ঢাকা ০৫:৫৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২১ মে ২০২৬, ৬ জ্যৈষ্ঠ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃক ফুটপাত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ফল ও নগদ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৯:০৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
  • ৩৮ Time View
Print

আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃক শহরের ফুটপাত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ফল ও নগদ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে এক ফুটপাত দোকানী কর্তৃক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান শহরের মুন্সিপাড়া গ্রামের নুর ইসলাম গাজীর পুত্র মাহমুদ হাসান বাবু। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা শহরের পাকাপুল (ব্রীজের) ফুটপাতে বিভিন্ন ধরনের ফল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। সারা দিন ফল বিক্রি করে যা পাই তা দিয়ে কোন রকমে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেই। থানা মোড় থেকে লাবনী মোড় পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ব্যক্তি ফুটপথে এভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা পৌরসভার পক্ষ থেকে সকল কে উঠে যাওয়ার জন্য বলে। সে নির্দেশ মোতাবেক আমিও ফুটপথে দোকান পাতানো বন্ধ করে দেই। কিন্তু অন্য কেউ দোকান পাতানো বন্ধ করেনি বিধায়। কয়েকদিন পর সকলের দেখাদেখি আমি পুনরায় দোকান পাতানো শুরু করি। গত মঙ্গলবার দুপুরে আমি যখন যোহরের নামাজ পড়তে মসজিদে যায় তখন পৌরসভার কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে আমাকে না পেয়ে ফল ও ফল বিক্রির টাকা পয়সা নিয়ে চলে যায়। নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখি আমার মালামাল নেই। অথচ পাশেই অনেকেই দোকান পরিচালনা করছে। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে পৌরসভা থেকে এসে তোমার দোকান তুলে নিয়ে গেছে। আমি পৌরসভায় গেলে বর্তমান সিইও বলেন “তোমার মালামাল আমরা এতিম খানায় দিয়ে দিছি। দরখাস্ত করে ছাতা এবং দাড়ীপাল্লাটা নিয়ে যাও।” মালামাল সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে এতিম এখানায় দিলেন কেন? এ প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, আমি অসহায় দরিদ্র মানুষ বলেই তো রাস্তার ফুটপাতে বসে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। আমার অপরাধ হয়ে থাকলে জরিমানা করবে, কিন্তু মালামাল তুলে নিয়ে এতিম খানায় দেওয়ার আইন কোথায় পেলো পৌরসভা। এছাড়া ফুটপথে শতাধিক ব্যক্তি ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেই। আমার উপর পৌরসভার ক্ষোভ কি কারনে। আমার দোকানে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মালামাল ছিল এবং বিক্রির টাকা ছিল ৫ হাজার। এছাড়া প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্রও ছিলো। যদি ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করতেই হয় তাহলে সবাইকে করুন শুধু আমাকে কেন। আমার ফলসহ নগদ টাকা ফেরতের দাবিতে পৌরসভার সিইও’র কাছে ধর্না দিয়েও লাভ হচ্ছে না। তিনি তার ফলসহ টাকা ফেরত পেতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার সিইও আসাদুজ্জামান বলেন, শহরের যানজট নিরসের জন্য তাকে বার বার ব্রীজের উপর দোকান না বসানোর জন্য বলা হলেও তিনি শোনেনি। যে কারনে অভিযান পরিচালনা করে জব্দ করা ফল গুলো জরিমানা হিসেবে এতিম খানায় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকী মালপত্র আর সেখানে বসবে না এমন শর্তে ফেরত পেতে আবেদন করতে বলা হয়েছে।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

ঝিনাইদহে মানবাধিকার সংস্থার চেয়ারম্যান পরিচয়ে প্রতারণার অভিযোগ, জনতার হাতে আটক

সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃক ফুটপাত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ফল ও নগদ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন

Update Time : ০৯:০৩:১১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২০ মে ২০২৬
Print

আজহারুল ইসলাম সাদী, সিনিয়র স্টাফ রিপোর্টারঃ

সাতক্ষীরা পৌরসভা কর্তৃক শহরের ফুটপাত থেকে তুলে নিয়ে যাওয়া ফল ও নগদ টাকা ফেরত পাওয়ার দাবিতে এক ফুটপাত দোকানী কর্তৃক সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়েছে। বুধবার (২০ মে) দুপুরে সাতক্ষীরা প্রেসক্লাবের অস্থায়ী কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানান শহরের মুন্সিপাড়া গ্রামের নুর ইসলাম গাজীর পুত্র মাহমুদ হাসান বাবু। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে সাতক্ষীরা শহরের পাকাপুল (ব্রীজের) ফুটপাতে বিভিন্ন ধরনের ফল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। সারা দিন ফল বিক্রি করে যা পাই তা দিয়ে কোন রকমে পরিবারের সদস্যদের মুখে খাবার তুলে দেই। থানা মোড় থেকে লাবনী মোড় পর্যন্ত প্রায় শতাধিক ব্যক্তি ফুটপথে এভাবে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করে আসছে। সম্প্রতি সাতক্ষীরা পৌরসভার পক্ষ থেকে সকল কে উঠে যাওয়ার জন্য বলে। সে নির্দেশ মোতাবেক আমিও ফুটপথে দোকান পাতানো বন্ধ করে দেই। কিন্তু অন্য কেউ দোকান পাতানো বন্ধ করেনি বিধায়। কয়েকদিন পর সকলের দেখাদেখি আমি পুনরায় দোকান পাতানো শুরু করি। গত মঙ্গলবার দুপুরে আমি যখন যোহরের নামাজ পড়তে মসজিদে যায় তখন পৌরসভার কয়েকজন ব্যক্তি সেখানে আমাকে না পেয়ে ফল ও ফল বিক্রির টাকা পয়সা নিয়ে চলে যায়। নামাজ শেষে ফিরে এসে দেখি আমার মালামাল নেই। অথচ পাশেই অনেকেই দোকান পরিচালনা করছে। তাদের কাছে জানতে চাইলে তারা বলে পৌরসভা থেকে এসে তোমার দোকান তুলে নিয়ে গেছে। আমি পৌরসভায় গেলে বর্তমান সিইও বলেন “তোমার মালামাল আমরা এতিম খানায় দিয়ে দিছি। দরখাস্ত করে ছাতা এবং দাড়ীপাল্লাটা নিয়ে যাও।” মালামাল সরকারি কোষাগারে জমা না দিয়ে এতিম এখানায় দিলেন কেন? এ প্রশ্নের কোন উত্তর দেননি পৌরসভা কর্তৃপক্ষ। তিনি বলেন, আমি অসহায় দরিদ্র মানুষ বলেই তো রাস্তার ফুটপাতে বসে ক্ষুদ্র ব্যবসা পরিচালনা করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছি। আমার অপরাধ হয়ে থাকলে জরিমানা করবে, কিন্তু মালামাল তুলে নিয়ে এতিম খানায় দেওয়ার আইন কোথায় পেলো পৌরসভা। এছাড়া ফুটপথে শতাধিক ব্যক্তি ব্যবসা পরিচালনা করলেও তাদের বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেই। আমার উপর পৌরসভার ক্ষোভ কি কারনে। আমার দোকানে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মালামাল ছিল এবং বিক্রির টাকা ছিল ৫ হাজার। এছাড়া প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্রও ছিলো। যদি ফুটপাত থেকে উচ্ছেদ করতেই হয় তাহলে সবাইকে করুন শুধু আমাকে কেন। আমার ফলসহ নগদ টাকা ফেরতের দাবিতে পৌরসভার সিইও’র কাছে ধর্না দিয়েও লাভ হচ্ছে না। তিনি তার ফলসহ টাকা ফেরত পেতে সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আশু হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। এবিষয়ে সাতক্ষীরা পৌরসভার সিইও আসাদুজ্জামান বলেন, শহরের যানজট নিরসের জন্য তাকে বার বার ব্রীজের উপর দোকান না বসানোর জন্য বলা হলেও তিনি শোনেনি। যে কারনে অভিযান পরিচালনা করে জব্দ করা ফল গুলো জরিমানা হিসেবে এতিম খানায় দেওয়া হয়েছে। এছাড়া বাকী মালপত্র আর সেখানে বসবে না এমন শর্তে ফেরত পেতে আবেদন করতে বলা হয়েছে।