
স্টাফ রিপোর্টার: মনিরুল ইসলাম
শিশু-কিশোরদের নির্মল বিনোদনের উদ্দেশ্যে নেত্রকোনার বারহাট্টা উপজেলার আলোকদিয়া গ্রামে প্রতিষ্ঠিত “ডিজনি চিলড্রেন পার্ক” এখন স্থানীয়দের অভিযোগে পরিণত হয়েছে অনৈতিক কর্মকাণ্ড ও অসামাজিক কার্যকলাপের কেন্দ্রস্থলে। ‘চিলড্রেন পার্ক’ নাম থাকলেও সেখানে শিশু ও পরিবার-পরিজনের উপস্থিতি খুবই কম; বরং পার্কটিকে ঘিরে দীর্ঘদিন ধরে নানা অভিযোগ উঠে আসছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রতিদিন মোটা অঙ্কের টাকার বিনিময়ে পার্কের ভেতরে প্রকাশ্যে নানা অনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে। তাদের অভিযোগ, পার্কের নির্জন পরিবেশকে কাজে লাগিয়ে একে অসামাজিক কার্যকলাপের নিরাপদ আশ্রয়ে পরিণত করা হয়েছে। এ কারণে এলাকায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ ক্রমেই বাড়ছে।
এসব অভিযোগের প্রতিবাদে কিছুদিন আগে সচেতন এলাকাবাসী জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন। বিষয়টি গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিলে প্রশাসনের চাপের মুখে পার্কটি সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করা হয়। তবে সেই বন্ধ বেশিদিন স্থায়ী হয়নি। স্থানীয়দের অভিযোগ, কিছুদিনের মধ্যেই পার্কটি পুনরায় চালু করা হয় এবং আগের মতোই কার্যক্রম চলতে থাকে।
এলাকাবাসীর আরও দাবি, পার্ক কর্তৃপক্ষ এই বিতর্কিত কার্যক্রমকে কেন্দ্র করে আর্থিকভাবে লাভবান হওয়ার চেষ্টা করছে। এমনকি ভবিষ্যতে এ ধরনের কার্যক্রম আরও বিস্তৃত করতে পার্কের অবকাঠামো সম্প্রসারণের পরিকল্পনাও রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই করতে সরেজমিনে পার্কে যান কয়েকজন সাংবাদিক। এ সময় পার্কের মালিক সালাম সিকদারের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা সাইফুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, “সারাদিনে এখানে ১০ থেকে ১৫ জন ছেলে-মেয়ে আসে। পরিবার-পরিজনের উপস্থিতি তেমন নেই। পার্কে উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রমও নেই।”
অনুসন্ধানের একপর্যায়ে পার্কের রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্বে থাকা এক ব্যক্তি সাংবাদিকদের অনৈতিকভাবে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাব দেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সাংবাদিকদের দাবি, সংবাদ প্রকাশ না করার বিনিময়ে অর্থের প্রস্তাব দেওয়া হয়। এই অভিযোগ নতুন করে পুরো ঘটনাকে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে এবং পার্ক কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়ে জনমনে আরও সন্দেহের সৃষ্টি করেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক অভিভাবক ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “নাম ‘চিলড্রেন পার্ক’ হলেও এখানে শিশুদের জন্য কোনো সুস্থ পরিবেশ নেই। এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে যে, নিজের সন্তানকে নিয়ে এর আশপাশেও যাওয়া নিরাপদ মনে করি না। এটি আমাদের সমাজ ও সংস্কৃতির জন্য অত্যন্ত উদ্বেগজনক ও লজ্জাজনক।”
এলাকাবাসী অবিলম্বে জেলা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে পার্কটিতে চলমান অভিযোগকৃত অনৈতিক কর্মকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্ত, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং স্থায়ীভাবে এসব কার্যক্রম বন্ধের দাবি জানিয়েছেন।
উল্লেখ্য, প্রতিবেদনে উত্থাপিত অভিযোগগুলো স্থানীয় বাসিন্দা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্যের ভিত্তিতে উপস্থাপন করা হয়েছে। অভিযোগের বিষয়ে পার্ক কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে তা পরবর্তীতে প্রকাশ করা হবে।
Reporter Name 

















