
এন এস ফারুক, (স্টাফ রিপোর্টার) তারাগঞ্জ, রংপুর রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে শিক্ষার মান বাড়াতে এবং পাঠদানে গতি ফেরাতে প্রশাসনিক নজরদারি জোরদার করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় কর্তৃপক্ষের অনুমোদন ছাড়া দীর্ঘ সাড়ে ১৭ দিন প্রতিষ্ঠানে অনুপস্থিত থাকা এবং কারণ দর্শানোর (শো-কজ) নোটিশের সন্তোষজনক জবাব না দেওয়ায় এক মাদ্রাসা শিক্ষকের বেতন কর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, উপজেলার নেকিরহাট সৈয়দপুর দাখিল মাদ্রাসার গণিত বিষয়ের সহকারী শিক্ষক গত ৬ জুলাই ২০২৬ থেকে ২৩ জুলাই ২০২৬ পর্যন্ত কর্তৃপক্ষকে না জানিয়ে এবং ছুটি অনুমোদন ছাড়াই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। এতে পাঠদান ব্যাহত হওয়ায় চরম ভোগান্তিতে পড়ে শিক্ষার্থীরা। এলাকাবাসী ও মাদ্রাসা সূত্রে জানা যায়, ওই শিক্ষকের দীর্ঘদিন অনুপস্থিত থাকার বিষয়ে সাধারণ শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। প্রথম ধাপে মাদ্রাসা প্রশাসন তাকে কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠালেও তিনি কোনো জবাব দেননি। বিষয়টি নিশ্চিত করে নেকিরহাট সৈয়দপুর দাখিল মাদ্রাসার সুপার আব্দুল মান্নান বলেন, “উক্ত শিক্ষক কোনো পূর্বানুমতি না নিয়েই দীর্ঘদিন অনুপস্থিত ছিলেন। শোকজ করা সত্ত্বেও তিনি কোনো সন্তোষজনক ব্যাখ্যা জমা দেননি। প্রশাসনিক শৃঙ্খলার স্বার্থে আমরা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করি।” শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা আনয়ন ও অনুপস্থিতির সংস্কৃতি বন্ধে তাৎক্ষণিক আইনি পদক্ষেপ নেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাববর হোসেন। তদন্ত শেষে বিধি মোতাবেক ওই শিক্ষকের সাড়ে ১৭ দিনের বেতন কর্তনের নির্দেশ দেন তিনি। ইউএনওর এই কঠোর ভূমিকা এবং শিক্ষাব্যবস্থার মানোন্নয়নে গৃহীত পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন স্থানীয় সুশীল সমাজ ও অভিভাবকবৃন্দ। এ প্রসঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোনাববর হোসেন বলেন, “শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কোনো ধরণের অনিয়ম বা নিয়মভঙ্গ সহ্য করা হবে না। শিক্ষার্থীদের সুশিক্ষা ও নিয়মিত পাঠদান নিশ্চিত করাই আমাদের প্রধান অগ্রাধিকার। অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা এবং শোকজের জবাব না দেওয়া চাকরিবিধির গুরুতর লঙ্ঘন। শিক্ষার উপযুক্ত পরিবেশ বজায় রাখতে এবং সবাইকে সতর্ক করতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এ ধরণের তদারকি ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।”
Reporter Name 


















