ঢাকা ১০:০১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬, ১৫ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা, আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৮:১৭:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
  • ২৭ Time View
Print

মোঃ শফিকুর রহমান

ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

রাজধানীর ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ক্লাব লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ সময় তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আবাহনী ও মোহামেডানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের ফুটবলের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে গত ১৭ বছরে এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি তা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের সেই পথে হাঁটতে চায় না; বরং ক্লাবগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আবাহনী ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট নতুনভাবে সাজানোর মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলায় ক্লাবটির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গন মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার। যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় ও ডিজিটাল ডিভাইসের আসক্তি থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সব ক্লাবের সংগঠক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। মোহামেডানের কর্মকর্তার আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে উপস্থিত থাকাকে তিনি স্পোর্টসম্যানশিপের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ক্লাবগুলো টিকে থাকলে খেলোয়াড়রাও টিকে থাকবে। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ক্লাবকে টেকসই সহযোগিতা দেওয়া হবে। দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

আমিনুল হক জানান, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইতিমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়াভাতা দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া আগামী ২ মে থেকে সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষা বর্ষে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া মাঠে উপস্থিতির ওপরও নির্ভর করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, স্কয়ার গ্রুপের অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া এবং বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহাসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ধামরাইয়ে ৫ ইটভাটায় পরিবেশ অধিদপ্তরের অভিযান: ৩০ লাখ টাকা জরিমানা

ক্রীড়াঙ্গনকে রাজনীতিমুক্ত রাখার ঘোষণা, আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী

Update Time : ০৮:১৭:০৬ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ এপ্রিল ২০২৬
Print

মোঃ শফিকুর রহমান

ঢাকা জেলা প্রতিনিধি

রাজধানীর ধানমন্ডির ঐতিহ্যবাহী আবাহনী ক্লাব লিমিটেড পরিদর্শন করেছেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক। এ সময় তিনি দেশের ক্রীড়াঙ্গনকে যেকোনো ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব ও দলীয়করণ থেকে মুক্ত রাখার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শন শেষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে প্রতিমন্ত্রী বলেন, স্বাধীনতার পর থেকেই আবাহনী ও মোহামেডানের মধ্যকার প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাংলাদেশের ফুটবলের ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তবে গত ১৭ বছরে এই ঐতিহ্যবাহী ক্লাবটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে ব্যবহৃত হয়েছে বলে উল্লেখ করে তিনি তা দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন।

তিনি বলেন, বর্তমান সরকার অতীতের সেই পথে হাঁটতে চায় না; বরং ক্লাবগুলোকে সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে কার্যক্রম পরিচালনার পরিবেশ নিশ্চিত করতে কাজ করছে। আবাহনী ক্লাবের ম্যানেজমেন্ট নতুনভাবে সাজানোর মাধ্যমে ফুটবল, ক্রিকেটসহ অন্যান্য খেলায় ক্লাবটির হারানো গৌরব ফিরিয়ে আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি বলেন, ক্রীড়াঙ্গন মাদকের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের অন্যতম কার্যকর হাতিয়ার। যুবসমাজকে নৈতিক অবক্ষয় ও ডিজিটাল ডিভাইসের আসক্তি থেকে রক্ষা করতে খেলাধুলার বিকল্প নেই। মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও মাঠের বাইরে সব ক্লাবের সংগঠক ও খেলোয়াড়দের মধ্যে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। মোহামেডানের কর্মকর্তার আবাহনী ক্লাব পরিদর্শনে উপস্থিত থাকাকে তিনি স্পোর্টসম্যানশিপের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, ক্লাবগুলো টিকে থাকলে খেলোয়াড়রাও টিকে থাকবে। এ কারণে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের ক্লাবকে টেকসই সহযোগিতা দেওয়া হবে। দেশের ক্রীড়াঙ্গন ও খেলোয়াড়দের উন্নয়নে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন তিনি।

আমিনুল হক জানান, খেলাধুলাকে পেশা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে ইতিমধ্যে ৩০০ জন খেলোয়াড়কে ক্রীড়াভাতা দেওয়া হয়েছে। আগামী অর্থবছরে এই সংখ্যা ৫০০ জনে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে। এছাড়া আগামী ২ মে থেকে সিলেটে পরীক্ষামূলকভাবে শিক্ষা বর্ষে খেলাধুলাকে বাধ্যতামূলক করার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। এর ফলে শিক্ষার্থীদের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া মাঠে উপস্থিতির ওপরও নির্ভর করবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিসিবি সভাপতি তামিম ইকবাল, স্কয়ার গ্রুপের অঞ্জন চৌধুরী পিন্টু, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশনের সাবেক সহ-সভাপতি শেখ বশির আহমেদ মামুন, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া এবং বিসিবির অ্যাডহক কমিটির সদস্য ফাহিম সিনহাসহ বিভিন্ন ক্রীড়া ব্যক্তিত্ব।