ঢাকা ০৪:২৮ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ২৪ অক্টোবর ২০২৬, ৮ কার্তিক ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নাটোরে বাগাতিপাড়ায় ২৪ ঘণ্টায় শেয়ালের কামড়ে ১১ জন আহত

  • Reporter Name
  • Update Time : ০১:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
  • ৪৫ Time View
Print

মোঃ রান্টু আলী
বাগাতিপাড়ায় উপজেলা প্রতিনিধি :

বাগাতিপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শেয়ালের কামড়ে নারী-পুরুষসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (২২) অক্টোবর পর্যন্ত বাগাতিপাড়া উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটেছে। আহত ব্যক্তিরা বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আহতদের মধ্যে দুজন নারী ও নয়জন পুরুষ রয়েছেন। তারা হলেন, বাগাতিপাড়া পৌরসভার ঘোরলাজ গ্রামের সামছুলের ছেলে স্বাধীন (২৭), মসলেম আলীর ছেলে আসলাম (৪৭), নওশেরা গ্রামের মৃত মতিউর রহমান খান লালার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান খান মিঠু (৫০), বারইপাড়াগ্রামের লাটু সরকারের ছেলে মাইনুল (৫০), সোনাপাতিল গ্রামের মৃত ইয়াসিন সরকারের ছেলে আকরামুল সরকার ঝড়ু (৫২), মৃত নিজাম আলীর মেয়ে নাজনিন আক্তার (৪২) ও চেরান আলীর শাশুড়ী রিজিয়া বেগম (৫০), পেড়াবাড়িয়া (পূর্ব সোনাপাতিল) গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে ইমরান হোসেন (৪২), এছাড়া উত্তর মুরাদপুর গ্রামের মোছাঃ পলি খাতুন (১৮) নামের এক কিশোরী। এছাড়াও আক্তার (৬২) নামে এক ব্যক্তি ও ১৮ বছরের বাধন নামের এক কিশোর রয়েছেন। যাদের ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

আহত ইমরান জানান, তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৬ ঘটিকার দিকে বাসা থেকে দোকানে কিছু কেনার উদ্দেশ্যে মালঞ্চি রেলস্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় স্টেশনের পার্শ্বে ইক্ষু কয় কেন্দ্র (সেন্টার) এলাকায় তার পিছন থেকে হঠাৎ করে একটি শিয়াল পায়ে কামড় দেয়। এ সময় পা ঝাটকা দিলে শিয়াল তার প্যান্টের কিছু অংশ ছিরে নিয়ে যায়।

কিশোরী পলি খাতুন জানান, সন্ধ্যার দিকে তিনি বাগাতিপাড়া হাসপাতাল থেকে মাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বাগাতিপাড়া উপজেলা চত্বরে শেয়ালের কামড়ের শিকার হন।

নওশেরা গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান খান মিঠু বলেন, তিনি নিজ বাড়ি থেকে বিহারকোল বাজারে যাওয়ার পথে তার পায়ে শিয়াল আক্রমণ করে।

বাগাতিপাড়া উপজেলা ঘোরলাজ গ্রামের স্বাধীন জানান, তিনি গ্রামের রাস্তায় হাঁটছিলেন হঠাৎ তার পিছিনে কিছু একটা আছে মনে করে পেছনে তাকাতেই তার পেটের ডান দিকে শিয়াল কামড় দেয়। এ সময় তার চিৎকারে গ্রামের স্থানীয়রা এগিয়ে এলে শিয়ালটি পালিয়ে যায়।
এছাড়া বাগাতিপাড়া উপজেলার সোনাপাতিল এলাকার আকরামুল সরকার ঝড়ু, রিজিয়া বেগম ও বারইপাড়া গ্রামের মাইনুলকে তাদের বাড়ির সামনে সড়কে শিয়াল আক্রমণ করে।

বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামুন আল হাসান সৌমিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে শেয়ালের কামড়ে আহত প্রথম রোগী হাসপাতালে আসেন। এরপর একে একে আরও আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে আসছেন। প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোট ১১ জন শেয়ালের কামড়ে আহত হয়ে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
তিনি আরও জানান, এখানে চিকিৎসা নিতে আসা প্রত্যেককেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শেয়ালের কামড়ের শিকার ব্যক্তিদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. শামুন আল হাসান সৌমিক। একই সঙ্গে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

সংবাদ সংগ্রহ করতে গিয়ে গ্রেপ্তার, ১৭ দিন কারাভোগের অভিযোগ সাংবাদিক মোঃ জয় সরকারের

নাটোরে বাগাতিপাড়ায় ২৪ ঘণ্টায় শেয়ালের কামড়ে ১১ জন আহত

Update Time : ০১:০৫:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর ২০২৬
Print

মোঃ রান্টু আলী
বাগাতিপাড়ায় উপজেলা প্রতিনিধি :

বাগাতিপাড়া উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় সন্ধ্যার পর প্রায় ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে শেয়ালের কামড়ে নারী-পুরুষসহ ১১ জন আহত হয়েছেন। গত বুধবার সন্ধ্যা থেকে বৃহস্পতিবার (২২) অক্টোবর পর্যন্ত বাগাতিপাড়া উপজেলায় বিভিন্ন এলাকায় এসব ঘটনা ঘটেছে। আহত ব্যক্তিরা বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

আহতদের মধ্যে দুজন নারী ও নয়জন পুরুষ রয়েছেন। তারা হলেন, বাগাতিপাড়া পৌরসভার ঘোরলাজ গ্রামের সামছুলের ছেলে স্বাধীন (২৭), মসলেম আলীর ছেলে আসলাম (৪৭), নওশেরা গ্রামের মৃত মতিউর রহমান খান লালার ছেলে মোস্তাফিজুর রহমান খান মিঠু (৫০), বারইপাড়াগ্রামের লাটু সরকারের ছেলে মাইনুল (৫০), সোনাপাতিল গ্রামের মৃত ইয়াসিন সরকারের ছেলে আকরামুল সরকার ঝড়ু (৫২), মৃত নিজাম আলীর মেয়ে নাজনিন আক্তার (৪২) ও চেরান আলীর শাশুড়ী রিজিয়া বেগম (৫০), পেড়াবাড়িয়া (পূর্ব সোনাপাতিল) গ্রামের মৃত আবেদ আলীর ছেলে ইমরান হোসেন (৪২), এছাড়া উত্তর মুরাদপুর গ্রামের মোছাঃ পলি খাতুন (১৮) নামের এক কিশোরী। এছাড়াও আক্তার (৬২) নামে এক ব্যক্তি ও ১৮ বছরের বাধন নামের এক কিশোর রয়েছেন। যাদের ঠিকানা পাওয়া যায়নি।

আহত ইমরান জানান, তিনি সন্ধ্যা সাড়ে ৬ ঘটিকার দিকে বাসা থেকে দোকানে কিছু কেনার উদ্দেশ্যে মালঞ্চি রেলস্টেশনের দিকে যাওয়ার সময় স্টেশনের পার্শ্বে ইক্ষু কয় কেন্দ্র (সেন্টার) এলাকায় তার পিছন থেকে হঠাৎ করে একটি শিয়াল পায়ে কামড় দেয়। এ সময় পা ঝাটকা দিলে শিয়াল তার প্যান্টের কিছু অংশ ছিরে নিয়ে যায়।

কিশোরী পলি খাতুন জানান, সন্ধ্যার দিকে তিনি বাগাতিপাড়া হাসপাতাল থেকে মাকে নিয়ে বাড়ি ফেরার সময় বাগাতিপাড়া উপজেলা চত্বরে শেয়ালের কামড়ের শিকার হন।

নওশেরা গ্রামের মোস্তাফিজুর রহমান খান মিঠু বলেন, তিনি নিজ বাড়ি থেকে বিহারকোল বাজারে যাওয়ার পথে তার পায়ে শিয়াল আক্রমণ করে।

বাগাতিপাড়া উপজেলা ঘোরলাজ গ্রামের স্বাধীন জানান, তিনি গ্রামের রাস্তায় হাঁটছিলেন হঠাৎ তার পিছিনে কিছু একটা আছে মনে করে পেছনে তাকাতেই তার পেটের ডান দিকে শিয়াল কামড় দেয়। এ সময় তার চিৎকারে গ্রামের স্থানীয়রা এগিয়ে এলে শিয়ালটি পালিয়ে যায়।
এছাড়া বাগাতিপাড়া উপজেলার সোনাপাতিল এলাকার আকরামুল সরকার ঝড়ু, রিজিয়া বেগম ও বারইপাড়া গ্রামের মাইনুলকে তাদের বাড়ির সামনে সড়কে শিয়াল আক্রমণ করে।

বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. শামুন আল হাসান সৌমিক সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বুধবার সন্ধ্যা ৬টা ২৫ মিনিটে শেয়ালের কামড়ে আহত প্রথম রোগী হাসপাতালে আসেন। এরপর একে একে আরও আহত ব্যক্তি চিকিৎসা নিতে আসছেন। প্রায় ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মোট ১১ জন শেয়ালের কামড়ে আহত হয়ে উপজেলা হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
তিনি আরও জানান, এখানে চিকিৎসা নিতে আসা প্রত্যেককেই জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়া হয়েছে। বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পর্যাপ্ত পরিমাণে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা মজুত রয়েছে বলেও জানান তিনি।
শেয়ালের কামড়ের শিকার ব্যক্তিদের আতঙ্কিত না হয়ে দ্রুত ক্ষতস্থান সাবান ও প্রবাহমান পানি দিয়ে অন্তত ১৫ মিনিট ভালোভাবে ধুয়ে ফেলার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. শামুন আল হাসান সৌমিক। একই সঙ্গে দ্রুত হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।