ঢাকা ০৬:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ২০ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

মালয়েশিয়ায় খুন হওয়া সেই যুবকের লাশ ফিরল দেশে, বাড়িতে শোকের মাতম

  • Reporter Name
  • Update Time : ১০:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
  • ৬৫ Time View
Print

মোঃ পারভেজ ঝিনাইদহ মালয়েশিয়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের প্রবাসী যুবক নজরুল ইসলামের (৩২) লাশ নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরেছে। শনিবার (২ মে) ভোরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের গোবরডাঙ্গা গ্রামে লাশ এসে পৌছায়। প্রবাসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ১৮ দিন পর ওই লাশ নিজ গ্রামে ফিরেছে। এঘটনায় গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম। আজ শনিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাশ পৌঁছে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষ রাত ৪ টার দিকে নিহতের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় লাশ দাফনের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে নজরুলের মায়ের নামে ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক দেয়া হয়। নিহতের স্বজনরা জানায়, মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে নজরুল ইসলামকে (৩২) কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় কোহিনুর বেগম নামে তার এক বাংলাদেশিও হত্যা করা হয়। নিহত নজরুলের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামে। নিহত নজরুল ইসলাম ওই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। গত ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ায় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০১৮ সালে উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের খবরে ও লাশ গ্রামে পৌছানোর পরে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় একটি সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছিলেন নজরুল ইসলাম। সেখানে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির পাশাপাশি বিভিন্ন পোষা প্রাণী লালন-পালন করতেন তিনি। তার এই ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় অংশীদাররা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। নজরুল ইসলামের ভাই জহির উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে নজরুলের বিরোধ চলছিল এবং তাকে এর আগেও কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সবকিছু গুছিয়ে খুব শিগগির স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার কথা ছিল নজরুলের। কিন্তু তার আগেই আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের ভাগনি সাদিয়া ইসলাম মীম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মামা বলেছিলেন সব বিক্রি করে দ্রুতই দেশে ফিরবেন। আমার মামা দেশে ফিরেছেন ঠিকই, কিন্তু তার দেহ নিথর। আমরা এই ভার কিভাবে বহন করব? এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি বিদেশে হওয়ায় আমাদের কাছে সরাসরি কোনো তথ্য নেই। নিহত নজরুলের বাবা মোতালেব হোসেন ছেলের হত্যাকারীদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বলে শুনেছি। এ ঘটনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর কাজ করবে। আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

৪ দিন ব্যাপী জেলা প্রশাসক সম্মেলন-২০২৬ এর উদ্বোধন

মালয়েশিয়ায় খুন হওয়া সেই যুবকের লাশ ফিরল দেশে, বাড়িতে শোকের মাতম

Update Time : ১০:১৫:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২ মে ২০২৬
Print

মোঃ পারভেজ ঝিনাইদহ মালয়েশিয়ায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের প্রবাসী যুবক নজরুল ইসলামের (৩২) লাশ নিজ গ্রামের বাড়িতে ফিরেছে। শনিবার (২ মে) ভোরে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জের গোবরডাঙ্গা গ্রামে লাশ এসে পৌছায়। প্রবাসে হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ১৮ দিন পর ওই লাশ নিজ গ্রামে ফিরেছে। এঘটনায় গ্রাম জুড়ে চলছে শোকের মাতম। আজ শনিবার (২ এপ্রিল) সকাল ১০ টায় পারিবারিক কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয়। এর আগে শুক্রবার দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ান এয়ারলাইন্সের একটি বিমানে ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে লাশ পৌঁছে। এরপর আইনি প্রক্রিয়া শেষ রাত ৪ টার দিকে নিহতের স্বজনদের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়। এ সময় লাশ দাফনের জন্য বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় থেকে নজরুলের মায়ের নামে ৩৫ হাজার টাকার একটি চেক দেয়া হয়। নিহতের স্বজনরা জানায়, মালয়েশিয়ায় ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে নজরুল ইসলামকে (৩২) কুপিয়ে হত্যার পর মরদেহ পুড়িয়ে দেয় দুর্বৃত্তরা। একই ঘটনায় কোহিনুর বেগম নামে তার এক বাংলাদেশিও হত্যা করা হয়। নিহত নজরুলের বাড়ি ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার গোবরডাঙ্গা গ্রামে। নিহত নজরুল ইসলাম ওই গ্রামের মোতালেব হোসেনের ছেলে। গত ১৪ এপ্রিল দিবাগত রাতে মালয়েশিয়ায় ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ২০১৮ সালে উন্নত জীবনের আশায় মালয়েশিয়ায় পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি। এই হত্যাকাণ্ডের খবরে ও লাশ গ্রামে পৌছানোর পরে গ্রামজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। নিহতের পরিবারে চলছে শোকের মাতম। পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, মালয়েশিয়ায় একটি সমন্বিত খামার গড়ে তুলেছিলেন নজরুল ইসলাম। সেখানে গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগির পাশাপাশি বিভিন্ন পোষা প্রাণী লালন-পালন করতেন তিনি। তার এই ব্যবসায়িক সাফল্যে ঈর্ষান্বিত হয়ে স্থানীয় অংশীদাররা তাকে হত্যার পরিকল্পনা করে। নজরুল ইসলামের ভাই জহির উদ্দিন বলেন, ব্যবসায়িক অংশীদারদের সঙ্গে নজরুলের বিরোধ চলছিল এবং তাকে এর আগেও কয়েকবার হত্যার চেষ্টা করা হয়েছিল। সবকিছু গুছিয়ে খুব শিগগির স্থায়ীভাবে দেশে ফেরার কথা ছিল নজরুলের। কিন্তু তার আগেই আমার ভাইকে হত্যা করা হয়েছে। নিহতের ভাগনি সাদিয়া ইসলাম মীম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মামা বলেছিলেন সব বিক্রি করে দ্রুতই দেশে ফিরবেন। আমার মামা দেশে ফিরেছেন ঠিকই, কিন্তু তার দেহ নিথর। আমরা এই ভার কিভাবে বহন করব? এ বিষয়ে কালীগঞ্জ থানার ওসি জেল্লাল হোসেন বলেন, ঘটনাটি বিদেশে হওয়ায় আমাদের কাছে সরাসরি কোনো তথ্য নেই। নিহত নজরুলের বাবা মোতালেব হোসেন ছেলের হত্যাকারীদের বাংলাদেশ সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছেন বলে শুনেছি। এ ঘটনায় সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর কাজ করবে। আমরা কোনো অভিযোগ পাইনি।