ঢাকা ০১:৫০ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬, ১০ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সরকারি খালপাড়ের গাছ বিক্রি: সাবেক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:৩১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
  • ০ Time View
Print

সাখাওয়াত পাটোয়ারী | ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মালিকানাধীন সরকারি খালপাড়ের গাছ বিক্রির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

গত বুধবার (২২ জুলাই) চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দিন মজুমদার বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ কড়ৈতলী গ্রামের ১৯-বি আনন্দবাজার খালের পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন রেইন্ট্রি, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি সম্পত্তি হিসেবে দাবি করা গাছগুলো কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে গাছ কাটা ও সরিয়ে নেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গাছের ক্রেতা হারুনুর রশিদ বলেন, “আমি সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজীদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে গাছ কিনেছি। তাই গাছ কেটে নিয়েছি।” তবে গাছগুলো সরকারি সম্পত্তি কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দিন মজুমদার বলেন, “সরকারি খালের পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন গাছ বিক্রির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করছি।”

অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজী বলেন, “যেখান থেকে গাছ বিক্রি করা হয়েছে, সেটি আমাদের দুই পরিবারের ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি। গাছগুলো আমার শ্বশুরের লাগানো। তাই সেগুলো আমরা বিক্রি করেছি।”

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে সরকারি জমি বা সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গাছগুলো সরকারি খালপাড়ে ছিল, নাকি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে—এ বিষয়টি তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার পরই অভিযোগের সত্যতা ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

আশুলিয়া ঐক্য সেন্ট্রাল প্রেস ক্লাবের উদ্যোগে আলোচনা সভা, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত।

সরকারি খালপাড়ের গাছ বিক্রি: সাবেক চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে অভিযোগ

Update Time : ১২:৩১:৪১ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৬ জুলাই ২০২৬
Print

সাখাওয়াত পাটোয়ারী | ভ্রাম্যমাণ প্রতিনিধি

চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) মালিকানাধীন সরকারি খালপাড়ের গাছ বিক্রির অভিযোগে তদন্ত শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সভাপতি ও সাবেক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজীসহ সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ করেছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

গত বুধবার (২২ জুলাই) চাঁদপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দিন মজুমদার বাদী হয়ে ফরিদগঞ্জ থানায় অভিযোগটি দায়ের করেন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, উপজেলার পাইকপাড়া দক্ষিণ ইউনিয়নের দক্ষিণ কড়ৈতলী গ্রামের ১৯-বি আনন্দবাজার খালের পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন রেইন্ট্রি, কড়ইসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছ প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজার টাকায় বিক্রি করা হয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি সম্পত্তি হিসেবে দাবি করা গাছগুলো কেটে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রকাশ্যে গাছ কাটা ও সরিয়ে নেওয়ার পরও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি। এতে সরকারি সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

গাছের ক্রেতা হারুনুর রশিদ বলেন, “আমি সাবেক চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজীদের কাছ থেকে টাকা দিয়ে গাছ কিনেছি। তাই গাছ কেটে নিয়েছি।” তবে গাছগুলো সরকারি সম্পত্তি কি না, সে বিষয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপসহকারী প্রকৌশলী মো. নিজাম উদ্দিন মজুমদার বলেন, “সরকারি খালের পাড়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের মালিকানাধীন গাছ বিক্রির ঘটনায় থানায় লিখিত অভিযোগ করেছি। তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রত্যাশা করছি।”

অভিযোগ অস্বীকার করে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান হুমায়ুন কাজী বলেন, “যেখান থেকে গাছ বিক্রি করা হয়েছে, সেটি আমাদের দুই পরিবারের ব্যক্তি মালিকানাধীন সম্পত্তি। গাছগুলো আমার শ্বশুরের লাগানো। তাই সেগুলো আমরা বিক্রি করেছি।”

ফরিদগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ এরশাদ উল্যাহ বলেন, “লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে। তদন্তে সরকারি জমি বা সরকারি গাছ বিক্রির অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

গাছগুলো সরকারি খালপাড়ে ছিল, নাকি ব্যক্তি মালিকানাধীন জমিতে—এ বিষয়টি তদন্তে নিশ্চিত হওয়ার পরই অভিযোগের সত্যতা ও পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা সম্পর্কে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।