ঢাকা ০৭:৫১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬, ৩০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

খালিয়াজুরী খাদ্য গুদামে অনিয়মের অভিযোগ

  • Reporter Name
  • Update Time : ১২:২৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
  • ১৭ Time View
Print

মো: জাকির হোসেন

খালিয়াজুরী উপজেলা প্রতিনিধি নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারী মূল্যে ধান বিক্রিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবী, সরকারী তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রকৃত কৃষক খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ধান বিক্রি করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলার অনেক কৃষক ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যেও যারা কষ্ট করে ধান ঘরে তুলেছেন, তাদের অনেকেই সরকারী নির্ধারিত মূল্যে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য আবেদন ও তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও তাদের ধান গ্রহণ করা হচ্ছে না। অন্যদিকে প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে কিছু ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সুবিধা পাচ্ছেন বলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম নামীয় একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ট্যাগ করে  জানান আমার বাবা খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার ও খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক , তিনি প্রায় ১৪ দশমিক ৪ একর জমিতে ধানের আবাদ করেন। এর মধ্যে প্রায় ৬ একরের ধান ঘরে তুলতে সক্ষম হলেও এখন পর্যন্ত খাদ্য গুদামে এক কেজি ধানও বিক্রি করতে পারেননি। এতে তিনি চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন।
খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক পান্ডব সরকার তার নিজের ফেইসবুক আইডিতে একজন গরীব কৃষকের বস্তা ভর্তি ধান খাদ্য গুদামের সামনে রেখে পোস্ট করে জানান, তিনদিন যাবত ঐ গরীব কৃষক ধান নিয়ে অপেক্ষায়। তিনি জানান, গরীব কৃষকরা খাদ্য গুদামে দিতে হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং একটি সিন্ডিকেটের করা জিম্মি তাছাড়াও খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তাকে ৫ হাজার টাকা দিয়েই নাকি গুদামে ধান দিতে হয়। তিনি আরও জানান, সরকারী ধান চাল ক্রয় কমিটির একজন সদস্য হিসেবে এসব অনিয়মের তীর্ব প্রতিবাদ জানাই।
স্থানীয় কৃষকদের দাবী , উপজেলার হাট-বাজারে ধানের দাম সরকারী  মূল্যের তুলনায় অনেক কম। ফলে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রকৃত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবী  জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী  খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) এস. এম. শারীকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারী  নীতিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তালিকাভুক্ত কৃষকদের পরিবর্তে দালাল চক্র ধান সরবরাহ করছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তালিকাভুক্ত কৃষকের ধান গ্রহণ করছি এবং বিলও সংশ্লিষ্ট কৃষকের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। এখানে কে দালাল আর কে প্রভাবশালী, সেটি মুখ্য বিষয় নয়।”
তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করতে গেলে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। এ বিষয়ে আপনার প্রতিনিধির মাধ্যমে  কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণের ক্ষেত্রে নগদ ৫ হাজার টাকা দাবী করা হয় এবং সেই টাকা পরিশোধ করলেই ধান গুদামে দেওয়ার অনুমতি মিলে আর টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয় এমন প্রশ্নের   জবাবে ওসিএলএসডি এস. এম. শারীকুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমার জানা নেই।” পরে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

খালিয়াজুরী  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, “খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে কোনো অনিয়মের বিষয় আমার জানা নেই। যে সকল কৃষক অনলাইনে আবেদন করেছেন, তাদের প্রায় সবাইকেই ধান সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় অধিকাংশ আবেদনই অনুমোদন পেয়েছে।”
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ অলিদুজ্জামান বলেন, “সরকারীভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো অনিয়মের বিষয় আমার জানা নেই। তবে এ ধরনের অনিয়মের  বিষয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সিলেট সীমান্তে চোরাচালান, মানবপাচার ও মাদক বাণিজ্য নিয়ে প্রশ্ন?

খালিয়াজুরী খাদ্য গুদামে অনিয়মের অভিযোগ

Update Time : ১২:২৪:৩৩ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ জুলাই ২০২৬
Print

মো: জাকির হোসেন

খালিয়াজুরী উপজেলা প্রতিনিধি নেত্রকোণার খালিয়াজুরী উপজেলা খাদ্য গুদামে সরকারী মূল্যে ধান বিক্রিকে কেন্দ্র করে অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় কৃষকদের দাবী, সরকারী তালিকায় নাম থাকা সত্ত্বেও অনেক প্রকৃত কৃষক খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির সুযোগ পাচ্ছেন না। ফলে তারা বাধ্য হয়ে কম দামে স্থানীয় ব্যবসায়ীদের কাছে ধান বিক্রি করছেন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চলতি মৌসুমে অতিবৃষ্টি ও জলাবদ্ধতার কারণে উপজেলার অনেক কৃষক ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। এর মধ্যেও যারা কষ্ট করে ধান ঘরে তুলেছেন, তাদের অনেকেই সরকারী নির্ধারিত মূল্যে খাদ্য গুদামে ধান বিক্রি করতে পারছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে।
একাধিক কৃষক অভিযোগ করে বলেন, খাদ্য গুদামে ধান বিক্রির জন্য আবেদন ও তালিকাভুক্ত হওয়ার পরও তাদের ধান গ্রহণ করা হচ্ছে না। অন্যদিকে প্রকৃত কৃষকদের পরিবর্তে কিছু ব্যবসায়ী বা প্রভাবশালী ব্যক্তিরা সুবিধা পাচ্ছেন বলে জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম নামীয় একজন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্থানীয় সাংসদ ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ট্যাগ করে  জানান আমার বাবা খালিয়াজুরী সদর ইউনিয়নের ৪ নং ওয়ার্ডের বর্তমান মেম্বার ও খালিয়াজুরী উপজেলা বিএনপির সহ-কৃষি বিষয়ক সম্পাদক , তিনি প্রায় ১৪ দশমিক ৪ একর জমিতে ধানের আবাদ করেন। এর মধ্যে প্রায় ৬ একরের ধান ঘরে তুলতে সক্ষম হলেও এখন পর্যন্ত খাদ্য গুদামে এক কেজি ধানও বিক্রি করতে পারেননি। এতে তিনি চরম হতাশার মধ্যে রয়েছেন।
খালিয়াজুরী উপজেলা কৃষকদলের সাধারণ সম্পাদক পান্ডব সরকার তার নিজের ফেইসবুক আইডিতে একজন গরীব কৃষকের বস্তা ভর্তি ধান খাদ্য গুদামের সামনে রেখে পোস্ট করে জানান, তিনদিন যাবত ঐ গরীব কৃষক ধান নিয়ে অপেক্ষায়। তিনি জানান, গরীব কৃষকরা খাদ্য গুদামে দিতে হয়রানির শিকার হচ্ছে এবং একটি সিন্ডিকেটের করা জিম্মি তাছাড়াও খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত খাদ্য কর্মকর্তাকে ৫ হাজার টাকা দিয়েই নাকি গুদামে ধান দিতে হয়। তিনি আরও জানান, সরকারী ধান চাল ক্রয় কমিটির একজন সদস্য হিসেবে এসব অনিয়মের তীর্ব প্রতিবাদ জানাই।
স্থানীয় কৃষকদের দাবী , উপজেলার হাট-বাজারে ধানের দাম সরকারী  মূল্যের তুলনায় অনেক কম। ফলে তারা ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ অবস্থায় খাদ্য গুদামে ধান ক্রয় কার্যক্রমে স্বচ্ছতা নিশ্চিত এবং প্রকৃত কৃষকদের অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবী  জানিয়েছেন তারা।
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী  খাদ্য গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসিএলএসডি) এস. এম. শারীকুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, সরকারী  নীতিমালা অনুযায়ী তালিকাভুক্ত কৃষকদের কাছ থেকেই ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে।
তালিকাভুক্ত কৃষকদের পরিবর্তে দালাল চক্র ধান সরবরাহ করছে—এমন অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আমি তালিকাভুক্ত কৃষকের ধান গ্রহণ করছি এবং বিলও সংশ্লিষ্ট কৃষকের ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে পরিশোধ করা হচ্ছে। এখানে কে দালাল আর কে প্রভাবশালী, সেটি মুখ্য বিষয় নয়।”
তবে স্থানীয় কৃষকদের অভিযোগ, খাদ্য গুদামে ধান সরবরাহ করতে গেলে মধ্যস্বত্বভোগী বা দালালচক্রের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ লেনদেনের চাপ সৃষ্টি করা হয়। এ বিষয়ে আপনার প্রতিনিধির মাধ্যমে  কৃষকদের কাছ থেকে ধান গ্রহণের ক্ষেত্রে নগদ ৫ হাজার টাকা দাবী করা হয় এবং সেই টাকা পরিশোধ করলেই ধান গুদামে দেওয়ার অনুমতি মিলে আর টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে হয়রানি করা হয় এমন প্রশ্নের   জবাবে ওসিএলএসডি এস. এম. শারীকুল ইসলাম বলেন, “এ বিষয়ে আমার জানা নেই।” পরে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।

খালিয়াজুরী  উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ দেলোয়ার হোসেন এ বিষয়ে বলেন, “খাদ্য গুদামে ধান সংগ্রহে কোনো অনিয়মের বিষয় আমার জানা নেই। যে সকল কৃষক অনলাইনে আবেদন করেছেন, তাদের প্রায় সবাইকেই ধান সরবরাহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। আবেদনকারীর সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ায় অধিকাংশ আবেদনই অনুমোদন পেয়েছে।”
এ বিষয়ে খালিয়াজুরী  উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোঃ অলিদুজ্জামান বলেন, “সরকারীভাবে ধান সংগ্রহ কার্যক্রমে কোনো অনিয়মের বিষয় আমার জানা নেই। তবে এ ধরনের অনিয়মের  বিষয়ে লিখিতভাবে অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”