ঢাকা ০৯:৩২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ৬ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

৭ দফা দাবিতে শরীয়তপুরে দলিল লেখকদের সমাবেশ।

  • Reporter Name
  • Update Time : ০৭:২৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ২২ Time View
Print

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, দলিলপ্রতি ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কাউকে দলিল মুসাবিদা ও রেজিস্ট্রেশনের কাজে যুক্ত না করা এবং দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতিসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে শরীয়তপুরে জেলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, শরীয়তপুর জেলা শাখার উদ্যোগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা এতে অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, জমি-জমা ও সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিল প্রস্তুত ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে দলিল লেখকরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রয়োজন হলেও এর ফলে যাতে দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তাঁরা দাবি করেন। প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ, শরীয়তপুরের প্রশাসক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দীন কালু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার এবং শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বি এম মকবুল হোসেন। শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো. নূরুল হক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন জেলা দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বেপারী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শরীয়তপুর সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. সাগির হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর সদর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মফিদুল ইসলাম পাহাড়সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ। সাত দফা দাবিতে যা বললেন দলিল লেখকরা সমাবেশে দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো— প্রথমত, দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি দলিলের জন্য দলিল লেখকদের ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন করতে হবে। তৃতীয়ত, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কেউ দলিল মুসাবিদা করতে পারবেন না এবং দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিল করতে পারবেন না—এ মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। চতুর্থত, থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না—এ মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। পঞ্চমত, থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার স্থান ও নামাজের স্থান নির্মাণ করে দিতে হবে। ষষ্ঠত, পক্ষগণের সরবরাহকৃত কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয়। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে দলিল লেখক বা মুসাবিদাকারক হিসেবে দলিল লেখকদের আসামি করা যাবে না। সপ্তমত, দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দিতে হবে। পেশাগত নিরাপত্তার দাবি সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন দলিল লেখক পক্ষগণের দেওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল প্রস্তুত করেন। ফলে কোনো দলিলে তথ্যগত বা অন্য কোনো জটিলতা দেখা দিলে তার দায়ভার নির্ধারণের ক্ষেত্রে দলিল লেখকদের পেশাগত ভূমিকা বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁরা আরও বলেন, দলিল লেখকদের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার সংস্কার করা হলে একদিকে যেমন সেবাগ্রহীতারা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানও সুরক্ষিত থাকবে। দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান বক্তারা সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দলিল লেখকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার অনুরোধ করেন। সমাবেশে শরীয়তপুর জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। তাঁরা সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ও উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানান। স্থান: উপজেলা পরিষদ হলরুম, শরীয়তপুর সদর, শরীয়তপুর। তারিখ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. আয়োজনে: বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, শরীয়তপুর জে

Tag :
About Author Information

জনপ্রিয় সংবাদ

২৮ কেজি গাঁজা উদ্ধার, প্রাইভেটকারসহ ১ মাদক কারবারী গ্রেফতার।

৭ দফা দাবিতে শরীয়তপুরে দলিল লেখকদের সমাবেশ।

Update Time : ০৭:২৮:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Print

শরীয়তপুর প্রতিনিধি: দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত না করা, দলিলপ্রতি ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কাউকে দলিল মুসাবিদা ও রেজিস্ট্রেশনের কাজে যুক্ত না করা এবং দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতিসহ সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের দাবিতে শরীয়তপুরে জেলা সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে। বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, শরীয়তপুর জেলা শাখার উদ্যোগে শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) শরীয়তপুর সদর উপজেলা পরিষদ হলরুমে এ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। জেলার বিভিন্ন উপজেলা থেকে দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ ও সদস্যরা এতে অংশ নেন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, জমি-জমা ও সম্পত্তি হস্তান্তরের দলিল প্রস্তুত ও রেজিস্ট্রেশন কার্যক্রমে দলিল লেখকরা দীর্ঘদিন ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন। রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার আধুনিকায়ন প্রয়োজন হলেও এর ফলে যাতে দলিল লেখকদের পেশাগত অধিকার ও জীবিকার ওপর নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা প্রয়োজন বলে তাঁরা দাবি করেন। প্রধান অতিথি জেলা পরিষদ প্রশাসক সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদ, শরীয়তপুরের প্রশাসক সরদার এ কে এম নাসির উদ্দীন কালু। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর প্রেসক্লাবের সভাপতি আবুল হোসেন সরদার এবং শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক বি এম মকবুল হোসেন। শরীয়তপুর জেলা দলিল লেখক সমিতির সভাপতি আলহাজ্ব মো. নূরুল হক মিয়ার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সমাবেশটি সঞ্চালনা করেন জেলা দলিল লেখক সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল কুদ্দুস বেপারী। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন শরীয়তপুর সদর দলিল লেখক সমিতির সভাপতি মো. সাগির হোসেন। এ সময় উপস্থিত ছিলেন শরীয়তপুর সদর দলিল লেখক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মফিদুল ইসলাম পাহাড়সহ জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ। সাত দফা দাবিতে যা বললেন দলিল লেখকরা সমাবেশে দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ সাত দফা দাবি তুলে ধরেন। দাবিগুলো হলো— প্রথমত, দলিল রেজিস্ট্রেশন পদ্ধতি আধুনিকায়নের নামে দলিল লেখকদের পেশাচ্যুত করা যাবে না। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি দলিলের জন্য দলিল লেখকদের ন্যূনতম ৫ হাজার টাকা সম্মানী ভাতা বাস্তবায়ন করতে হবে। তৃতীয়ত, লাইসেন্সপ্রাপ্ত দলিল লেখক ছাড়া অন্য কেউ দলিল মুসাবিদা করতে পারবেন না এবং দলিল রেজিস্ট্রেশনের জন্য দাখিল করতে পারবেন না—এ মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। চতুর্থত, থানা, জেলা ও কেন্দ্রীয় কমিটির সুপারিশ ছাড়া অনভিজ্ঞ ব্যক্তিদের দলিল লেখার লাইসেন্স প্রদান করা যাবে না—এ মর্মে প্রজ্ঞাপন জারি করতে হবে। পঞ্চমত, থানা ও জেলা কার্যালয়ে সরকারি খরচে দলিল লেখকদের বসার স্থান ও নামাজের স্থান নির্মাণ করে দিতে হবে। ষষ্ঠত, পক্ষগণের সরবরাহকৃত কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল লেখা হয়। তাই পেশাগত দায়িত্ব পালনের কারণে দলিল লেখক বা মুসাবিদাকারক হিসেবে দলিল লেখকদের আসামি করা যাবে না। সপ্তমত, দলিল লেখক কাউন্সিল গঠনের অনুমতি দিতে হবে। পেশাগত নিরাপত্তার দাবি সমাবেশে বক্তারা বলেন, একজন দলিল লেখক পক্ষগণের দেওয়া প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের ভিত্তিতে দলিল প্রস্তুত করেন। ফলে কোনো দলিলে তথ্যগত বা অন্য কোনো জটিলতা দেখা দিলে তার দায়ভার নির্ধারণের ক্ষেত্রে দলিল লেখকদের পেশাগত ভূমিকা বিবেচনা করা প্রয়োজন। তাঁরা আরও বলেন, দলিল লেখকদের পেশাগত দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নিয়ে রেজিস্ট্রেশন ব্যবস্থার সংস্কার করা হলে একদিকে যেমন সেবাগ্রহীতারা উপকৃত হবেন, অন্যদিকে দীর্ঘদিনের এই পেশার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানও সুরক্ষিত থাকবে। দ্রুত দাবি বাস্তবায়নের আহ্বান বক্তারা সাত দফা দাবি বাস্তবায়নের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে দলিল লেখকদের পেশাগত মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার অনুরোধ করেন। সমাবেশে শরীয়তপুর জেলা ও বিভিন্ন উপজেলার দলিল লেখক সমিতির নেতৃবৃন্দ বক্তব্য দেন। তাঁরা সাত দফা দাবি বাস্তবায়নে সংগঠনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় কর্মসূচি ও উদ্যোগ অব্যাহত রাখার কথা জানান। স্থান: উপজেলা পরিষদ হলরুম, শরীয়তপুর সদর, শরীয়তপুর। তারিখ: ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ খ্রি. আয়োজনে: বাংলাদেশ দলিল লেখক সমিতি, শরীয়তপুর জে