
মোঃ ইমন রিপোর্টার এ ঘটনায় আপন ছোট ভাই মো. আলমগীর ওরফে অ্যাপোলোর বিরুদ্ধে জমি দখল, ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকির অভিযোগ এনে প্রশাসনের দ্বারস্থ হয়েছেন আলহাজ্ব মো. মুকুল আমিন। মুকুল আমিনের অভিযোগ, তাদের পিতা প্রয়াত আলহাজ্ব আব্দুল মালেকের রেখে যাওয়া সম্পত্তির অংশ হিসেবে তিনি ওই জমির বৈধ অংশীদার। জমি-সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র তার কাছে রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। তবে দীর্ঘদিন ধরে প্রভাব খাটিয়ে তাকে জমি থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ তার। তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার ভাই আলমগীর ওরফে অ্যাপোলোর সঙ্গে থাকা কয়েকজন ব্যক্তি—আব্দুস সালাম, আরিফ, রুহুল আমিন, আব্দুল আলিম ও আতিকসহ আরও কয়েকজন—বিভিন্ন সময় তাকে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন। তাদের সহযোগিতায় জমিটি দখলে রাখা হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি। জমিটি ঘিরে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যেও নানা অভিযোগ রয়েছে। কয়েকজন প্রতিবেশীর অভিযোগ, রাতের বেলায় সেখানে বিভিন্ন ধরনের কথিত অনৈতিক কর্মকাণ্ড চলে। এলাকায় মাদক বা ইয়াবাসহ কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড হচ্ছে কি না, তা তদন্ত করে দেখার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বা স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। মুকুল আমিনের দাবি, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে অ্যাপোলো স্থানীয় আওয়ামী লীগের একটি পদে ছিলেন এবং রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে জমিটি দখলের চেষ্টা করেছেন। তিনি আরও দাবি করেন, ৫ আগস্টের ঘটনাকে কেন্দ্র করে তার ভাইয়ের বিরুদ্ধে নানা অভিযোগ রয়েছে এবং গত ৭ আগস্ট তিনি দেশ ছেড়ে চলে গেছেন। তবে এসব দাবির স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। জমি নিয়ে বিরোধের ঘটনায় থানায় অভিযোগ করেছেন বলেও জানান মুকুল আমিন। তার দাবি, একাধিকবার প্রশাসনের কাছে অভিযোগ করেও তিনি কার্যকর প্রতিকার পাননি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জমিতে কাজ বন্ধ রাখার বিষয়ে নির্দেশনা দেওয়া হলেও তা মানা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করতে সংবাদকর্মীরা সরেজমিনে ঘটনাস্থলে গেলে তাদের বাধা দেওয়ার অভিযোগ ওঠে। এ সময় দায়িত্বে থাকা একজন ব্যক্তিকে ফোন করা হলে তিনি সংবাদকর্মীদের সেখানে প্রবেশের বিষয়ে আপত্তি জানান। কর্মচারীদের সঙ্গে অশালীন ভাষায় কথাবার্তা বলা হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। এ ঘটনার কথোপকথন সংবাদকর্মীরা রেকর্ড করেছেন বলে জানা গেছে। সরেজমিনে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি ও স্থানীয় বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলেও জমি দখল এবং রাতের বেলায় কথিত কর্মকাণ্ড নিয়ে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তদন্ত এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রকৃত ঘটনা আরও স্পষ্ট হবে। মুকুল আমিন বলেন, “আমার জমির কাগজপত্র সঠিক থাকা সত্ত্বেও আমি আইনগত সহযোগিতা পাচ্ছি না। আমি চাই, প্রশাসন নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত মালিকানা ও দখলের বিষয়টি নির্ধারণ করুক।” অভিযোগের বিষয়ে মো. আলমগীর ওরফে অ্যাপোলোর বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা গুরুত্বসহকারে পরবর্তী প্রতিবেদনে প্রকাশ করা হবে। এ ঘটনায় স্থানীয়দের দাবি, জমির মালিকানা ও দখল-সংক্রান্ত কাগজপত্র যাচাই করে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিরোধের নিষ্পত্তি করা হোক। পাশাপাশি সেখানে মাদক বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
Reporter Name 

















