ঢাকা ০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পূর্ব বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ, জামিনে বেরিয়ে প্রাণনাশের হুমকি, নিরাপত্তা চাইলেন ভুক্তভোগী পরিবার

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:১৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
  • ১৮ Time View
Print

ফয়ছল কাদির, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো চীফ :

সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানাধীন নয়াবাজার সোনালী আবাসিক এলাকায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে জালালাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মো. শহীদ আহমদ (৪৩)। অভিযোগে হামলার পাশাপাশি ছিনতাই, গুরুতর আহত করা এবং পরবর্তীতে আসামিদের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে।
অভিযোগে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন— মিছবা (৩২), পিতা: ওয়াছির উল্লাহ; তানভীর (১৯), পিতা: সাদির মিয়া; রাকীব (১৯), পিতা: রাজ্জাক; সামির (১৯), পিতা: সাদির মিয়া; এবং সানুর (৪০), পিতা: অজ্ঞাত। তাদের সকলের বাড়ি জালালাবাদ থানাধীন নয়াবাজার এলাকায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে নয়াবাজার সোনালী আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে অভিযোগকারীর বড় ছেলে, যিনি তিনি একজন বিদেশ যাত্রী তাহার উপর দেশীয় অস্ত্র ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে আহত করা হয়েছে । এবং ছোট ছেলেকেও রাস্তায় মাটিতে ফেলে কিল লাথি ঘুসি ও রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। ঠিক তখনি ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে অভিযোগকারী মোঃ শহীদ আহমদ এবং তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার রিনাও হামলার শিকার হয়ে আহত হন। যাহা ওই এলাকার একটি সিসি ক্যামেরা ফুটেজে ডকুমেন্টারি হয়ে আছে বলে দেখা গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়,উক্ত হামলাকারীরা অভিযোগকারী মা-বাবার সামনে জনসম্মুখে তাদের সন্তানদের মারতে মারতে রাস্তায় ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং কিল-ঘুষি-লাথি মেরে ও লোহার রড দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে আহত করে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, লিখিত অভিযোগ দায়েরের সাথে সাথে জালালাবাদ থানার ওসি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তিনি নিজেই অভিযান পরিচালনা করে ২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেন এবং সাথে সাথে মামলা রেকর্ড করে পরদিন সকালে উক্ত আসামীদের আদালতে হস্তান্তর করেন। তারপর উক্ত আসামীদের আদালত থেকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয় । তবে এক সপ্তাহের মধ্যে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে এসে বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে শুরু করে।
অভিযোগকারী মো. শহীদ আহমদের ভাষ্য, মামলা আপস না করলে তার পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অভিযুক্তদের পুনরায় গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

লালমোহনের বিভিন্ন ইউনিয়নে মাদকের বিস্তার, প্রশাসনের কঠোর হস্তক্ষেপ কামনা

পূর্ব বিরোধের জেরে হামলার অভিযোগ, জামিনে বেরিয়ে প্রাণনাশের হুমকি, নিরাপত্তা চাইলেন ভুক্তভোগী পরিবার

Update Time : ১২:১৪:০৬ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৫ জুলাই ২০২৬
Print

ফয়ছল কাদির, সিলেট বিভাগীয় ব্যুরো চীফ :

সিলেট মহানগরের জালালাবাদ থানাধীন নয়াবাজার সোনালী আবাসিক এলাকায় পূর্ব বিরোধকে কেন্দ্র করে সংঘবদ্ধ হামলার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ৫ জনের নাম উল্লেখসহ আরও ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করে জালালাবাদ থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন মো. শহীদ আহমদ (৪৩)। অভিযোগে হামলার পাশাপাশি ছিনতাই, গুরুতর আহত করা এবং পরবর্তীতে আসামিদের পক্ষ থেকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার দাবিও করা হয়েছে।
অভিযোগে নাম উল্লেখ করা ব্যক্তিরা হলেন— মিছবা (৩২), পিতা: ওয়াছির উল্লাহ; তানভীর (১৯), পিতা: সাদির মিয়া; রাকীব (১৯), পিতা: রাজ্জাক; সামির (১৯), পিতা: সাদির মিয়া; এবং সানুর (৪০), পিতা: অজ্ঞাত। তাদের সকলের বাড়ি জালালাবাদ থানাধীন নয়াবাজার এলাকায় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া আরও ৭/৮ জন অজ্ঞাতনামাকে আসামি করা হয়েছে।
লিখিত অভিযোগ অনুযায়ী, গত ৩ জুলাই রাত আনুমানিক সাড়ে ১০টা থেকে ১১টার মধ্যে নয়াবাজার সোনালী আবাসিক এলাকার প্রবেশমুখে পূর্বপরিকল্পিতভাবে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালানো হয়। এতে অভিযোগকারীর বড় ছেলে, যিনি তিনি একজন বিদেশ যাত্রী তাহার উপর দেশীয় অস্ত্র ছুরি দিয়ে আঘাত করে গুরুতর রক্তাক্ত জখম করে আহত করা হয়েছে । এবং ছোট ছেলেকেও রাস্তায় মাটিতে ফেলে কিল লাথি ঘুসি ও রড দিয়ে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। ঠিক তখনি ছেলেদের রক্ষা করতে এগিয়ে আসলে অভিযোগকারী মোঃ শহীদ আহমদ এবং তার স্ত্রী মাহমুদা আক্তার রিনাও হামলার শিকার হয়ে আহত হন। যাহা ওই এলাকার একটি সিসি ক্যামেরা ফুটেজে ডকুমেন্টারি হয়ে আছে বলে দেখা গেছে।

অভিযোগে আরও বলা হয়,উক্ত হামলাকারীরা অভিযোগকারী মা-বাবার সামনে জনসম্মুখে তাদের সন্তানদের মারতে মারতে রাস্তায় ফেলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে রক্তাক্ত জখম করে এবং কিল-ঘুষি-লাথি মেরে ও লোহার রড দিয়ে রক্তাক্ত জখম করে আহত করে। এ সময় তাদের সঙ্গে থাকা প্রায় অর্ধ লক্ষ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়। পরে স্থানীয়দের সহায়তায় আহতদের উদ্ধার করে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
ভুক্তভোগীর দাবি, লিখিত অভিযোগ দায়েরের সাথে সাথে জালালাবাদ থানার ওসি সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে তিনি নিজেই অভিযান পরিচালনা করে ২ জন আসামিকে গ্রেপ্তার করেন এবং সাথে সাথে মামলা রেকর্ড করে পরদিন সকালে উক্ত আসামীদের আদালতে হস্তান্তর করেন। তারপর উক্ত আসামীদের আদালত থেকে জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানো হয় । তবে এক সপ্তাহের মধ্যে তারা জামিনে মুক্ত হয়ে এসে বিভিন্ন মাধ্যমে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য চাপ এবং প্রাণনাশের হুমকি দিতে শুরু করে।
অভিযোগকারী মো. শহীদ আহমদের ভাষ্য, মামলা আপস না করলে তার পরিবারের সবাইকে হত্যা করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হচ্ছে। এ অবস্থায় তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে অভিযুক্তদের পুনরায় গ্রেপ্তার, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত, দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি এবং তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।