ঢাকা ০৬:১৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬, ১৩ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

দর্শনা প্রেসক্লাবে মাদক কারবারিদের হামলা-ভাঙচুর : সাংবাদিককে মারধর

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৭:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫২ Time View
Print

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ।

স্টাফ রিপোর্টার:-

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা প্রেসক্লাবে একদল দুর্বৃত্তের হামলায় একজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে মারধর, মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং লাইট বন্ধ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আজিমপুর গ্রামের আতর আলীর ছেলে চঞ্চলসহ কয়েকজন ব্যক্তি প্রেসক্লাবের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন। একপর্যায়ে তারা প্রেসক্লাবের দেয়ালে অশোভন আচরণ করেন এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় প্রেসক্লাবের অফিস সহকারী আব্বাস আলী বিষয়টি দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হান্নানকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চঞ্চল তার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে। পরিস্থিতি বেগতিক হলে হান্নান প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেন।অভিযোগ রয়েছে, এরপর চঞ্চলের নেতৃত্বে আরও ১০-১২ জনের একটি দল জোরপূর্বক প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে। তারা লাইট বন্ধ করে অন্ধকারের মধ্যে হান্নানের ওপর হামলা চালায় এবং তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে। এতে প্রেসক্লাব এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানসহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় দর্শনা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন। সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।বক্তারা বলেন, প্রেসক্লাব কোনো সাধারণ স্থান নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেখানে ঢুকে এ ধরনের হামলা গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি দেখানোর শামিল। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন বলেন, এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের অপচেষ্টা। আমরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং প্রশাসনের কাছে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্ব গণমাধ্যম দিবসে ফেডারেশন অব বাংলাদেশ জার্নালিস্ট অর্গানাইজেশনের আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত।

দর্শনা প্রেসক্লাবে মাদক কারবারিদের হামলা-ভাঙচুর : সাংবাদিককে মারধর

Update Time : ১২:৪৭:৩২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ এপ্রিল ২০২৬
Print

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ।

স্টাফ রিপোর্টার:-

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা প্রেসক্লাবে একদল দুর্বৃত্তের হামলায় একজন সাংবাদিক আহত হয়েছেন। হামলাকারীরা প্রেসক্লাবের ভেতরে ঢুকে মারধর, মোবাইল ফোন ভাঙচুর এবং লাইট বন্ধ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং সাংবাদিকদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে।প্রত্যক্ষদর্শী ও প্রেসক্লাব সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) রাত আনুমানিক ১১টার দিকে আজিমপুর গ্রামের আতর আলীর ছেলে চঞ্চলসহ কয়েকজন ব্যক্তি প্রেসক্লাবের আশপাশে ঘোরাফেরা করছিলেন। একপর্যায়ে তারা প্রেসক্লাবের দেয়ালে অশোভন আচরণ করেন এবং সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ সময় প্রেসক্লাবের অফিস সহকারী আব্বাস আলী বিষয়টি দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হান্নানকে জানালে তিনি ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রতিবাদ করেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে চঞ্চল তার ওপর হামলা চালায় এবং তাকে মারধর করে। পরিস্থিতি বেগতিক হলে হান্নান প্রেসক্লাবের ভেতরে আশ্রয় নেন।অভিযোগ রয়েছে, এরপর চঞ্চলের নেতৃত্বে আরও ১০-১২ জনের একটি দল জোরপূর্বক প্রেসক্লাবে প্রবেশ করে। তারা লাইট বন্ধ করে অন্ধকারের মধ্যে হান্নানের ওপর হামলা চালায় এবং তার ব্যবহৃত একটি মোবাইল ফোন ভাঙচুর করে। এতে প্রেসক্লাব এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
ঘটনার খবর পেয়ে দর্শনা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেহেদী হাসানসহ পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পুলিশ জানায়, লিখিত অভিযোগ পেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।এ ঘটনার প্রতিবাদে শনিবার (২৫ এপ্রিল) দুপুর সাড়ে ১২টায় দর্শনা প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে এক জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে সভাপতিত্ব করেন সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন। সভায় বক্তব্য রাখেন প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল, সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, সাবেক সভাপতি মনিরুজ্জামান ধীরু, সাবেক সভাপতি জাহিদুল ইসলামসহ অন্যান্য সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।বক্তারা বলেন, প্রেসক্লাব কোনো সাধারণ স্থান নয়; এটি স্বাধীন সাংবাদিকতার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান। সেখানে ঢুকে এ ধরনের হামলা গণমাধ্যমকে ভয়ভীতি দেখানোর শামিল। তারা দ্রুত হামলাকারীদের গ্রেফতার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।সাংবাদিক সমিতির সভাপতি আওয়াল হোসেন বলেন, এটি শুধু একজন সাংবাদিকের ওপর হামলা নয়, বরং গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের অপচেষ্টা। আমরা মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি এবং প্রশাসনের কাছে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতারের দাবি জানাচ্ছি।