ঢাকা ০৬:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬, ১৮ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চুয়াডাঙ্গায় ইউনিয়ন পরিষদে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

  • Reporter Name
  • Update Time : ০২:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
  • ২৮ Time View
Print

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ ‌

স্টাফ রিপোর্টার:-

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার খাদিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাসের পরিষদে বসা নিয়ে স্থানীয়দের সাথে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এসময় পরিষদে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ক্ষুব্ধ জনতা। অবরুদ্ধ করে রাখা হয় চেয়ারম্যানকে। পরে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। আজ বেলা ১১টার দিকে খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে একই উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল ও কালিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাকে ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর খাদিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাসকে সাময়িক অপসারণ করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয় জেলা প্রশাসন।এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন চেয়ারম্যান। রিটে পরিষদে বসার অনুমতি পান ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস।
এরপর আজ সকালে খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। স্থানীয় গ্রামবাসী বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিষদে গিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিলে ভাঙচুর চালানো হয়। অবরুদ্ধ করে রাখা হয় চেয়ারম্যানকে। পরে চেয়ারম্যান সমর্থকরাও পরিষদে গিয়ে তাদেরকে ধাওয়া দেন এসময় হামলাকারীরা চারটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে গেলে সেসবে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস অভিযোগ করেন, সকাল থেকে অফিস করছিলাম। কিছু লোকজন পরিষদে এসে ঘেরাও করে। আমাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারতে থাকে।
দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে। কিছু সময়ের জন্য কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে। পরে আমার গ্রামের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে।অপরদিকে, একই উপজেলার নাগদাহ ইউপি চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল ও কালিদাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাকে ধাওয়া দিয়ে পরিষদ থেকে বের করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। তারাও নিজ নিজ পরিষদে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। পরে সেখানেও থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানান সবকয়টি ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ গিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেয়। খাদিমপুরের ঘটনায় জসিম নামে একজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।এছাড়া, হাইকোর্টের রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে ইউনিয়নে বসে দাপ্তরিক কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন আলমডাঙ্গার চিৎলা ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরোয়ার, খাসকররা ইউপি চেয়ারম্যান তাসফির আহমেদ লাল ও ডাউকি ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

শৈলকুপায় আলোচিত ঘটনা: মেয়ের জন্য ঠিক করা পাত্রের সঙ্গে পালিয়েছেন মা

চুয়াডাঙ্গায় ইউনিয়ন পরিষদে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের আশঙ্কা

Update Time : ০২:১৩:৩৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১ মে ২০২৬
Print

মোঃ আসাদুজ্জামান আসাদ ‌

স্টাফ রিপোর্টার:-

চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গার খাদিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাসের পরিষদে বসা নিয়ে স্থানীয়দের সাথে উত্তেজনা দেখা দিয়েছে। এসময় পরিষদে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করে ক্ষুব্ধ জনতা। অবরুদ্ধ করে রাখা হয় চেয়ারম্যানকে। পরে হামলাকারীদের ফেলে যাওয়া কয়েকটি মোটরসাইকেল ভাঙচুর করেন চেয়ারম্যানের সমর্থকরা। আজ বেলা ১১টার দিকে খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদ চত্বরে এ ঘটনা ঘটে একই উপজেলার নাগদাহ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল ও কালিদাসপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাকে ধাওয়া দেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় স্থানীয় বিএনপির কর্মী-সমর্থকদের উপস্থিতি দেখা গেছে। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর খাদিমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাসকে সাময়িক অপসারণ করে সেখানে প্রশাসক নিয়োগ দেয় জেলা প্রশাসন।এই সিদ্ধান্তের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টে রিট পিটিশন দায়ের করেন চেয়ারম্যান। রিটে পরিষদে বসার অনুমতি পান ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস।
এরপর আজ সকালে খাদিমপুর ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে দাপ্তরিক কার্যক্রম শুরু করেন তিনি। স্থানীয় গ্রামবাসী বিষয়টি বুঝতে পেরে পরিষদে গিয়ে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন।চেয়ারম্যানের কক্ষে প্রবেশ করে চেয়ার-টেবিলে ভাঙচুর চালানো হয়। অবরুদ্ধ করে রাখা হয় চেয়ারম্যানকে। পরে চেয়ারম্যান সমর্থকরাও পরিষদে গিয়ে তাদেরকে ধাওয়া দেন এসময় হামলাকারীরা চারটি মোটরসাইকেল ফেলে পালিয়ে গেলে সেসবে ভাঙচুর চালানো হয়। পরে পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।ইউপি চেয়ারম্যান মোজাহিদুর রহমান জোয়ার্দ্দার লোটাস অভিযোগ করেন, সকাল থেকে অফিস করছিলাম। কিছু লোকজন পরিষদে এসে ঘেরাও করে। আমাকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল মারতে থাকে।
দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শন করে। কিছু সময়ের জন্য কক্ষে অবরুদ্ধ করে রাখে। পুরো ঘটনা সিসিটিভি ক্যামেরায় রেকর্ড আছে। পরে আমার গ্রামের লোকজন এসে আমাকে উদ্ধার করে।অপরদিকে, একই উপজেলার নাগদাহ ইউপি চেয়ারম্যান এজাজ ইমতিয়াজ বিপুল ও কালিদাসপুর ইউপি চেয়ারম্যান শেখ আশাদুল হক মিকাকে ধাওয়া দিয়ে পরিষদ থেকে বের করে দিয়েছেন স্থানীয়রা। তারাও নিজ নিজ পরিষদে বসে দাপ্তরিক কাজ করছিলেন। পরে সেখানেও থানা পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়।চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মোস্তাফিজুর রহমান জানান সবকয়টি ঘটনা জানার পরপরই পুলিশ গিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেয়। খাদিমপুরের ঘটনায় জসিম নামে একজনকে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। এখন পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে।এছাড়া, হাইকোর্টের রিট পিটিশনের প্রেক্ষিতে ইউনিয়নে বসে দাপ্তরিক কাজ করার অনুমতি পেয়েছেন আলমডাঙ্গার চিৎলা ইউপি চেয়ারম্যান হাসানুজ্জামান সরোয়ার, খাসকররা ইউপি চেয়ারম্যান তাসফির আহমেদ লাল ও ডাউকি ইউপি চেয়ারম্যান তরিকুল ইসলাম।