ঢাকা ১২:০৩ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০৭ নভেম্বর ২০২৬, ২২ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজশাহীতে ছিনতাইয়ের মামলায় দুই যুবক গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেলসহ আলামত জব্দ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামি শনাক্ত, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এসআই মিজানুর রহমানের

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
  • ১৯ Time View
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহী মহানগরীতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে এক নারীর স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মুঠোফোনসহ ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কর্ণহার থানার দর্শনপাড়া এলাকার তিন রাস্তার মোড় থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, দুটি মুঠোফোন ও একটি হেলমেট জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আরএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ মসিউর রহমানের দিকনির্দেশনায় এবং এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আকাশ (২৩) ও মো. হাসিবুর রহমান (২০)। তাঁদের বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর কর্ণহার থানার ঘোষপুকুর ও সুন্দলপুর এলাকায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে এক নারী তাঁর স্বামীর সঙ্গে অটোরিকশায় করে মোহনপুর উপজেলার ধুরইল গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে এয়ারপোর্ট থানার তকিপুর এলাকায় সিভিল এভিয়েশন স্কুলের পশ্চিম পাশে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি ওই নারীর হাতে থাকা ব্যাগটি টান দিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।

ছিনতাই হওয়া ব্যাগে এক জোড়া স্বর্ণের বালা, দুটি স্বর্ণের চেন, একটি স্বর্ণের আংটি, একটি ওয়ানপ্লাস ১০আর মুঠোফোন এবং নগদ ৬৫ হাজার টাকা ছিল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ করলে দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারায় মামলা করা হয়। মামলাটি এয়ারপোর্ট থানার ২ নম্বর মামলা, তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২৬।

মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর এসআই মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করেন। পরে ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর স্বামীর সহায়তায় ফুটেজে থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে কর্ণহার থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আরিফুল ইসলামের হেফাজত থেকে সিলভার রঙের আইকিউওও (iQOO) ব্র্যান্ডের একটি ব্যবহৃত মুঠোফোন এবং হাসিবুর রহমানের হেফাজত থেকে পার্ক গ্রিন রঙের ভিভো (vivo) ব্র্যান্ডের একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত কালো রঙের ওপর হালকা লাল রঙের ১৫০ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেল ও একটি কালো হেলমেট জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের সময় আরিফুল ইসলাম মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং হাসিবুর রহমান পেছনে বসে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মুঠোফোন উদ্ধারের লক্ষ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। জব্দ করা আলামত এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের মালখানায় সংরক্ষিত রয়েছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

মাদক, চাঁদাবাজি ও দখলদারত্বের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে: প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক

রাজশাহীতে ছিনতাইয়ের মামলায় দুই যুবক গ্রেপ্তার, মোটরসাইকেলসহ আলামত জব্দ সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে আসামি শনাক্ত, তদন্তে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা এসআই মিজানুর রহমানের

Update Time : ০৯:৪৭:২৫ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৬ নভেম্বর ২০২৬
Print

নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী

রাজশাহী মহানগরীতে চলন্ত অটোরিকশা থেকে এক নারীর স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মুঠোফোনসহ ব্যাগ ছিনতাইয়ের ঘটনায় দুই যুবককে গ্রেপ্তার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। গত বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বিকেলে কর্ণহার থানার দর্শনপাড়া এলাকার তিন রাস্তার মোড় থেকে তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত একটি মোটরসাইকেল, দুটি মুঠোফোন ও একটি হেলমেট জব্দ করা হয়েছে।

পুলিশ জানায়, আরএমপির অতিরিক্ত উপপুলিশ কমিশনার (এডিসি) মোহাম্মদ মসিউর রহমানের দিকনির্দেশনায় এবং এয়ারপোর্ট থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এ অভিযান পরিচালিত হয়। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের মাধ্যমে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত এবং গ্রেপ্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন।

গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন মো. আরিফুল ইসলাম ওরফে আকাশ (২৩) ও মো. হাসিবুর রহমান (২০)। তাঁদের বাড়ি রাজশাহী মহানগরীর কর্ণহার থানার ঘোষপুকুর ও সুন্দলপুর এলাকায়।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ১৫ অক্টোবর ২০২৬ তারিখ সন্ধ্যা সাড়ে পাঁচটার দিকে এক নারী তাঁর স্বামীর সঙ্গে অটোরিকশায় করে মোহনপুর উপজেলার ধুরইল গ্রামের বাড়িতে যাচ্ছিলেন। পথে এয়ারপোর্ট থানার তকিপুর এলাকায় সিভিল এভিয়েশন স্কুলের পশ্চিম পাশে রাজশাহী-নওগাঁ মহাসড়কে পৌঁছালে মোটরসাইকেলে আসা দুই ব্যক্তি ওই নারীর হাতে থাকা ব্যাগটি টান দিয়ে ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যান।

ছিনতাই হওয়া ব্যাগে এক জোড়া স্বর্ণের বালা, দুটি স্বর্ণের চেন, একটি স্বর্ণের আংটি, একটি ওয়ানপ্লাস ১০আর মুঠোফোন এবং নগদ ৬৫ হাজার টাকা ছিল। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী নারী এয়ারপোর্ট থানায় অভিযোগ করলে দণ্ডবিধির ৩৯২ ধারায় মামলা করা হয়। মামলাটি এয়ারপোর্ট থানার ২ নম্বর মামলা, তারিখ ১৫ অক্টোবর ২০২৬।

মামলার তদন্তভার পাওয়ার পর এসআই মো. মিজানুর রহমান ঘটনাস্থল ও আশপাশের বিভিন্ন স্থানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ শুরু করেন। পরে ভুক্তভোগী নারী ও তাঁর স্বামীর সহায়তায় ফুটেজে থাকা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের শনাক্ত করা হয়। তদন্তের ধারাবাহিকতায় তাঁদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে কর্ণহার থানা পুলিশের সহায়তায় অভিযান চালিয়ে দুই যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, গ্রেপ্তার আরিফুল ইসলামের হেফাজত থেকে সিলভার রঙের আইকিউওও (iQOO) ব্র্যান্ডের একটি ব্যবহৃত মুঠোফোন এবং হাসিবুর রহমানের হেফাজত থেকে পার্ক গ্রিন রঙের ভিভো (vivo) ব্র্যান্ডের একটি মুঠোফোন জব্দ করা হয়েছে। এ ছাড়া তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত কালো রঙের ওপর হালকা লাল রঙের ১৫০ সিসি ডিসকভার মোটরসাইকেল ও একটি কালো হেলমেট জব্দ করা হয়।

প্রাথমিক তদন্তে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, ছিনতাইয়ের সময় আরিফুল ইসলাম মোটরসাইকেল চালাচ্ছিলেন এবং হাসিবুর রহমান পেছনে বসে ছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

মামলার তদন্তের স্বার্থে এবং ছিনতাই হওয়া স্বর্ণালংকার, নগদ টাকা ও মুঠোফোন উদ্ধারের লক্ষ্যে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আদালতে রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে। একই সঙ্গে তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাঁদের কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানানো হয়েছে।

পুলিশ জানায়, মামলাটি বর্তমানে তদন্তাধীন। জব্দ করা আলামত এয়ারপোর্ট থানা পুলিশের মালখানায় সংরক্ষিত রয়েছে।