
মোঃ জিয়াউদ্দিন, জেলা বিশেষ প্রতিনিধি
ভোলার লালমোহন উপজেলায় সড়ক সম্প্রসারণ কাজে ভয়াবহ অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। করিমুন্নেছা-হাফিজ মহিলা ডিগ্রি কলেজ থেকে পূর্বমুখী মফিজুল ইসলাম কানু সড়কের হেরিংবোন সম্প্রসারণে নিম্নমানের উপকরণ ব্যবহারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। কাজের নিম্নমানের ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন এলাকাবাসী।
সড়কের দুই পাশে উন্নয়ন কাজের অংশ হিসেবে পিচ ঢালাইয়ের পরিবর্তে ইট বসিয়ে হেরিংবোন পদ্ধতিতে নির্মাণ করা হলেও কাজের মান নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে। তাদের অভিযোগ, ব্যবহৃত ইট অত্যন্ত নিম্নমানের এবং যথাযথ বেডিং (বালু/সাববেস) ও কম্প্যাকশন ছাড়াই তড়িঘড়ি করে কাজ শেষ করা হচ্ছে। ফলে ইট বসানোর পরদিনই ভারী যানবাহনের চাপে সড়কের বিভিন্ন অংশ দেবে যাচ্ছে।
লালমোহন মহিলা ডিগ্রি কলেজের সামনে সদ্য নির্মিত অংশে ট্রাক চলাচলের পর একদিনের মধ্যেই রাস্তা বসে যাওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়েছে। স্থানীয়দের আশঙ্কা, এভাবে কাজ চলতে থাকলে যে কোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীর প্রশ্ন, টেকসই উন্নয়নের পরিবর্তে নিম্নমানের কাজের মাধ্যমে সরকারি অর্থ অপচয় করা হচ্ছে কিনা। তারা দ্রুত সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ, কাজের মান যাচাই এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।
সরেজমিনে দেখা যায়, প্রকল্পের কাজে পঁচা, পিকেট ও ভাঙা ইট ব্যবহার করা হচ্ছে। নির্ধারিত পরিমাণ বালি ও পানি ব্যবহার না করে দায়সারা কাজ করার অভিযোগও রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা মাকসুদ, জসিম ও মতিনসহ একাধিক ব্যক্তি জানান, রাস্তার নিচে প্রয়োজনীয় বালির স্তর দেওয়া হচ্ছে না; সামান্য পানির ছিটা দিয়ে কাজ শেষ করা হচ্ছে। এতে বর্ষা মৌসুমে সড়ক সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
আরও উদ্বেগজনক বিষয় হলো, কাজ চলাকালে সংশ্লিষ্ট এলজিইডি কর্মকর্তাদের কাউকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি। প্রকল্প এলাকায় ঠিকাদার পক্ষের লোকজনকেই কাজ তদারকি করতে দেখা গেছে। তবে ঠিকাদারের প্রতিনিধি হিরণ দাবি করেন, প্রথমে এক গাড়ি নিম্নমানের ইট আনা হলেও তা ফেরত পাঠানো হয়েছে এবং বর্তমানে ভালো মানের ইট দিয়েই কাজ চলছে।
Reporter Name 










