
খন্দকার জলিল, জেলা প্রধান, পটুয়াখালী:
পটুয়াখালীর গলাচিপা পৌরসভার পাকা রাস্তা থেকে মাত্র কয়েক কদম দূরেই মূল বাড়িটি। কিন্তু সামান্য একটু বৃষ্টির পরই সেই কয়েক কদম পথ পাড়ি দেওয়া যেন এক অগ্নিপরীক্ষা। সামান্য একটু কাঁচা রাস্তার কারণে বছরের পর বছর ধরে থমকে আছে পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের সিনেমা হলের পশ্চিম পাশের হাজী বাড়ির শত শত মানুষের জীবনযাত্রা।
ভুক্তভোগী এক নারী ক্ষোভ ও কান্নাভেজা কণ্ঠে বলেন, “আমরা আর কত বছর এই যন্ত্রণা ভোগ করমু? সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আমাগো এই রাস্তাটুকু একটু ঠিক কইরা দ্যান।” এই আকুতি কেবল তার একার নয়, বরং ওই বাড়ির প্রতিটি বাসিন্দার।
সরেজমিনে জানা গেছে, হাজী বাড়িটিতে অনেকগুলো ঘর রয়েছে, যেখানে বসবাস করেন শত শত মানুষ। প্রতিদিন কর্মজীবী মানুষ, নারী, শিশু ও বৃদ্ধদের এই পথ দিয়েই যাতায়াত করতে হয়। কিন্তু সামান্য বৃষ্টি হলেই পুরো রাস্তাটি নোংরা ও কাদা-পানিতে তলিয়ে যায়। চরম ঝুঁকিপূর্ণ এই রাস্তায় চলতে গিয়ে প্রায়ই পা পিছলে পড়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটে। সবচেয়ে আতঙ্কের বিষয় হলো, রাস্তার ঠিক পাশেই রয়েছে একটি গভীর পুকুর। অসাবধানতাবশত কেউ পা পিছলে ওই পুকুরে পড়ে গেলে যেকোনো মুহূর্তে বড় ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে।
সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছে স্কুলপড়ুয়া কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। কাদা-পানি মাড়িয়ে নোংরা রাস্তা পার হতে গিয়ে প্রতিদিন তাদের স্কুল ড্রেস নষ্ট হচ্ছে। বাধ্য হয়েই অনেক শিক্ষার্থীকে জুতো হাতে নিয়ে, প্যান্ট-জামা গুটিয়ে অত্যন্ত নোংরা পরিবেশ পার হয়ে স্কুলে যেতে হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা, অন্যদিকে শিশুরা আক্রান্ত হচ্ছে বিভিন্ন চর্মরোগে।
দীর্ঘদিনের এই পুঞ্জীভূত দুর্ভোগ থেকে মুক্তি পেতে এবং যেকোনো বড় দুর্ঘটনা এড়াতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন হাজী বাড়ির বাসিন্দারা। সামান্য এই কাঁচা রাস্তাটুকু দ্রুত সংস্কার বা পাকা করার জোর দাবি জানিয়েছেন তারা।
Reporter Name 



















