবির প্রতি সমর্থন জানিয়ে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে লিখিত আবেদন করেছেন চরফ্যাশন-মনপুরা আসনের সংসদ সদস্য ও যুবদলের সাধারণ সম্পাদক নুরুল ইসলাম নয়ন।
এইদিকে দাবি বাস্তবায়ন না হলে মানববন্ধনসহ বৃহত্তর আন্দোলনের কর্মসূচি ঘোষণারও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন উপকূলে বসবাসরত দেড় লাখ বাসিন্দারা।
পাউবো সূত্রে জানা যায়, ২০২২ সালে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় অনুমোদনে ভোলা জেলার মুজিবনগর ও মনপুরায় উপকূলীয় বাঁধ পুনর্বাসন, নিষ্কাশন ব্যবস্থার উন্নয়ন ও তীর সংরক্ষণ” শীর্ষক প্রকল্পের জন্য প্রায় ১ হাজার ১১৭ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। প্রকল্পের আওতায় আধুনিক ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সড়ক উন্নয়ন এবং তীর সংরক্ষণের পরিকল্পনা অন্তর্ভুক্ত ছিল।
ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের তথ্যে জানা যায়, প্রকল্পের প্রাথমিক আলোচনায় বাঁধের ওপর প্রশস্ত সড়ক, আলোকসজ্জা, কার্পেটিং এবং নদীপাড়ে সিসি ব্লক স্থাপনের বিষয় থাকলেও বর্তমানে বাস্তবায়নাধীন কাজের মধ্যে এসব সুবিধার অনেকগুলোই অন্তর্ভুক্ত নেই।
এতেই ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে মনপুরা উপকূলের স্থানীয় বাসিন্দরা। তারা এই ব্যাপারে কয়েকদফা মিটিং করে স্থানীয় এমপির হস্তক্ষেপ কামনা করেন। পরে এমপি নুরুল ইসমলাম নয়ন পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে ডিও লেটার দেন।
রোববার সকাল ১০ টায় পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের একটি টিম বাঁধের ওপর পাকা রাস্তা, সিসি ব্লক ও সোলার লাইট স্থাপনের যৌক্তিকতা যাচাই করেন।
এদিকে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ে দেওয়া আবেদনে সংসদ সদস্য নুরুল ইসলাম নয়ন উল্লেখ করেন, প্রবল জোয়ার-ভাটা ও নদীর ঢেউয়ের আঘাত থেকে বাঁধকে দীর্ঘমেয়াদে সুরক্ষিত রাখতে ঝুঁকিপূর্ণ অংশে সিসি ব্লক দ্বারা ঢাল সংরক্ষণ অত্যন্ত জরুরি। একই সঙ্গে জনগণের চলাচল সহজ ও নিরাপদ করতে পুরো বাঁধের ওপর পাকা কার্পেটিং রাস্তা নির্মাণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন তিনি।
আবেদনে তিনি আরও বলেন, এসব উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়িত হলে মনপুরার উপকূলীয় বাঁধটি একটি আধুনিক “মেরিন ড্রাইভ”-এ রূপ নিতে পারে, যা পর্যটন সম্ভাবনা বৃদ্ধির পাশাপাশি দ্বীপাঞ্চলের অভ্যন্তরীণ যোগাযোগ ব্যবস্থায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন আনবে।
সংসদ সদস্যের মতে, বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চল হওয়ায় দুর্যোগকালীন সময়ে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং রাতের যাতায়াত নির্বিঘ্ন রাখতে পুরো বাঁধজুড়ে নির্দিষ্ট দূরত্ব পরপর সোলার স্ট্রিট লাইট স্থাপন করা প্রয়োজন।
এই ব্যাপারে উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. কামাল উদ্দিন বলেন, মনপুরার প্রায় ৫০ কিলোমিটারের বেশি বেড়িবাঁধের উন্নয়ন কাজ চলমান রয়েছে। কিন্তু সিসি ব্লক, কার্পেটিং ও আলোকসজ্জা ছাড়া প্রকল্পের স্থায়িত্ব ও কার্যকারিতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হবে। আমরা চাই বরাদ্দ কমিয়ে নয়, প্রয়োজন হলে বাড়িয়ে প্রকল্পটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়ন করা হোক।
জনতা ঘাট এলাকার ব্যবসায়ী মিজানুর রহমান বলেন, বেড়িবাঁধের ওপর সোলার লাইট না থাকলে রাতে মানুষের চলাচলে চরম দুর্ভোগ হবে। দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার স্বার্থে সিসি ব্লক ও কার্পেটিংও জরুরি। এসব দাবি উপেক্ষা করা হলে আমরা পানি উন্নয়ন বোর্ড ও ঠিকাদার প্রতিষ্ঠানসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে গণআন্দোলনে নামতে বাধ্য হবো। একই দাবী করেন উপজেলার ৪ টি ইউনিয়নের বাসিন্দারা।
এই ব্যাপারে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) ডিভশন-২ এর নির্বাহী প্রকৌশলী আসফাউদৌলা জানান, এমপি মহোদয়ের ডিও লেটারে দেওয়া পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের একটি টিম নির্মাণাধীন বেড়ীবাঁধ প্রকল্প দেখে গেছেন। তারা পজেটিভ। বেড়ীবাঁধ প্রকল্পে পাকা রাস্তা ও সোলার লাইট স্থাপনে মন্ত্রণালয় অনুমোদন দেবে বলে তিনি আশাবাদী।
Reporter Name 


















