ঢাকা ০৩:৪০ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৭ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গোদাগাড়ীতে এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:৫৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
  • ২৬৩ Time View
Print

মোঃ সুজন আহাম্মেদ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানা-এর উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, উদ্ধারকৃত হেরোইন সরিয়ে বিক্রি এবং বিচারপ্রার্থীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি উঠেছে উদ্ধারকৃত মাদক আত্মসাৎকে কেন্দ্র করে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, মাদকসহ আসামি আটকের পর উদ্ধারকৃত আসল মাদক সরিয়ে সেখানে মাদক সদৃশ বস্তু সংযুক্ত করে আদালতে চালান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে ভাটোপাড়া এলাকা থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আলিয়ারা বেগম নামে এক নারীকে আটক করা হয়। পরে ওই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয় (জিআর নং-১০৯)। তবে অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধারকৃত ১০০ গ্রাম হেরোইনের মধ্যে প্রায় ৯০ গ্রামই বিক্রি করে দেন এসআই জুয়েল। বাকি ১০ গ্রাম ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে অবশিষ্ট অংশে মাদক সদৃশ বস্তু মিশিয়ে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। থানার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উদ্ধারকৃত মাদক বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে নতুন নয়; এটি অনেকটাই নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শুধু মাদক বাণিজ্য নয়, ফসলি জমির টপসয়েল বা ওপরিভাগের মাটি কাটার সিন্ডিকেট থেকেও নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে, থানায় গিয়ে নিয়মিত ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় এসআই জুয়েলকে। তবে এ বিষয়ে থানার বর্তমান ওসির সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন হয় না বলেও উল্লেখ করেন তারা। এছাড়াও উপজেলার সাফিনা পার্ক কেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে থানায় ডেকে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন এসআই জুয়েল। দাবিকৃত অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে মামলা কিংবা হয়রানির ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই জুয়েলের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পুলিশের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যথায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার পাশাপাশি পুলিশের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ভাটই বাজারে ভাড়া বাসায় পুলিশের অভিযান: মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপের অভিযোগে আটক ৪

গোদাগাড়ীতে এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির গুরুতর অভিযোগ

Update Time : ১০:৫৭:৩২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৪ মে ২০২৬
Print

মোঃ সুজন আহাম্মেদ, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

রাজশাহীর গোদাগাড়ী মডেল থানা-এর উপপরিদর্শক (এসআই) জুয়েলের বিরুদ্ধে মাদক সিন্ডিকেট পরিচালনা, উদ্ধারকৃত হেরোইন সরিয়ে বিক্রি এবং বিচারপ্রার্থীদের জিম্মি করে অর্থ আদায়ের একাধিক গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে নানা অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। সবচেয়ে আলোচিত অভিযোগটি উঠেছে উদ্ধারকৃত মাদক আত্মসাৎকে কেন্দ্র করে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, মাদকসহ আসামি আটকের পর উদ্ধারকৃত আসল মাদক সরিয়ে সেখানে মাদক সদৃশ বস্তু সংযুক্ত করে আদালতে চালান দেওয়ার অভিযোগ রয়েছে এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে। জানা গেছে, গত ১০ এপ্রিল বিকেল ৪টার দিকে ভাটোপাড়া এলাকা থেকে ১০০ গ্রাম হেরোইনসহ আলিয়ারা বেগম নামে এক নারীকে আটক করা হয়। পরে ওই ঘটনায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা দায়ের করা হয় (জিআর নং-১০৯)। তবে অভিযোগ রয়েছে, উদ্ধারকৃত ১০০ গ্রাম হেরোইনের মধ্যে প্রায় ৯০ গ্রামই বিক্রি করে দেন এসআই জুয়েল। বাকি ১০ গ্রাম ফরেনসিক পরীক্ষার জন্য পাঠিয়ে অবশিষ্ট অংশে মাদক সদৃশ বস্তু মিশিয়ে জব্দ তালিকা প্রস্তুত করা হয়। থানার একাধিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, উদ্ধারকৃত মাদক বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ এসআই জুয়েলের বিরুদ্ধে নতুন নয়; এটি অনেকটাই নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। শুধু মাদক বাণিজ্য নয়, ফসলি জমির টপসয়েল বা ওপরিভাগের মাটি কাটার সিন্ডিকেট থেকেও নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র দাবি করেছে, থানায় গিয়ে নিয়মিত ৫০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত দিতে হয় এসআই জুয়েলকে। তবে এ বিষয়ে থানার বর্তমান ওসির সঙ্গে কোনো ধরনের লেনদেন হয় না বলেও উল্লেখ করেন তারা। এছাড়াও উপজেলার সাফিনা পার্ক কেন্দ্রিক বিভিন্ন কর্মকাণ্ড থেকেও নিয়মিত অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে এই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, বিভিন্ন মামলার বাদী ও বিবাদী উভয় পক্ষকে আপোষ-মীমাংসার কথা বলে থানায় ডেকে এনে ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে মোটা অঙ্কের টাকা আদায় করেন এসআই জুয়েল। দাবিকৃত অর্থ দিতে ব্যর্থ হলে মামলা কিংবা হয়রানির ভয় দেখানো হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এসআই জুয়েলের ব্যক্তিগত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। এ বিষয়ে গোদাগাড়ী মডেল থানা-এর ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আতিকুর রহমান বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ আমার জানা নেই। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হবে এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন মহলের দাবি, পুলিশের একজন সদস্যের বিরুদ্ধে ওঠা এসব গুরুতর অভিযোগ দ্রুত ও নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। অন্যথায় এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ার পাশাপাশি পুলিশের ভাবমূর্তিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।