ঢাকা ০৩:৪৪ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নারী সংক্রান্ত অভিযোগের কথা বলে চৌকিদারের মাধ্যমে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ; সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি ভুক্তভোগীর, অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তের।

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৪৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ১৬ Time View
Print

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ শাকিল খান রাজু।

ভোলার মনপুরায় নারী সংক্রান্ত অভিযোগের কথা বলে চৌকিদারের মাধ্যমে এক কৃষককে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে মারধর ও মাথার চুল কেটে (ন্যাড়া) করে  দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাকির হোসেন দুলালের বিরুদ্ধে। তবে এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত জাকির হোসেন দুলাল মেম্বার।

মঙ্গলবার দুপুর ২টায় মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কৃষক মো. আলাউদ্দিন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী মো. আলাউদ্দিন উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক।

সংবাদ সম্মেলনে আলাউদ্দিন বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফরিদ ও কালাম নামে দুই ব্যক্তি তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে উপজেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার হস্তক্ষেপে বিরোধটির সমাধান হয়। কিন্তু পরবর্তীতে নারী সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে চৌকিদারের মাধ্যমে তাকে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন দুলালের নেতৃত্বে তাকে মারধর করে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করা হয়। এরপর তাকে বাজারে বাজারে ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলাউদ্দিন বলেন, মারধরের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসা নিতে পারেননি। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে কোরআনের হাফেজ ছেলের সামনে মুখ দেখাতে পারছেন না বলেও দাবি করেন। ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি চরম অপমানিত। এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য জাকির হোসেন দুলাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় এর আগেও বহু নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে । উপস্থিত মানুষের তোপের মুখে তাকে ন্যাড়া করতে হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেছেন অভিযুক্ত আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন যাবত নানান অপরাধের সাথে জড়িত । সে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বাসায় উঁকি দেই এবং নারীদের উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন।
তবে মনপুরা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাহাত বলেন, ‘কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। অভিযোগে বর্ণিত ঘটনা সত্য হলে তা নিন্দনীয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। ভুক্তভোগী চাইলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. কামাল উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মিলন মাতাব্বর বলেন, দলীয় কার্যালয়ে এমন ঘটনা ন্যাক্কারজনক ও নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আপনাদের কাছ থেকে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমোহনের বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার, প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা

নারী সংক্রান্ত অভিযোগের কথা বলে চৌকিদারের মাধ্যমে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ; সংবাদ সম্মেলনে বিচার দাবি ভুক্তভোগীর, অভিযোগ অস্বীকার অভিযুক্তের।

Update Time : ১২:৪৪:১৩ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
Print

সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টার মোঃ শাকিল খান রাজু।

ভোলার মনপুরায় নারী সংক্রান্ত অভিযোগের কথা বলে চৌকিদারের মাধ্যমে এক কৃষককে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে মারধর ও মাথার চুল কেটে (ন্যাড়া) করে  দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিএনপি নেতা ও ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জাকির হোসেন দুলালের বিরুদ্ধে। তবে এক বিবৃতিতে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেন অভিযুক্ত জাকির হোসেন দুলাল মেম্বার।

মঙ্গলবার দুপুর ২টায় মনপুরা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী কৃষক মো. আলাউদ্দিন।
অভিযোগ অনুযায়ী, গত শনিবার (১১ জুলাই) সকালে উপজেলার ৩ নম্বর উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের বাংলাবাজার বিএনপি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। পরে ঘটনাটির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়।
ভুক্তভোগী মো. আলাউদ্দিন উপজেলার উত্তর সাকুচিয়া ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা। তিনি পেশায় একজন কৃষক।

সংবাদ সম্মেলনে আলাউদ্দিন বলেন, জমি-সংক্রান্ত বিরোধের জেরে ফরিদ ও কালাম নামে দুই ব্যক্তি তার কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করেন। পরে উপজেলা বিএনপির দুই শীর্ষ নেতার হস্তক্ষেপে বিরোধটির সমাধান হয়। কিন্তু পরবর্তীতে নারী সংক্রান্ত অভিযোগ তুলে চৌকিদারের মাধ্যমে তাকে বিএনপি কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে ইউপি সদস্য জাকির হোসেন দুলালের নেতৃত্বে তাকে মারধর করে মাথার চুল কেটে ন্যাড়া করা হয়। এরপর তাকে বাজারে বাজারে ঘোরানো হয় বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এ সময় কান্নাজড়িত কণ্ঠে আলাউদ্দিন বলেন, মারধরের কারণে তিনি অসুস্থ হয়ে পড়লেও চিকিৎসা নিতে পারেননি। এ ঘটনায় পরিবারের সদস্যদের, বিশেষ করে কোরআনের হাফেজ ছেলের সামনে মুখ দেখাতে পারছেন না বলেও দাবি করেন। ঘটনার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, ‘আমি চরম অপমানিত। এর সুষ্ঠু বিচার চাই।’
তবে অভিযুক্ত বিএনপি নেতা ও ইউপি সদস্য জাকির হোসেন দুলাল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, তার বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মিথ্যা অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। তার বিরুদ্ধে এলাকায় এর আগেও বহু নারী কেলেঙ্কারির অভিযোগ উঠেছে । উপস্থিত মানুষের তোপের মুখে তাকে ন্যাড়া করতে হয়েছে।

স্থানীয়রা বলেছেন অভিযুক্ত আলাউদ্দিন দীর্ঘদিন যাবত নানান অপরাধের সাথে জড়িত । সে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন বাসায় উঁকি দেই এবং নারীদের উত্তপ্ত করার চেষ্টা করেন।
তবে মনপুরা সিনিয়র জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী অ্যাডভোকেট রাহাত বলেন, ‘কেউ আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। অভিযোগে বর্ণিত ঘটনা সত্য হলে তা নিন্দনীয় এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের শামিল। ভুক্তভোগী চাইলে আইনি ব্যবস্থা নিতে পারেন।’

এ বিষয়ে মনপুরা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ডা. কামাল উদ্দিন ও ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমান মিলন মাতাব্বর বলেন, দলীয় কার্যালয়ে এমন ঘটনা ন্যাক্কারজনক ও নিন্দনীয়। ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

মনপুরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনার বিষয়ে আপনাদের কাছ থেকে শুনেছি। লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।